
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পর্যটন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের জন্য অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করেছে: শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত
অভূতপূর্ব বাজেট সহায়তায় ভারত বিশ্বব্যাপী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে

Published on: ফেব্রু ১, ২০২৬ at ২১:২৬
এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে পর্যটন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে অভিহিত করলেন কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এক বার্তায় তিনি জানান, এই বাজেট প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি উৎসাহ জোগাবে এবং ভারতের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করবে।
মন্ত্রী এই বাজেটকে ‘দূরদর্শী ও যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভারত একটি বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের আসনে দৃঢ়ভাবে অধিষ্ঠিত হবে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই পর্যটনের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতি আনার জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
এই বাজেটে পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে।
বাজেটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন বিষয়ভিত্তিক পর্যটন পথ গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- পর্বত পর্যটন পথ: হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর
- প্রকৃতি ও পরিবেশ পর্যটন পথ: আরাকু উপত্যকা (পূর্বঘাট) ও পোডিগাই মালাই (পশ্চিমঘাট)
- কচ্ছপ সংরক্ষণ ও পর্যটন পথ: ওড়িশা, কর্ণাটক ও কেরালার প্রধান ডিম পাড়ার স্থান
- পাখি পর্যবেক্ষণ পথ: অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর পুলিকট হ্রদ
এই পথগুলো পাহাড়, উপকূল, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠবে, যা পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনকে নতুন মাত্রা দেবে।
একটি বড় সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে লোথাল, ধোলাভিরা, রাখিগড়ি, আদিচানাল্লুর, সারনাথ, হস্তিনাপুর ও লেহ প্যালেস-সহ মোট ১৫টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে সংরক্ষণ ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রাণবন্ত, অভিজ্ঞতাভিত্তিক ঐতিহ্য গন্তব্যে রূপান্তরিত করা হবে।
উত্তর-পূর্বে বৌদ্ধ সার্কিটে নতুন গতি
আধ্যাত্মিক পর্যটনকে শক্তিশালী করতে উত্তর-পূর্ব ভারতের বৌদ্ধ সার্কিটগুলোর জন্য একটি নতুন প্রকল্প চালু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পে অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মন্দির ও মঠ সংরক্ষণ, তীর্থযাত্রা ব্যাখ্যা কেন্দ্র স্থাপন, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা এবং তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বড় উদ্যোগ
পর্যটন ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে আইআইএম-এর সহযোগিতায় একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে দেশের ২০টি প্রধান গন্তব্যের ১০,০০০ ট্যুর গাইডকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, আতিথেয়তা শিক্ষায় বড় সংস্কারের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর হোটেল ম্যানেজমেন্টকে রূপান্তরিত করা হবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি-তে, যা পেশাদার প্রশিক্ষণকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
বিশেষায়িত পর্যটনে ভারতের নেতৃত্ব
ভারতকে একটি বৈশ্বিক মেডিকেল ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিকেল ট্যুরিজম কেন্দ্র স্থাপনে রাজ্যগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভারত প্রথমবারের মতো গ্লোবাল বিগ ক্যাট সামিট আয়োজন করবে, যেখানে ৯৫টি দেশের নেতা ও মন্ত্রীরা অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ-পর্যটন কূটনীতিতে ভারতের নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
পূর্বোদয় রাজ্যে পর্যটনের বিস্তার
সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পূর্বোদয় রাজ্যগুলোতে পাঁচটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
শ্রী শেখাওয়াত জানান, এই সমস্ত উদ্যোগ একদিকে যেমন বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, তেমনই টেকসই পর্যটন চর্চাকে উৎসাহিত করবে, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং ভারতের প্রাচীন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সম্পৃক্ততাকে আরও গভীর করবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট ভারতের পর্যটন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রকে এক নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—যেখানে উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও টেকসই ভাবনার এক যুগান্তকারী সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।
Published on: ফেব্রু ১, ২০২৬ at ২১:২৬



