ঝুলনযাত্রায় মায়াপুরে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের উৎসব

দেশ ধর্ম ভ্রমণ
শেয়ার করুন

Published on: আগ ১৮, ২০২৬ at ১২:৫১

এসপিটি নিউজ, মায়াপুর, ১৮ আগস্ট: রাধা-কৃষ্ণের দিব্য প্রেম ও ভক্তির আবহে আগামী ২৩ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ইসকনের প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুর-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শাখা কেন্দ্রে পালিত হবে ছয় দিনব্যাপী ঝুলনযাত্রা উৎসব। একই সঙ্গে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হবে ৪২তম ঝুলন ও রাধাষ্টমী উৎসব।

মায়াপুরে উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বিকেল ৫টা থেকে চন্দ্রোদয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শ্রীশ্রী রাধামাধবের বর্ণাঢ্য সংকীর্তন শোভাযাত্রা বের হবে। ঝুলন মণ্ডপে রাধামাধবকে নিয়ে যাওয়া হবে এই শোভাযাত্রায়। রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে ভোগ-রাগ, সন্ধ্যা আরতি, কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দীপদান, হিল্লোল ক্রীড়া এবং বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণের মতো নানা আয়োজন।

ইসকন সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী এই ঝুলনযাত্রা উৎসবে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উৎসব উপলক্ষে মায়াপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করেই দ্বাপর যুগে ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল বলে বৈষ্ণব পরম্পরায় বিশ্বাস। পুরাণ অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে ঈশ্বরের অবতার হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। বৃন্দাবনে কৃষ্ণ ও রাধারানীর যে মাধুর্য ও প্রেমের প্রকাশ ঘটেছিল, তারই লীলাস্মরণে পালিত হয় ঝুলনযাত্রা।

রাধা-কৃষ্ণের কুঞ্জবনে বিশুদ্ধ প্রেমের আদান-প্রদানের সেই লীলাই পরবর্তী সময়ে ঝুলনযাত্রার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তবে বর্তমান সময়ে এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে এর রূপ বদলেছে, যুক্ত হয়েছে নান্দনিকতা, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং সর্বজনীন মিলনের আবহ।

মায়াপুরের ঝুলন মঞ্চকে ঘিরে প্রতিবছরই তৈরি হয় বিশেষ আকর্ষণ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজে ঘেরা পরিবেশ, ফুল-ফলে সজ্জিত বনরাজি এবং আলোকসজ্জার সমন্বয়ে মণ্ডপ হয়ে ওঠে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। কৃত্রিম ফোয়ারা ও নানা সাজসজ্জা উৎসবের পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলে।

ঝুলনযাত্রা তাই শুধু রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের উৎসব নয়; এটি ভক্তি, মিলন, পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার সম্পর্ক এবং মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক প্রতীকী উদযাপন। রাধা-কৃষ্ণের ঝুলনদর্শনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভের পাশাপাশি উৎসবের আনন্দেও সামিল হন।

ইসকনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, মায়াপুরের এই বিশেষ উৎসবে দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক ভক্ত, পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে। ঝুলন ও রাধাষ্টমী উৎসবের মাধ্যমে ভক্তি, প্রেম, মৈত্রী ও ভালোবাসার বার্তা আরও বিস্তৃত হোক—এই প্রার্থনাই থাকবে উৎসবের মূল সুরে।

উল্লেখ্য, ২৮ আগস্ট, শুক্রবার বিশেষভাবে বলরাম জয়ন্তী পালন করা হবে।

Published on: আগ ১৮, ২০২৬ at ১২:৫১


শেয়ার করুন