
মঙ্গলযাত্রার রোমাঞ্চ নিয়ে শুরু ফুলডোম 3D চলচ্চিত্র “ওয়ান স্টেপ বিয়ন্ড: আ জার্নি টু মার্স”

Published on: মার্চ ১২, ২০২৬ at ২২:৪৩
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১২ মার্চ: কলকাতার সায়েন্স সিটিতে মহাকাশ অনুসন্ধানের এক নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা হল। বৃহস্পতিবার সেখানে ভারতের প্রথম থ্রিডি ফুলডোম ডিজিটাল থিয়েটারে উদ্বোধন করা হল নতুন ফুলডোম 3D চলচ্চিত্র “ওয়ান স্টেপ বিয়ন্ড: আ জার্নি টু মার্স”। বাংলায় যার অর্থ- “এক ধাপ এগিয়ে-মঙ্গল গ্রহে যাত্রা””। এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে এক রোমাঞ্চকর মহাকাশ অভিযানে নিয়ে যাবে, যেখানে মানবজাতির পরবর্তী বৃহৎ লক্ষ্য—মঙ্গল গ্রহ—অন্বেষণের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
এই চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির পাসাডেনার ভিজিটিং প্রফেসর এবং নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির সিনিয়র বিজ্ঞানী ডঃ গৌতম চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়াম (এনসিএসএম)-এর মহাপরিচালক এ. ডি. চৌধুরী, ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল কে. এস. মুরালি, সায়েন্স সিটি কলকাতার পরিচালক প্রমোদ গ্রোভার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।
চলচ্চিত্রটিতে মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার এক বিস্ময়কর যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। চাঁদে প্রথম মানুষের পদচিহ্নের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ছবিটি মানব কৌতূহল, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প বলে। রকেট উৎক্ষেপণের উত্তেজনা, মহাকাশে বসবাসের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিও এতে ফুটে উঠেছে।
ছবির আখ্যান বিশেষভাবে তুলে ধরে নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রাম–এর সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং পৃথিবীর বাইরে জীবনের সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়ার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা। অত্যাধুনিক ভিজ্যুয়াল, নিমগ্ন গল্প বলা এবং শক্তিশালী সিনেমাটিক উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই প্রযোজনা। একই সঙ্গে এটি মানুষকে ভাবতে উৎসাহিত করে—আমাদের উৎপত্তি কোথায়, এবং মহাবিশ্বে মানবতার স্থান কী।
এনসিএসএম-এর মহাপরিচালক এ. ডি. চৌধুরী জানান, সায়েন্স সিটির ফুলডোম থ্রিডি ডিজিটাল থিয়েটারটি 2D ও 3D উভয় ধরনের উচ্চ-রেজোলিউশনের ফুলডোম কনটেন্ট প্রদর্শনের জন্য সজ্জিত। এখানে ছয়টি উচ্চমানের ডিজিটাল প্রজেক্টর ব্যবহার করে প্রায় ৩০ মিলিয়ন পিক্সেলের কার্যকর স্ক্রিন রেজোলিউশন তৈরি করা হয়। এই প্রজেকশনটি ২৩ মিটার ব্যাসের একটি ২৩ ডিগ্রি টিল্টেড গম্বুজে নিখুঁতভাবে প্রদর্শিত হয়, যা উন্নত আলটেরিয়া সীম প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। ফলে দর্শকরা এমন এক নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা পান যেন দৃশ্যগুলি তাদের চারপাশেই ঘটছে।
এনসিএসএম-এর ডিডিজি কে. এস. মুরালি জানান, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সায়েন্স সিটির স্পেস থিয়েটারটি ভারতের প্রথম এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনী কেন্দ্র ছিল এবং প্রায় আড়াই দশকে প্রায় ৭৭ লক্ষ দর্শনার্থী এখানে এসেছেন। ২০১৯ সালে এটিকে ভারতের প্রথম ফুলডোম থ্রিডি ডিজিটাল থিয়েটারে উন্নীত করার পর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যে এই থিয়েটারের চলচ্চিত্রগুলি ১৭.৫ লক্ষেরও বেশি দর্শক আকর্ষণ করেছে।
সায়েন্স সিটি কলকাতার পরিচালক প্রমোদ গ্রোভার জানান, “ওয়ান স্টেপ বিয়ন্ড: আ জার্নি টু মার্স” সিনেমাটিক উৎকর্ষতা ও বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার সমন্বয়ে তৈরি একটি অসাধারণ ফুলডোম অভিজ্ঞতা। এই ২৫ মিনিটের চলচ্চিত্রটি বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি—তিনটি ভাষায় প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট সাতটি শো-তে দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন।
ন্যাশনাল স্পেস সেন্টার উপস্থাপিত এবং NSC Creative প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম প্রদর্শিত হয় ১১ জুন ২০২৫-এ চেক প্রজাতন্ত্রের ব্রনো শহরের ফুলডোম ফেস্টিভ্যালে। পরে ১৯ জুলাই ২০২৫-এ যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্পেস সেন্টারেও এটি প্রদর্শিত হয়। প্রতি সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেম গতিতে ৮কে ফুলডোম রেজোলিউশনে নির্মিত এই প্রযোজনা দর্শকদের সামনে এক অসাধারণ ভিজ্যুয়াল ও শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
সায়েন্স সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চলচ্চিত্রটি আগামীকাল থেকে সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হবে। নিয়মিত প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকরা মহাকাশ অনুসন্ধানের এই অসাধারণ ফুলডোম অভিজ্ঞতা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন, মহাকাশ প্রযুক্তির বিস্ময় এবং মানবতার ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে সায়েন্স সিটির এই নতুন ফুলডোম চলচ্চিত্র নিঃসন্দেহে কলকাতার দর্শকদের জন্য এক অনন্য বৈজ্ঞানিক ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে চলেছে।




Published on: মার্চ ১২, ২০২৬ at ২২:৪৩



