
Published on: ফেব্রু ৮, ২০২৬ at ১০:৪৬
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, রিষড়া (হুগলি), ৮ ফেব্রুয়ারি : হুগলি জেলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের পরিচালনায় রিষড়া লোকনাথ মন্দির চত্বরে বাৎসরিক আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, মিলনমেলার শুভ সূচনা হল। এই মিলনমেলা চলবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। লোকনাথ ভক্তদের মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠা এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক ডা. সুদীপ্ত রায়, রিষড়া পুরসভার পুরপ্রধান বিজয় সাগর মিশ্র, চাকলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের চেয়ারম্যান নবকুমার দাস-সহ একাধিক আধ্যাত্মিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধুসন্তরা।
মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা তথা রিষড়া পুরসভার ‘পুরপিতা’ অভিজিৎ দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষের কল্যাণে ও মানুষের সেবায় আমরা সারা বছর কাজ করে চলেছি। বাবা লোকনাথের দেখানো পথেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
বসিরহাট বিবেকানন্দ সেবা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আত্মানন্দ গিরি মহারাজ তাঁর বক্তৃতায় ভারতভূমির আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, “যত মহান আত্মা, মুনি-ঋষির জন্ম এই পবিত্র ভারতভূমিতে। সেই ভূমিরই একটি অংশ রিষড়া, যেখানে আজ আমরা বাবা লোকনাথের ধামে সমবেত হয়েছি। এই মন্দির শুধু একটি ব্যক্তি বা একটি সংগঠনের নয়—এটি সকলের। ধর্ম মানে শুধু বছরে একদিন মন্দিরে আসা নয়, ধর্ম মানে ধরে রাখা, নিয়মিত সাধনা ও ভক্তির চর্চা।”
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এমন খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে, যাঁরা বিপদের দিনে বাবা লোকনাথকে স্মরণ করেন না। সেই কারণেই লোকনাথ বাবার নাম ও আদর্শ এক ‘সমুদ্রের’ মতো, যেখানে সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ এসে আশ্রয় পান।
শিয়ালদা চৈতন্য মিশনের সাধারণ সম্পাদক প্রতিবানন্দ মহারাজ বলেন, “লোকনাথ ব্রহ্মচারী কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। তিনি আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। তাঁর দর্শনে জাতি, ধর্ম, বর্ণের কোনও ভেদ নেই। প্রায় ৩০০ বছর আগে তিনি যে সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”
শিমুরালি লোকনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মধু বাবা বলেন, “যেখানে হরি নাম, কৃষ্ণ নাম হয়, সেখানেই ভগবান বিরাজ করেন। কলিযুগে আমরা সেই নামেই বাবা লোকনাথকে স্মরণ করি। চাকলা লোকনাথ ধাম শুধু একটি মন্দির নয়, এটি একটি পূর্ণ তীর্থক্ষেত্র।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চাকলা লোকনাথ মন্দিরের চেয়ারম্যান ও বাবা লোকনাথের মহানাম প্রচারক নবকুমার দাস আবেগঘন কণ্ঠে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“প্রায় ৫০ বছর ধরে আমি বাবার সান্নিধ্যে আছি। জীবনের এক সময় চরম দুর্দশায় বাবাই আমার একমাত্র সঙ্গী ছিলেন। বাবার কৃপা না থাকলে আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। চাকলা মন্দিরের উন্নয়ন থেকে শুরু করে আমার ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন—সবই বাবার আশীর্বাদে সম্ভব হয়েছে। আজ আমরা সকলে একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার নিয়ে বাবার আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।”
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকল অতিথিকে উত্তরীয় পরিয়ে ও লোকনাথ ব্রহ্মচারীর স্মারক প্রদান করে সম্বর্ধনা জানানো হয়। ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সেবার সমন্বয়ে রিষড়া লোকনাথ মন্দির চত্বরে এই মিলনমেলা আগামী কয়েকদিন ধরে ভক্তদের জন্য এক বিশেষ আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করবে বলেই উদ্যোক্তাদের আশা।



Published on: ফেব্রু ৮, ২০২৬ at ১০:৪৬



