
Published on: জানু ২৫, ২০২৬ at ২৩:৫২
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৫ জানুয়ারি : জাতীয় পর্যটন দিবস উপলক্ষে আজ এক ব্যতিক্রমী ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির সাক্ষী থাকল কলকাতা। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সহযোগিতায় বাংলার পর্যটন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল (এটিএসপিবি) জাতীয় পর্যটন দিবস উদযাপন করল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনজি হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের প্রায় ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে আয়োজন করা হয় এক শিক্ষামূলক ভ্রমণ। প্রথম পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ঘুরে দেখেন এশিয়ার প্রাচীনতম ও ভারতের গর্ব—ভারতীয় জাদুঘর। এরপর কলকাতার ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা অঞ্চলগুলিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটিশ কলকাতা হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর।
ভারতীয় জাদুঘরে ইতিহাসের পাঠ
ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পেশাদার গাইড অরিত্রি সমাদ্দার ছাত্র-ছাত্রীদের জাদুঘরের মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখান। তিনি বলেন, “আজ ন্যাশনাল ট্যুরিজম ডে-তে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের আর্ট, আর্কিওলজি, অ্যান্থ্রোপলজি, জুওলজি এবং জিওলজি বিভাগের অধীনে থাকা গ্যালারিগুলি ঘুরিয়ে দেখিয়েছি। এতে ওরা বুঝতে পেরেছে আগামিদিনে ভারতীয় পর্যটনে এইসব ঐতিহ্যবাহী স্থানের গুরুত্ব কতটা।”
বর্তমানে খোলা থাকা গ্যালারিগুলির মধ্যে রয়েছে বার উইথ গ্যালারি, গান্ধার আর্ট গ্যালারি, কয়েন গ্যালারি, লং আর্কিওলজিক্যাল গ্যালারি—যেখানে মথুরাবতী ও অমরাবতী শিল্পকলার নিদর্শন রয়েছে। এছাড়াও তৃতীয় তলায় রয়েছে ইজিপশিয়ান গ্যালারি, বেঙ্গল পেইন্টিং গ্যালারি, জুওলজিক্যাল গ্যালারি (ম্যামলস, ফিশ, বার্ডস ও রেপটাইলস), ডেকরেটিভ আর্ট ও টেক্সটাইল গ্যালারি এবং ফসিল গ্যালারি। সংস্কারাধীন গ্যালারিগুলি আগামী ছ’মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ কলকাতায় হাঁটা ইতিহাসের পথে
জাদুঘর পর্বের পর ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেন ব্রিটিশ কলকাতার হেরিটেজ ওয়াক ট্যুরে। ভারতীয় পর্যটন মন্ত্রকের অনুমোদিত গাইড আশীষ মাইতি জানান, “আমরা রাজভবন থেকে শুরু করে গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল, ইন্ডিয়ান কারেন্সি বিল্ডিং, টেলিগ্রাফ ভবন, স্টিফেন হাউস, সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ, রাইটার্স বিল্ডিং হয়ে জিপিও পর্যন্ত পুরো বিবাদি বাগ-ডালহৌসি স্কয়ার অঞ্চল ঘুরে দেখিয়েছি। যাকে আমরা ‘মিনি লন্ডন’ বলি—সেই ইতিহাস ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা গর্বের বিষয়।”
ডালহৌসি স্কয়ার ও ইতিহাসের অন্য দিক
হেরিটেজ ওয়াক চলাকালীন এটিএসপিবির সদস্য বাবিন মিত্র ডালহৌসি স্কয়ারের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “আমরা ব্রিটিশ শাসনের নেতিবাচক দিকটাই বেশি দেখি। কিন্তু লর্ড ডালহৌসি পশ্চিমবঙ্গে ও ভারতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনেছিলেন—বাল্যবিবাহ রোধ, বিধবা বিবাহের প্রচলন, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা, ভারতের প্রথম রেল চালু এবং পোস্টাল ব্যবস্থাকে টেলিগ্রাফে রূপান্তর—এসবই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”
‘দেখো আপনা দেশ’—এই বার্তাই মূল লক্ষ্য
এটিএসপিবির যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “জাতীয় পর্যটন দিবসে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ‘দেখো আপনা দেশ’। আমাদের দেশেই দেখার মতো অসংখ্য জায়গা আছে। একই সঙ্গে কলকাতা ও সারা দেশের হেরিটেজ বিল্ডিং এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিকে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
ছাত্রদের কাছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা
বিএনজি হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল বুধাদিত্য পাল জানান, “আজকের এই ট্যুর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ভারতীয় জাদুঘর থেকে শুরু করে রাজভবন-জিপিও পর্যন্ত প্রায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টার হেরিটেজ ওয়াকে তারা কলকাতার বহু অজানা ইতিহাস জানতে পেরেছে। পেশাদার গাইডদের মাধ্যমে শহরের ঐতিহ্য নতুন করে আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছে তারা।”
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনে কলকাতা ও বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ঐতিহ্য সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মকে পর্যটনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করাই এটিএসপিবি ও পর্যটন মন্ত্রকের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় পর্যটন দিবসে ইতিহাসের পথে এই হাঁটা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল— ভারত শুধু গন্তব্য নয়, ভারত নিজেই এক জীবন্ত ইতিহাস।











Published on: জানু ২৫, ২০২৬ at ২৩:৫২



