
Published on: জুলা ২২, ২০২৬ at ১০:৪১
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২২ জুলাই: ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরতে কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে উদ্বোধন হল দেশের প্রথম ইমার্সিভ ভাষা জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল, যুগ্মসচিব (মিউজিয়ামস) লিলি পান্ডেয়া এবং জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর পরিষদের মহাপরিচালক কে. এস. মুরলী–সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
জাতীয় গ্রন্থাগার চত্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বেলভেডিয়ার হাউসে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরটি ভারতের ভাষা, লিপি, সাহিত্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার হাজার বছরের বিবর্তনের এক অনন্য দলিল। প্রায় ৩৮০টি ভাষার ইতিহাস, বিকাশ ও বর্তমান অবস্থান এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১১ সালের জনগণনায় নথিভুক্ত ১২১টি ভাষা, পাশাপাশি এমন বহু ঐতিহাসিক ভাষাও স্থান পেয়েছে যেগুলি আজ আর দৈনন্দিন ব্যবহারে নেই।
অত্যাধুনিক ইমার্সিভ প্রযুক্তি, ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনস্টলেশন, অডিও–ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং দুর্লভ নিদর্শনের সমন্বয়ে দর্শনার্থীরা ভাষার জন্ম, বিকাশ এবং সমাজ–সংস্কৃতির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ককে এক নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অনুভব করতে পারবেন। জাদুঘরটি মোট নয়টি থিমভিত্তিক গ্যালারিতে বিভক্ত, যেখানে সিন্ধু–সরস্বতী সভ্যতার প্রাচীন প্রতীক থেকে শুরু করে পুনরুজ্জীবিত গুঞ্জালা গোঁডি লিপি, লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি, সংগীত, অভিনয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে ভাষার আদানপ্রদানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে ভারতের বিভিন্ন ভাষার কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, পণ্ডিত ও গল্পকারদের অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণের মধ্যে জ্ঞান বিস্তারে পাবলিক লাইব্রেরি আন্দোলনের ভূমিকাও গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপিত হয়েছে।
মোট ₹৪১ কোটি ব্যয়ে এই প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২,২৮২ বর্গমিটার প্রদর্শনী এলাকা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ₹১৫ কোটি। পরবর্তী পর্যায়ে আরও গ্যালারি, একটি স্মারক বিপণি ও ক্যাফে এবং ভবনের বাইরের অংশে ফ্যাসাড প্রজেকশন ম্যাপিং চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় গ্রন্থাগারের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে এই জাদুঘর গড়ে ওঠায় বই ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের সঙ্গে ভাষা ও জ্ঞানের জীবন্ত ধারার এক অনন্য সংযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের মতে, ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’ ভবিষ্যতে ভাষা গবেষণা, শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের অন্যতম প্রধান জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং নতুন প্রজন্মকে ভারতের সমৃদ্ধ বহুভাষিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাবিদ, ভাষাবিদ, লেখক, সংস্কৃতি কর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর পরিষদের মহাপরিচালক কে. এস. মুরলী ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।
জাদুঘরটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সোমবার বন্ধ। দর্শনার্থীদের জন্য সুখবর, ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। ভারতের ভাষিক বৈচিত্র্যকে প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
Published on: জুলা ২২, ২০২৬ at ১০:৪১







