

Published on: জানু ১৯, ২০২৬ at ২৩:৫৮
এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ উচ্চতায় পৌঁছল সোমবার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আজ সকালে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন। আন্তর্জাতিক কূটনীতির রীতিনীতির ব্যতিক্রম ঘটিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির হন। রেড কার্পেট, গার্ড অব অনার ও উষ্ণ আলিঙ্গনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, বরং দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার প্রতীক।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই সফর হলেও কূটনৈতিক দিক থেকে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে এটি প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদের পঞ্চম ভারত সফর। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠকে উঠে আসে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা—এই পাঁচটি মূল স্তম্ভ।
দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনার কেন্দ্রে ছিল—
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর রূপরেখা।
- এনার্জি সিকিউরিটি: দীর্ঘমেয়াদি LNG ও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে আলোচনা, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে।
- প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা: সন্ত্রাস দমন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
- প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: AI, সেমিকন্ডাক্টর, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিকাঠামোয় যৌথ উদ্যোগের পথে এগোনোর বার্তা।
- খাদ্য ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি: খাদ্য নিরাপত্তা ও পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে পারস্পরিক সহায়তা।
এই সফর উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে রাখা হয়েছে নয়াদিল্লির সংরক্ষিত ভিভিআইপি গেস্ট হাউসে। সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়, বিশেষ প্রোটোকল টিম এবং কূটনৈতিক আতিথেয়তার সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরের সময়সীমা কম হলেও আতিথেয়তায় কোনও ঘাটতি রাখা হয়নি।
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, পশ্চিম এশিয়ার টানাপোড়েন ও জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভারত ও UAE—দুই দেশই নিজেদের বিশ্বস্ত, স্থিতিশীল ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরল।
এই সফর স্পষ্ট করে দিল—ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সম্পর্ক এখন আর শুধু বন্ধুত্বের নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্ত ভিতের উপর দাঁড়ানো এক বৈশ্বিক অক্ষ। আজকের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Published on: জানু ১৯, ২০২৬ at ২৩:৫৮



