

Published on: মে ১২, ২০২৬ at ২৩:৪৪
এসপিটি নিউজ: মধ্যপ্রদেশ মানেই এতদিন অধিকাংশ মানুষের চোখে ছিল জঙ্গল, বাঘ আর বন্যপ্রাণের রোমাঞ্চ। কিন্তু সেই টাইগার স্টেটের আর এক অনন্য রূপ এখন ধীরে ধীরে উঠে আসছে পর্যটকদের সামনে—পাখিদের রঙিন দুনিয়া। বিস্তীর্ণ জলাভূমি, হ্রদ, বনাঞ্চল আর নদীকূল ঘিরে মধ্যপ্রদেশ এখন গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় বার্ডওয়াচিং গন্তব্য হিসেবে।
রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৪৫০-রও বেশি প্রজাতির পাখির খোঁজ মিলেছে। মধ্য এশীয় পরিযায়ী পথ বা ‘সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ে’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় প্রতি বছর শীতকালে সাইবেরিয়া, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি ভিড় জমায় মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে। গ্রীষ্মের শুরুতে যদিও বহু পরিযায়ী পাখি ফিরে যেতে শুরু করে, তবে এই সময়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে স্থানীয় পাখিদের জীবনচক্র। ফলে বাসা বাঁধা, প্রজনন ও ছানাদের লালন-পালনের বিরল দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান পাখিপ্রেমীরা।
এই মরসুমে বিশেষভাবে নজরে আসে ইন্ডিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার, ক্রেস্টেড সার্পেন্ট ঈগল, পাইড কিংফিশার, রিভার টার্ন এবং মালাবার পাইড হর্নবিলের মতো নজরকাড়া প্রজাতি। প্রকৃতির নীরবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে পাখিদের ডাক শুনে সময় কাটানো এখন হয়ে উঠছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
ভোপাল: হ্রদের শহরে পাখির স্বর্গ
ভোপালের ভোজ ওয়েটল্যান্ড, আপার লেক, ভ্যান বিহার, কেরওয়া ও কালিয়াসোত অঞ্চল মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অসাধারণ আরবান বার্ডিং জোন। এখানে দেখা মেলে বার-হেডেড গিজ, ব্রাউন ফিশ আউল, রিভার টার্ন ও ইন্ডিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচারের।
জবলপুর: পাথুরে অরণ্যে পাখির খোঁজ
জবলপুরের দুমনা নেচার পার্ক ও নাররাই অরণ্য বার্ডওয়াচারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। র্যাকেট-টেইলড ড্রঙ্গো, ইজিপশিয়ান ভালচার ও ইন্ডিয়ান রোলারের মতো বিরল প্রজাতি সহজেই চোখে পড়ে এখানে।
ইন্দোর: জলাভূমিতে রঙিন ডানার ভিড়
ইন্দোরের গুলাওয়াতের লোটাস ভ্যালি ও তালাওয়ালি চান্দা এলাকায় দেখা যায় পাইড কিংফিশার, উলি-নেকড স্টর্ক ও রেড অ্যাভাডাভাট। এছাড়া রামসার স্বীকৃত সিরপুর লেক ও যশবন্ত সাগর হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
নারসিংহগড় ও খেওনি: নির্জন বনাঞ্চলের নীরব সৌন্দর্য
কম পর্যটকসমৃদ্ধ এই অঞ্চলগুলি ঘন জঙ্গল ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। উলি-নেকড স্টর্ক, ব্ল্যাক-উইংড কাইট ও ইউরেশিয়ান হুপোর মতো পাখি এখানে নিয়মিত দেখা যায়।
সাতপুরা ও পান্না: প্রকৃতির বুনো বিস্ময়
সাতপুরে ন্যাশনাল পার্কের ওয়াকিং সাফারি ও পান্না ন্যাশনাল পার্কের কেন নদীর পাড় পাখিপ্রেমীদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা এনে দেয়। মালাবার পাইড হর্নবিল, ইন্ডিয়ান স্কিমার ও নদীর ধারে বাসা বাঁধা শকুন এখানে বিশেষ আকর্ষণ।
গোয়ালিয়র: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই পাখির নিরাপদ ঠিকানা
গোয়ালিয়রের জীবাজি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন নানা প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল। পার্পল সানবার্ড ও এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার এখানে সহজেই নজরে আসে।
পাখি দেখা শুধু পর্যটন নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ‘আটাভি বার্ড ফাউন্ডেশন’ এবং মধ্যপ্রদেশ ট্যুরিজম বোর্ড যৌথভাবে স্থানীয় মানুষদের বার্ড গাইড ও ন্যাচারালিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সচেতনতা বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
এই গরমে ভিড়ভাট্টা পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রের বদলে যদি প্রকৃতির শান্ত ছোঁয়া খুঁজে নিতে চান, তবে মধ্যপ্রদেশ হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। পাখির ডানায় ভর করে প্রকৃতির গল্প শোনার এমন সুযোগ খুব কম জায়গাতেই মেলে।
Published on: মে ১২, ২০২৬ at ২৩:৪৪



