ডিজিটাল বিপ্লবে তিলোত্তমা: কলকাতায় বসছে ‘সিআইও ফিউচারস্কেপ ২০২৬’-এর আসর

দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

  • আগামীকাল কলকাতার তাজ সিটি সেন্টারে দেশজুড়ে আসা ১৮০ জনেরও বেশি শীর্ষ আইটি লিডারের (CIOs) মেলা বসছে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভয় নয়, বরং একে হাতিয়ার করে কীভাবে ব্যবসা ও সমাজকে বদলে দেওয়া যায়, থাকবে তার বিশেষ রোডম্যাপ।
  • বিশ্বখ্যাত গবেষণা সংস্থা আইডিসি (IDC) এই ইভেন্টের নলেজ পার্টনার হিসেবে প্রযুক্তিগত বিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরবে।
  • ১৭টি চ্যাপ্টারের মধ্যে কলকাতা শাখা কীভাবে সমগ্র পূর্ব ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের কান্ডারি হয়ে উঠছে, তা এই সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

 

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৯ জানুয়ারি: ২০২৬ সালের প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর জন্য কতটা প্রস্তুত তিলোত্তমা? সেই উত্তর খুঁজতেই দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘সিআইও অ্যাসোসিয়েশন’ কলকাতায় আয়োজন করতে চলেছে এক মেগা কনক্লেভ— ‘সিআইও ফিউচারস্কেপ ২০২৬’। শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক বর্ণাঢ্য সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল দুনিয়ায় কলকাতাকে দেশের অন্যতম প্রধান ‘প্রযুক্তি কেন্দ্র’ বা ‘ট্যালেন্ট হাব’ হিসেবে গড়ে তোলাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

প্রযুক্তির মিলনমেলা ও কলকাতার গুরুত্ব

আগামীকাল কলকাতার তাজ সিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে যোগ দেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৮০ জনেরও বেশি প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (CIO) এবং ডিজিটাল লিডার। সেঞ্চুরি প্লাইবোর্ডস-এর সিডিও (CDIO) তথা সংগঠনের কলকাতা চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ডাঃ সন্দীপ প্রধান জানান, এই ইভেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৬ সাল এবং তার পরবর্তী সময়ের প্রযুক্তিগত বিবর্তনকে মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের আজই প্রস্তুত করা।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু সরঞ্জাম নয়, বরং প্রভাব তৈরি করা। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলকাতাকে একটি গ্লোবাল ‘ট্যালেন্ট হাব’ হিসেবে সারা দেশের সামনে তুলে ধরা হবে।” আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইডিসি (IDC) এই ইভেন্টের নলেজ পার্টনার হিসেবে যুক্ত থাকছে। এই ইভেন্টের মাধ্যমে কলকাতার প্রযুক্তিগত প্রতিভা এবং সম্ভাবনাকে সারা ভারতের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এআই (AI) কি ভয়ের? উত্তর দিল সংগঠন

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে সংশয় কাজ করছে, তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সংগঠনের প্রতিনিধি সঞ্জীব সিনহা। তিনি জানান, এআই-কে ভয় পেয়ে বা এড়িয়ে চলে লাভ নেই। বরং যারা এই প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একে আপন করে নেবে, তারাই ভবিষ্যৎ বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো একত্রে মিলে নিজেদের, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের এবং সর্বোপরি দেশের ডিজিটাল উন্নতিতে অবদান রাখা। সংগঠনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হল- জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া এবং চিন্তাশীল নেতৃত্ব  তৈরি করা। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে তারা নিয়মিত কর্মশালা ও সেশনের আয়োজন করে।

১৮ বছরের যাত্রা ও বিশাল নেটওয়ার্ক

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি বর্তমানে ১৮ বছরে পা দিল। সারা দেশে তাদের ২,৬০০ জনের বেশি সদস্য এবং ৫টি দেশে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম রয়েছে। সংগঠনের ১৭টি ভারতীয় চ্যাপ্টারের মধ্যে কলকাতা অন্যতম সক্রিয় শাখা, যা সমগ্র পূর্ব ভারতের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের নেতৃত্ব দিচ্ছে।ততবে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে তাদের মোট ১৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

শিল্পের সেতুবন্ধন

আগামীকালের এই বার্ষিক ইভেন্টে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং ম্যানুফ্যাকচারিং (১৮%), কেমিক্যাল (১২%), হেলথকেয়ার (১০%) সহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এই প্ল্যাটফর্মে ছোট ও বড় সব ধরনের কোম্পানি একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার এবং ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা

ব্যবসায়িক উন্নতির পাশাপাশি সিআইও অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নেও কাজ করছে। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গঠন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এই সংগঠনের লক্ষ্য। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে সমর্থন জানিয়ে এই আয়োজনটি কলকাতার প্রযুক্তি ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।


শেয়ার করুন