
‘ইনসাল্লাহ বাংলাদেশ : দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভেলিউশন’ বইয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য : এক ফোন কলেই বদলে গেল ইতিহাস, শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা

Published on: নভে ৯, ২০২৫ at ২১:০০
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৯ নভেম্বর: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা — যিনি ঢাকার গণভবনে জনতা আক্রমণের ২০ মিনিট আগে দেশ ছেড়েছিলেন। ভারত থেকে তিনি যদি সেদিন ফোন কল না পেতেন তাহলে তাঁরও বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের মতো করুণ পরিণতি হতে পারত। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে-‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভেলিউশন’ বইয়ে।বইটিতে এমন এক নাটকীয় ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে যা একটি ফোন কলেই বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস – রক্ষা করেছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন।
‘ইনসাল্লাহ বাংলাদেশ : দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভেলিউশন’ বইটি লিখেছেন তিনজন । তারা হলেন ভারতীয় সাংবাদিক ও লেখক দীপ হালদার, একজন ভারতীয় কূটনিতীক ও লেখক জয়দীপ মজুমদার এবং একজন বাংলাদেশের সাংবাদিক ও লেখক শাহিদুল হাসান খোকন। বইটির প্রকাশক জাগার্নট। নভেম্বর ২০২৫ এর মাঝামাঝি সময় বইটি প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা । তবে তার আগেই বইটির বিষয়বস্তু বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে।
বইটি প্রকাশের আগে বহু মানুষের কৌতূহল তুংগে পৌঁছেছে। বইটিতে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবনে অবস্থান করছিলেন, যখন তিনি ভারতের এক শীর্ষ কর্কর্তার কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোন কল পান।
সেদিন ঠিক কি ঘটেছিল?
সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পরেছিল ঢাকায়। এক ক্ষুব্ধ জনতা গণভবনের মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সহ বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানরা শেখ হাসিনাকে বারবার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি তার বোন শেখ রেহানা ও ছেলে সজীব ওয়াহেদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোন করেন, তবুও তিনি অনড় ছিলেন।
জীবনরক্ষাকারী ফোন কল
দুপুর ১টা ৩০ মিনিট। ভারতের এক পরিচিত শীর্ষ কর্কর্তার কাছ থেকে এল সেই গুরুত্বপূর্ণ ফোন কল। ভেসে এল –
‘You must live to fight another day’ অর্থাৎ ‘আপনাকে লড়াইয়ের জন্য আরও একদিন বাঁচতে হবে।‘
এই সংক্ষিপ্ত কথপোকথনের পরই শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন দেশ ছাড়ার। বোন শেখ রেহানা তাঁকে একটি SUV-তে তুলে নেন। সঙ্গে দুটি মাত্র স্যুটকেস। দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তারা পৌঁছে যান হিলিপ্যাডে। সেখানে থাকা হেলিকপ্টার গণভবন থেকে উড়ে যায়। ১২ মিনিটে পৌঁছয় তেঁজগাও এয়ারবেসে। এরপর ২টা ৪২ মিনিট নাগাদ একটি C-170J বিমান তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা ছাড়িয়ে মালদার উপর দিয়ে ভারতের দিকে রওনা হয়। সন্ধ্যায় বিমানটি দিল্লির হিন্দন এয়ারবেসে অবতরণ করে। সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তাঁকে স্বাগত জানান।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বইটির পর্যালোচনা এবং মূল আখ্যানের ভিত্তিতে, বইটিতে নিম্নলিখিত প্রধান প্রধান অধ্যায় বা আখ্যানভিত্তিক অংশগুলি আছে বলে জানা যায়:
বইটির মূল আখ্যানকে কয়েকটি শক্তিশালী ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে এই অংশগুলি বিশেষভাবে আলোচিত:
প্যানিক অ্যাট গণভবন: এই অংশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্তে সৃষ্ট আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির আগের কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে।
এ কল ফ্রম ডেলহি সেভড হাসিনা’স লাইফ: এই অংশে ভারতীয় একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছ থেকে আসা সময়োপযোগী ফোন কলটির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যেটিকে হাসিনার জীবনরক্ষাকারী ঘটনা হিসেবে দাবি করা হয়েছে এবং যা তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
দ্য জেনারেল’স বিট্রেয়াল: এই অংশটি প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য সূত্রের বরাত দিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ যে অভিযোগ উঠেছে, সেই সংক্রান্ত দাবি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে।
ইসলামিক টেকওভার অফ ঢাকা :এই অংশে শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ইসলামপন্থী দলগুলির, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর, প্রভাব বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তাদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
এই অংশগুলি বইটির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং মূল বর্ণনামূলক অংশ, যা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকটের গতিপথ, কারণ এবং তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেছে। বিশেষ করে এই বইটি দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক অস্থির অধ্যায়ের অজানা তথ্য উন্মোচন করতে চলেছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি ফোন কল কিভাবে একটি দেশের ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে –সেইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে এই বইটিতে।
Published on: নভে ৯, ২০২৫ at ২১:০০



