SIR বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাল্টা জবাব নির্বাচন কমিশনের: ‘অশালীন আচরণ করে বৈঠক ছেড়ে যান মমতা’

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ২, ২০২৬ at ২২:৩০

এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ২ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ECI)-র মধ্যে ভিড় গভীর রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে চলছে। বিষয়টি কেন্দ্রিয় সরকারের তত্ত্বাবধানে চলমান Special Intensive Revision (SIR) বা ভোটার তালিকা বিশেষ পুনর্বিবেচনার কার্যক্রমকে ঘিরে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিল্লির নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন SIR-সম্পর্কিত আলোচনায়। সেখানে তাঁর দাবি ছিল এই SIR-প্রক্রিয়া “অযৌক্তিক, পক্ষপাতদুষ্ট ও অনেক মানুষের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

তিনি চিফ ইলেকশন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘অহংকারী’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন যে কমিশন শুধু পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করছে, সেখানে 58 লাখেরও বেশি লোকের নাম তালিকা থেকে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের উপযুক্ত প্রতিরক্ষা বা শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মমতার সাথে যারা ছিলেন তারা দাবি করেন, SIR-এর কারণে “মানুষের ভোটাধিকারে হস্তক্ষেপ” ঘটেছে ।

ECI অভিযোগ খারিজ করে বলে জানিয়েছে, মমতা গালাগালি করে, টেবিল ঠুকে দিয়ে অশালীন আচরণ করেছেন এবং মিটিং ছেড়ে চলে গেছেন — নির্বাচন কমিশন এই আচরণকে “অপ্রীতিকর” বলে অভিহিত করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে CEC এবং দুই নির্বাচন কমিশনার শীতল ও সদিচ্ছাপূর্ণ মানসিকতায় মিটিং চালিয়েছিলেন, কিন্তু মমতা কথা না শুনেই বেরিয়ে গিয়েছেন।

এছাড়া ECI অভিযোগ করেছে কিছু TMC নেতা ও কর্মীরা SIR-জনিত কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি ও অপমানজনক আচরণ করেছেন — বিতর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি চ্যালেঞ্জিং পিটিশন দাখিল করেছেন, যাতে এই SIR-প্রক্রিয়াকে “অবৈধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ECI ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনকে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

ECI-র মতে, SIR বর্তমানে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে এবং ফাইনাল ভোটার তালিকা ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার কথা—এটি আগামী লোকসভা ও রাজ্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই সংঘাত শুধু পশ্চিমবঙ্গ-পরিধি ছাড়িয়ে গিয়েছে; তা জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধীরা দাবি করছেন যে SIR-এর মতো প্রক্রিয়া নির্বাচনী অধিকারকে প্রভাবিত করছে, বিশেষত সংখ্যালঘু বা নিম্ন আয়ের সম্প্রদায়ের মধ্যে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছেন, নিয়ম ও আইনের অধীনে যে কোন কর্মই সম্পাদিত হচ্ছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

Published on: ফেব্রু ২, ২০২৬ at ২২:৩০


শেয়ার করুন