ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণা: পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন ও বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?

Main দেশ বিদেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

পশ্চিম এশিয়ায় সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান, ইউক্রেন সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ব্রিকস, একতরফা নিষেধাজ্ঞা শুল্কনীতির সমালোচনা

Published on: সেপ্টে ১২, ২০২৬ at ২১:০৬

সংবাদ প্রভাকর টাইমস | বিশেষ প্রতিবেদন

এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর :  নয়াদিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই গৃহীত হল বহু প্রতীক্ষিত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সর্বসম্মতিক্রমে এই ঘোষণাপত্র গ্রহণ হওয়াকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

প্রায় ১৪০টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা এই ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্রিকসের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায়সর্বোচ্চ সংযম’-এর বার্তা

নয়াদিল্লি ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি। ব্রিকস সদস্য দেশগুলি পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য সব পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রিকসের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান হওয়া উচিত আলোচনা, পরামর্শ ও কূটনীতির মাধ্যমে। সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলার পরিবর্তে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ একই সংগঠনের সদস্য হওয়ায় এই বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য বিশেষ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই জায়গায় সর্বসম্মত ঘোষণা গ্রহণ নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

বেসামরিক পরিকাঠামো পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে বেসামরিক পরিকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস।

যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পরমাণু স্থাপনা আক্রান্ত হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরেও তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। তাই সংঘাতের মধ্যেও পরমাণু নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ: আলোচনার পথেই সমাধানের বার্তা

ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ব্রিকসের অবস্থান মূলত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে মেটানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ইউক্রেনের সংঘাতকে কেন্দ্র করে সদস্য দেশগুলির মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য থাকলেও ব্রিকস সরাসরি কোনও এক পক্ষের হয়ে সামরিক অবস্থান গ্রহণ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের নীতিকেই সামনে রেখেছে।

এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ রাশিয়া ব্রিকসের অন্যতম প্রধান সদস্য এবং একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলির একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

একতরফা নিষেধাজ্ঞা শুল্কনীতির বিরোধিতা

নয়াদিল্লি ঘোষণায় একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্যিক বাধা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রিকসের মতে, কোনও দেশের ওপর রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া একতরফাভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যের বিশেষ কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেশূন্য সহনশীলতা

ভারতের জন্য ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে ব্রিকস দেশগুলি নিন্দা করেছে। সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অংশটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক কোনও বৃহৎ বহুপাক্ষিক মঞ্চে পাহেলগাম হামলার উল্লেখ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি

নয়াদিল্লি ঘোষণা আবারও বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। ব্রিকস মনে করছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের বাস্তব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির প্রতিফলন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবির কথা বলে আসছে। তাই ব্রিকসের এই অবস্থান ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

ব্রিকস পশ্চিমবিরোধী জোট নয়’: ভারতের বার্তা

নয়াদিল্লি সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে। ভারত ব্রিকসকে কোনওভাবেই শুধু পশ্চিম-বিরোধী জোট হিসেবে দেখতে চায় না। বরং উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলাই ভারতের লক্ষ্য।

এই অবস্থান ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক ভারসাম্যেরও প্রতিফলন—একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে রাশিয়া, চিন ও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক।

একক ব্রিকস মুদ্রা নয়, জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে জোর

ব্রিকসের বহু আলোচিত ‘একক মুদ্রা’ নিয়ে এবারও কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

তার পরিবর্তে সদস্য দেশগুলি নিজেদের জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পথেই এগোতে চায়। আন্তঃসীমান্ত লেনদেনকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কম ব্যয়সাপেক্ষ করার জন্য সদস্য দেশগুলির অর্থপ্রদান ও বার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ব্রিকসের অর্থপ্রদান-সংক্রান্ত কর্মীগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কাজ করছে।

অর্থাৎ, আপাতত ‘ব্রিকস মুদ্রা’ নয়—বরং জাতীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের পরিকাঠামো গড়ে তোলাই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে সামনে এসেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণের বার্তা

নয়াদিল্লি ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কাজের চারটি মূল ক্ষেত্র—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব—এই ঘোষণার অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও অভিন্ন অবস্থান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের যুগে ব্রিকস প্রযুক্তির নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শক্তি-সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলি যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল থেকে পিছিয়ে না পড়ে এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য আরও না বাড়ে, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কর্মসূচিকেও ব্রিকসের ঘোষণায় সমর্থন জানানো হয়েছে।

ভারতের একাধিক উদ্যোগ পেল ব্রিকসের সমর্থন

ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর ব্রিকসের মধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ এগিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নিয়ে জ্ঞানভাণ্ডার, ব্রিকস ঝুঁকি গবেষণাগার, শিল্প-চতুর্থ বিপ্লব সংক্রান্ত দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মীগোষ্ঠী।

উদ্দেশ্য শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়া নয়; সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাস্তব অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করা।

ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য কতটা?

এই ঘোষণার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হল—বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও ব্রিকস ঐকমত্যে পৌঁছতে পেরেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত, ইরান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রীয় পক্ষ, চিন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অবস্থানও পশ্চিম এশিয়ার অন্য সদস্যদের থেকে সবসময় এক নয়।

এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা ভারতের সভাপতিত্বের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’, আলোচনা ও কূটনীতির পক্ষে ঐকমত্য তৈরি হওয়া ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এক মঞ্চে রাশিয়া, চিন, ইরানভারতের বার্তা কী?

নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

ভারত একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে রাশিয়া, চিন ও ইরানের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রেখেছে।

ফলে নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ব্রিকসের একটি যৌথ নথি নয়; বরং বর্তমান বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় ভারতের ‘সেতু-রাষ্ট্র’ হিসেবে কূটনৈতিক ভূমিকারও একটি প্রতিফলন।

সামনে কী?

নয়াদিল্লি ঘোষণার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বাস্তবায়ন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য, পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান, ইউক্রেন নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের নীতি, জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা এবং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই এখন দেখতে হবে সদস্য দেশগুলি কতটা বাস্তব পদক্ষেপ নেয়।

তবে ১২ সেপ্টেম্বরের এই ঘোষণার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট— ব্রিকস আর শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব রাজনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল ও উদীয়মান শক্তিগুলির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে ব্রিকসের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে রয়েছে নয়াদিল্লি।

নয়াদিল্লি ঘোষণা তাই শুধু একটি সম্মেলনের সমাপ্তি নয়—পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার দিকে ব্রিকসের পরবর্তী পদক্ষেপের রাজনৈতিক নকশাও বটে।

Published on: সেপ্টে ১২, ২০২৬ at ২১:০৬


শেয়ার করুন