পদকের নয়, আত্মবিশ্বাসের জয়: কলকাতায় ‘আশায়েন ২০২৬’

Main খেলা দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জানু ২৭, ২০২৬ at ১৮:১৯

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৭ জানুয়ারি : আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদযাপনের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, শহরের গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘আশায়েন – রোশনি উম্মিদোঁ কি’ ক্রীড়া উৎসবের দ্বাদশ সংস্করণ। এই বিশেষ ক্রীড়া মিলনে অংশ নেবে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৮০০ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশু।

মঙ্গলবার শহরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতা (ডিস্ট্রিক্ট ৩২২বি১) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানের ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত এই সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেই পরিচিত আশায়েন আজ কলকাতার এক প্রধান অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হয়েছে।

সম্মিলিত উদ্যোগে আশায়েন ২০২৬

রাউন্ড টেবিল ইন্ডিয়া – কলকাতা মিডটাউন রাউন্ড টেবিল ১১৩ এবং লেডিজ সার্কল ইন্ডিয়া – কলকাতা মিডটাউন লেডিজ সার্কল ১৩২-এর সহযোগিতায় আয়োজিত আশায়েন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সারাদিন জুড়ে চলবে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আনন্দঘন কার্যক্রম ও উৎসবমুখর আয়োজন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সি এ পবন কুমার পাতোদিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পেশাল অলিম্পিক্স ভারত এবং প্রেসিডেন্ট, স্পেশাল অলিম্পিক্স ভারত (পশ্চিমবঙ্গ); লায়ন বিবেক আদুকিয়া (আদুকিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ); ট্রা. হর্ষ কর্ণানি, চেয়ারম্যান, কলকাতা মিডটাউন রাউন্ড টেবিল ১১৩ এবং সি আর রশ্মি বাজাজ, চেয়ারপার্সন, কলকাতা মিডটাউন লেডিজ সার্কল ১৩২।

বক্তারা সকলেই বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মঞ্চ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্বের উপর জোর দেন।

৩৮টি প্রতিষ্ঠান, ৮০০ শিশু

এবছর কলকাতার ৩৮টি বিশেষ বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৮০০ জন শিশু এই ক্রীড়া উৎসবে অংশ নিচ্ছে, যা আশায়েন ২০২৬-কে এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া উদ্যোগে পরিণত করেছে। প্যারালিম্পিক্সের আদলে পরিকল্পিত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতা, উৎসাহ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা।

কলকাতা প্রেস ক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে সি এ পবন কুমার পাতোদিয়া জানান, এই ধরনের ক্রীড়া উদ্যোগ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সংযুক্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর কথায়, ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতা নয়—এটি শিশুদের নিজস্ব সক্ষমতা আবিষ্কারের এক শক্তিশালী মাধ্যম।

‘এখানে প্রতিটি শিশুই বিজয়ী’

এই প্রসঙ্গে লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতার প্রেসিডেন্ট লায়ন গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল বলেন, “আশায়েন লায়নিজমের প্রকৃত দর্শনকে তুলে ধরে—সহানুভূতি ও মর্যাদার সঙ্গে সেবা। এখানে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুই বিজয়ী। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র পদক নয়, আত্মবিশ্বাস, আনন্দ ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি।”

ক্রীড়া, কার্নিভাল ও যত্নের আয়োজন

ক্রীড়া সূচিতে থাকছে ৫০ মিটার ও ১০০ মিটার দৌড়, এসবিটি বল থ্রো এবং শট পুট। সমস্ত প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে সোদপুর রেফারি অ্যাসোসিয়েশন (এসআরএ)-এর ৪০ জন প্রশিক্ষিত আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে, যাতে নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়। ক্রীড়ার পাশাপাশি থাকছে এক প্রাণবন্ত কার্নিভাল পরিবেশ, বিশেষ ফান জোন, অংশগ্রহণকারী শিশুদের জন্য খাবার, ইভেন্ট টি-শার্ট, জ্যাকেট, ক্যাপ, এবং শিক্ষাসামগ্রী ও খাদ্যপণ্যে ভরপুর উপহার।

সক্ষমতার উদযাপন

আয়োজকদের মতে, আশায়েন সীমাবদ্ধতার নয়, সক্ষমতার উদযাপন। প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আশায়েন ২০২৬ এমন এক দিন হয়ে উঠতে চলেছে, যেখানে সাফল্য মাপা হবে না শুধুমাত্র পদকে, বরং হাসি, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন দেখার সাহসে।

লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতা: এক গর্বের ঐতিহ্য

১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতা পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানজনক সেবামূলক সংগঠন। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭-তে উদ্বোধনের পর একই বছর লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল-এর চার্টার প্রাপ্ত এই ক্লাব পূর্বাঞ্চলের প্রথম লায়ন্স ক্লাব হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

৬৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য, চক্ষু চিকিৎসা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই সংগঠন। ক্যালকাটা লায়ন্স বিমল পোদ্দার আই হাসপাতাল এবং ক্যালকাটা লায়ন্স নেত্র নিকেতন আজও সমাজসেবায় তাদের অবিচল অঙ্গীকারের উজ্জ্বল নিদর্শন।

Published on: জানু ২৭, ২০২৬ at ১৮:১৯


শেয়ার করুন