
ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে উদ্বোধন | নকশায় দেবজিৎ দত্ত | পর্যটনকে সারা বছরের শিল্পে পরিণত করার লক্ষ্য, ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দের ঘোষণা
Published on: সেপ্টে ৪, ২০২৬ at ১৫:৩৩
✍️ অনিরুদ্ধ পাল। সংবাদ প্রভাকর টাইমস
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর নতুন পরিচয় পেল পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন দপ্তর। শুক্রবার কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের নতুন পর্যটন লোগোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন লোগোর নকশা করেছেন দেবজিৎ দত্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ-সহ পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি এবং পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা।
নতুন লোগো প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুধু পর্যটন দপ্তরের প্রতীক বদল নয়, বরং বাংলার পর্যটনকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নতুন লোগোর পাশাপাশি পর্যটন দপ্তরের নতুন সাজসজ্জা, নতুন সরকারি পরিচিতি এবং পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ স্মারকে সম্মান
অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পর্যটনমন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষের হাত দিয়ে বিশেষ স্মারক দিয়ে সম্মাননা জ্ঞাপন। পর্যটনের উন্নয়ন ও রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
গত ২৫ অগস্ট নবান্নে পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পর্যটন দপ্তরের অধীন সম্পত্তিগুলির আধুনিকীকরণ, রজ্জুপথ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, নতুন পর্যটনস্থল তৈরি, কর্মী নিয়োগ এবং বিবাহকেন্দ্রিক পর্যটনস্থল তৈরির মতো একাধিক বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই বৈঠকেই আজকের লোগো প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন পর্যটনমন্ত্রী।
৫০০ কোটি টাকা পর্যটনে, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
আজকের অনুষ্ঠানে বাংলার পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক বরাদ্দের কথাও সামনে এসেছে। পর্যটন খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে। এই অর্থ পর্যটন পরিকাঠামো, নতুন গন্তব্যের উন্নয়ন এবং পর্যটন পরিষেবা সম্প্রসারণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর ফলে নতুন লোগো শুধু একটি নতুন প্রতীক নয়, তার সঙ্গে আর্থিক বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের একটি নতুন অধ্যায়েরও সূচনা হল বলে মনে করছে পর্যটন মহল।
৩৬৫ দিনের পর্যটন—মন্ত্রীর বড় পরিকল্পনা
পর্যটনমন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বাংলার পর্যটনকে আর শুধু নির্দিষ্ট মরশুমের উপর নির্ভরশীল রাখা হবে না। সরকারের লক্ষ্য সারা বছর, ৩৬৫ দিন পর্যটন চালু রাখা।
প্রতিটি জেলাকে অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিত করে সেটিকে পরিকল্পিত ভাবে উন্নত ও প্রচার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলার প্রধান আকর্ষণকে নিয়ে পৃথক পর্যটন পরিকল্পনা এবং পর্যটন পরিক্রমা তৈরির কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
এর ফলে দার্জিলিং, ডুয়ার্স, সুন্দরবন বা দীঘার মতো প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের পাশাপাশি বাংলার অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত পর্যটনস্থলগুলিও পর্যটনের মানচিত্রে গুরুত্ব পেতে পারে।
পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য, নদী—এক ছাতার নীচে বাংলা
রাজ্যের পর্যটন ভাবনায় এবার বাংলার ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে একসঙ্গে তুলে ধরার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়, ডুয়ার্সের অরণ্য, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, দীঘা ও মন্দারমণির সমুদ্র, পুরুলিয়ার পাহাড় ও অরণ্য, বিষ্ণুপুরের মন্দির ও টেরাকোটা, নবদ্বীপ-মায়াপুরের ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং কলকাতার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে একটি বৃহত্তর পর্যটন পরিক্রমার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলাভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য তৈরি করার পরিকল্পনার কথা পর্যটনমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে কলকাতাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যটনস্থলকে যুক্ত করে পরিকল্পিত পর্যটন পরিক্রমা গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
নদীকেন্দ্রিক পর্যটনে বিশেষ জোর
বাংলার পর্যটনে নদীকে নতুন করে ব্যবহার করার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুগলি নদীকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব জলযান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। কলকাতার সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গন্তব্যকে জলপথে যুক্ত করে একটি পর্যটন পরিক্রমা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পর্যটন-সংক্রান্ত বৈঠকেও নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। ফলে আগামী দিনে জলপথ বাংলার পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
রজ্জুপথ থেকে নতুন পর্যটন পরিকাঠামো
পর্যটন দপ্তরের অধীন বিভিন্ন পর্যটন সম্পত্তির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নতুন পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে রজ্জুপথ চালু করা, নতুন পর্যটনস্থল তৈরি, পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন দপ্তরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলিকে আধুনিক করে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের পর্যটনস্থলগুলিতে ইতিমধ্যেই এক হাজারেরও বেশি সুযোগ-সুবিধা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। আগামী দিনে পর্যটকদের জন্য আরও উন্নত পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবাহ ও বাণিজ্যিক সম্মেলনকেন্দ্রিক পর্যটনেও জোর
পর্যটনকে শুধু বেড়াতে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিবাহ অনুষ্ঠান এবং বৃহৎ বাণিজ্যিক সম্মেলনকেন্দ্রিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দার্জিলিং, সুন্দরবন, দীঘা ও পুরুলিয়াকে সামনে রেখে কলকাতার সঙ্গে এই ধরনের পর্যটন পরিষেবাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪৫০ জন বিবাহ-পরিকল্পনাকারী ও রন্ধনশিল্পীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে বলে পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন।
নতুন লোগোর সঙ্গে নতুন পর্যটন দর্শন
নতুন লোগো প্রকাশের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য সম্ভবত এখানেই। প্রায় ১৫ বছর পর নতুন প্রতীকের আত্মপ্রকাশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনকে নতুন ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা শুরু হল।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যটন দপ্তরকে রাজ্যের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দপ্তরে পরিণত করা হবে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ভাবে যুক্ত করে কর্মসংস্থান তৈরি, নতুন বিনিয়োগ আনা এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বাংলার নতুন নতুন গন্তব্যকে তুলে ধরাই এখন মূল লক্ষ্য।
বাংলার পর্যটনের সামনে এখন নতুন পরীক্ষা
একদিকে নতুন লোগো, অন্যদিকে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ, সারা বছর পর্যটনের পরিকল্পনা, জেলা-ভিত্তিক গন্তব্য, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, রজ্জুপথ, নতুন পর্যটন পরিকাঠামো এবং বিবাহ ও সম্মেলনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসার—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার বড় পরিকল্পনাই স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে এই পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, পর্যটন পরিকাঠামোর মান কতটা উন্নত হয় এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বাংলার নতুন গন্তব্যগুলিকে কতটা কার্যকর ভাবে তুলে ধরা যায় তার উপর।
আজ ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে নতুন লোগোর আত্মপ্রকাশ তাই নিছক একটি প্রতীক উন্মোচনের অনুষ্ঠান নয়। এটি বাংলার পর্যটনের নতুন পরিচয়, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন দিশার সূচনা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকল।
Published on: সেপ্টে ৪, ২০২৬ at ১৫:৩৩
New Identity for Bengal Tourism as State Unveils New Logo After 15 Years
Chief Minister Suvendu Adhikari unveils new tourism logo at Dhanadhanya Auditorium; state targets year-round tourism with major investment and new initiatives
By Aniruddha Pal । Sangbad Prabhakar Times
SPT NEWS, Kolkata, September 4, 2026: West Bengal unveiled a new identity for its tourism department on Friday, with Chief Minister Suvendu Adhikari launching the department’s new logo at the Dhanadhanya Auditorium in Kolkata.
The new logo, designed by tourism industry professional Debjit Dutta, marks a significant change in the visual identity of West Bengal Tourism after nearly 15 years. Tourism Minister Dr Shankar Ghosh presented a special memento to the chief minister during the launch ceremony.
The logo launch comes as the state government seeks to reposition tourism as a major driver of economic activity and employment, with a renewed focus on attracting visitors throughout the year rather than concentrating tourism around traditional peak seasons.
Focus on 365-day tourism
The state has outlined a 365-day tourism strategy, under which individual districts are being encouraged to identify and develop destinations based on their distinctive cultural, natural and geographical strengths.
The government is also exploring new tourism circuits linking major destinations and creating more specialised travel experiences across the state.
Officials have indicated that the strategy will cover destinations ranging from the Himalayan hills and tea districts of North Bengal to the Sundarbans, coastal areas, heritage towns and religious centres.
New push for river and adventure tourism
River tourism has emerged as one of the key areas of the state’s new tourism strategy.
Plans under consideration include luxury cruises in the Sundarbans, improved water-based tourism facilities in the Digha-Mandarmani region, and the deployment of rescue boats and emergency water transport to improve safety for tourists.
The government is also looking at expanding ropeway connectivity in the hills, including a proposed link between Darjeeling and Kalimpong.
Wedding and business tourism
West Bengal is also seeking to establish itself as a destination for weddings, conferences and large-scale business events.
Darjeeling, the Sundarbans, Digha, Purulia and Kolkata have been identified among the destinations that could be developed further for such tourism.
The state has already begun engaging with wedding planners, chefs and other tourism stakeholders as part of efforts to build a stronger destination-based tourism ecosystem.
Attracting major hotel investments
Another major priority is attracting large hotel groups and private investment, particularly in North Bengal and other emerging tourism destinations.
The government has also highlighted the development and modernisation of tourism properties and visitor amenities. According to the state, more than 1,000 amenity centres have been created at tourism locations.
A new tourism circuit around Mayapur and Nabadwip is also being planned, with the aim of creating a more integrated pilgrimage and cultural tourism experience.
A wider tourism rebranding exercise
The new logo is part of a broader rebranding exercise by the state tourism department. Along with the new visual identity, the department is also set to introduce a new website, a new official ringtone and a new dress code.
The government has also announced a series of destination-specific initiatives, including festivals linked to balloons, kites, tea and oranges, as well as plans to promote heritage and experiential tourism in the hills.
The state’s latest tourism strategy represents an attempt to move beyond conventional destination promotion and build a more diversified tourism economy—linking nature, culture, heritage, adventure, pilgrimage, hospitality and business travel.
With the unveiling of the new logo, West Bengal Tourism is now seeking to project a new identity while preparing for a broader transformation of its tourism infrastructure and visitor experience.




