বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে গর্জে উঠল মধ্যপ্রদেশ

Main দেশ বন্যপ্রাণ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

ভারতের বন্যপ্রাণী রাজধানীহিসেবে আবারও গর্বের স্বীকৃতি

Published on: মার্চ ১৩, ২০২৬ at ১৭:৩৬

এসপিটি নিউজ: বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে আবারও নিজেদের অনন্য পরিচয় তুলে ধরল মধ্যপ্রদেশ। ১১টি জাতীয় উদ্যান, ২৪টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং ৯টি ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিশাল প্রাকৃতিক পরিসর নিয়ে রাজ্যটি নতুন করে প্রতিষ্ঠা করল—‘ভারতের বন্যপ্রাণী রাজধানী’ হিসেবে তার গর্বের মর্যাদা।

ভারতের অন্যতম প্রধান বন্যপ্রাণী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপন করেছে মধ্যপ্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যটি দেশের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিস্তীর্ণ বনভূমি, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং সুপরিকল্পিত সংরক্ষণ ব্যবস্থার ফলে মধ্যপ্রদেশ আজ শুধু ভারতের নয়, বিশ্বমানচিত্রেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ-পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাফল্যের জন্য মধ্যপ্রদেশ বহু বিশেষ পরিচয়ে পরিচিত। রাজ্যটি ‘ব্যাঘ্র রাজ্য’, ‘চিতাবাঘ রাজ্য’, ‘শকুন রাজ্য’, ‘ঘড়িয়াল রাজ্য’ এবং ‘নেকড়ে রাজ্য’ হিসেবেও স্বীকৃত। এই বহুমাত্রিক পরিচয়ই প্রমাণ করে যে, বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র জুড়ে বিস্তৃত বিপন্ন ও আইকনিক প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণে রাজ্যটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদবের নেতৃত্বে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের মধ্যে এক নতুন সমন্বয় তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার সংরক্ষণ কার্যক্রমের সাফল্যকে পর্যটন বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করে মধ্যপ্রদেশকে প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ-সচেতন পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

সম্প্রতি শেওপুর জেলার কুনো জাতীয় উদ্যানে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী ড. যাদব। সেখানে কুনো নদীতে ৫৩টি ঘড়িয়াল এবং ২৫টি বিপন্ন প্রজাতির ‘থ্রি-স্ট্রাইপড রুফড টার্টল’ অবমুক্ত করা হয়। এই পদক্ষেপ নদী-ভিত্তিক জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং বিরল জলজ প্রাণী সংরক্ষণে মধ্যপ্রদেশ সরকারের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। একইসঙ্গে কুনো এবং অন্যান্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটনের আকর্ষণ বাড়াতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য বন্যপ্রাণী পর্ষদের বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী বন ও পর্যটন দফতরের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পর্যটন উন্নয়নকে একত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশ সরকারের পর্যটন বিভাগের সচিব এবং মধ্যপ্রদেশ পর্যটন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইলায়রাজা টি. বলেন, বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস জীবনের সকল রূপের এক উদযাপন। তাঁর কথায়, মধ্যপ্রদেশ বিশ্ববাসীকে তার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে—যেখানে বাঘ ও চিতাবাঘ থেকে শুরু করে ঘড়িয়াল এবং শকুন পর্যন্ত নানা প্রজাতির প্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে বিচরণ করছে। দায়িত্বশীল বন্যপ্রাণী পর্যটন একদিকে যেমন দর্শনার্থীদের প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা করে।

রাজ্যের বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। বান্ধবগড়, কানহা, পেঞ্চ, পান্না এবং সাতপুরার মতো বিখ্যাত গন্তব্যগুলোতে পর্যটকরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঙ্গল টাইগার ও চিতাবাঘ দেখার সুযোগ পান। পাশাপাশি বিভিন্ন অভয়ারণ্যে সমৃদ্ধ উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের সমাহার প্রকৃতিপ্রেমীদের অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

রাজ্য সরকার বন্যপ্রাণীর সংখ্যা রক্ষা এবং পর্যটন বৃদ্ধি—দু’টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ শিক্ষা উন্নয়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রবেশপথ সহজতর করা থেকে শুরু করে গোষ্ঠীভিত্তিক পর্যটন মডেল প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের অংশগ্রহণও বাড়াচ্ছে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে মধ্যপ্রদেশ আবারও বিশ্ববাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার বিস্তৃত বন্য প্রান্তরে—যেখানে প্রকৃতি নিজের স্বাভাবিক ছন্দে বিকশিত হয়, বনের প্রতিটি পথে লুকিয়ে থাকে বন্যপ্রাণীর অনন্য উপস্থিতি, আর নদীর তীরে অপেক্ষা করে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

মধ্যপ্রদেশ—যেখানে বন্যপ্রাণী বিচরণ করে মুক্তভাবে, আর প্রকৃতি নিজের পূর্ণ মহিমায় বেঁচে থাকে।

Published on: মার্চ ১৩, ২০২৬ at ১৭:৩৬


শেয়ার করুন