বাঘের ঘরে ‘না’! কোর এলাকায় টাইগার সাফারি নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

Main দেশ বন্যপ্রাণ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

নতুন নির্দেশিকা: বাফার জোনের ‘অ-বনভূমি’তেই হবে সাফারি, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণই অগ্রাধিকার

Published on: নভে ২২, ২০২৫ at ২২:২০

এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ২২ নভেম্বর: ভারতের বাঘ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলির ‘কোর’ বা মূল সংবেদনশীল এলাকায় চএখন থেকে টাইগার সাফারি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো। সোমবার (১৮ নভেম্বর, ২০২৫-এর রায়ের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য) শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বাঘেদের অখণ্ড প্রজনন ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিক পর্যটনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাই-এর নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, টাইগার সাফারি স্থাপন করতে হবে শুধুমাত্র বাফার জোনের ‘অ-বনভূমি’ বা ‘অবক্ষয়িত বনভূমি’তে, এবং সেই স্থানটি কোনোভাবেই বাঘ চলাচলের করিডোরের অংশ হওয়া চলবে না।

মূল নির্দেশনাগুলি এক নজরে:
  • কোর এলাকায় নিষেধাজ্ঞা: ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলির মূল বা সংবেদনশীল আবাসস্থল কোনো প্রকার টাইগার সাফারি করা যাবে না।
  • সাফারির স্থান: সাফারি শুধু বাফার বা প্রান্তিক এলাকায়, অ-বনভূমিতে এবং বাঘের করিডোর বহির্ভূত জায়গায় করার অনুমতি মিলবে।
  • উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র: প্রতিটি সাফারি অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ বাঘ উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে, যেখানে সংঘাতপূর্ণ, আহত বা পরিত্যক্ত বাঘদের যত্ন ও পুনর্বাসন দেওয়া হবে।
  • নাইট ট্যুরিজম নিষিদ্ধ: ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভেতরে রাতের পর্যটন  সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ: পর্যটন এলাকায় (বিশেষত কোর হ্যাবিট্যাটে) মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • ইকো-সেনসিটিভ জোন (ESZ): সমস্ত রাজ্যকে এক বছরের মধ্যে টাইগার রিজার্ভগুলির চারপাশে ‘ইকো-সেনসিটিভ জোন’ (ESZ) ঘোষণা ও কার্যকর করতে হবে।
  • সংরক্ষণ পরিকল্পনা: রাজ্য সরকারগুলিকে তিন মাসের মধ্যে ‘টাইগার কনজারভেশন প্ল্যান’  প্রস্তুত বা সংশোধন করতে হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে কোর ও বাফার এলাকা চিহ্নিত ও বিজ্ঞাপিত করতে হবে।
  • বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ: বাফার ও প্রান্তিক এলাকায় বাণিজ্যিক খনন, দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্প এবং বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পর্যটনের বাণিজ্যিকীকরণ নয়, সংরক্ষণই মূল লক্ষ্য

সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য পর্যটন একটি মূল্যবান উপায় হলেও, এটি প্রায়শই ‘ব্যাপক বাণিজ্যিক পর্যটন’-এ পরিণত হয়েছে, যা বন্যপ্রাণ এবং বন বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত পরিবেশ-কেন্দ্রিক বিচার ব্যবস্থার নীতিকে প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে মানুষের স্বার্থের চেয়ে প্রকৃতির অভ্যন্তরীণ মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই রায় মূলত উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট টাইগার রিজার্ভের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ এবং গাছ কাটার মতো পরিবেশগত লঙ্ঘনের ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে দেওয়া হয়েছে।

এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে টাফি

ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (টাফি)-র ন্যাশনাল কমিটির সদস্য অনিল পাঞ্জাবি সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন- বাঘ সংরক্ষণের জন্য এই রায় অত্যন্ত কার্যকর । আমরা পর্যতন ব্যবসার সাথ জড়িত আছি , আমরাও চাই বাঘের সংরক্ষণ বেশি করে হোক। কোর এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার ফলে বাঘ তার শাবকদের নিয়ে স্বাধীন ভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারবে। পর্যটন ব্যবসার প্রসারে বাঘ সাফারি জনপ্রিয় হয়েছে। সারা বিশ্বে বাঘ সাফারি আমাদের দেশেই সবচেয়ে বেশি। এখন সেই সাফারি শুধুমাত্র বাফার এলাকায় হবে। সেখানে বাঘ দেখা না গেলেও বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তো দেখতে পাবেন পর্যটকরা। বাঘের সংরক্ষণের স্বার্থে এটুকু তো করা যেতেই পারে।“

আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপ দেশের বাঘ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে এবং বাঘেদের প্রাকৃতিক বাসস্থানকে মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Published on: নভে ২২, ২০২৫ at ২২:২০


শেয়ার করুন