নববর্ষে তারাপীঠে ভক্তদের ঢল, তারামায়ের চরণে প্রার্থনায় মগ্ন জনসমুদ্র

দেশ ধর্ম রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: এপ্রি ১৫, ২০২৬ at ১৬:২৯

এসপিটি নিউজ, তারাপীঠ, ১৫ এপ্রিল:  নববর্ষের সূচনালগ্নে বীরভূমের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ মন্দির-এ উপচে পড়ল ভক্তসমাগম। বছরের প্রথম দিনেই শুধু রাজ্য নয়, দেশজুড়ে নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ছুটে আসেন তারামায়ের দর্শন ও পুজো দিতে। ভোর হতেই মন্দির চত্বরে শুরু হয় দীর্ঘ লাইন, আর ক্রমে তা রূপ নেয় এক উৎসবমুখর পরিবেশে।

ইতিহাস বলছে, তারাপীঠে নববর্ষ উদযাপনের এই প্রথার সূচনা বহু প্রাচীন। ‘তীর্থভূমি তারাপীঠ’ গ্রন্থে প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, ১১০৭ বঙ্গাব্দে (১৭০১ খ্রিস্টাব্দে) সাধক আনন্দনাথের উদ্যোগে এবং রাজা রামচন্দ্রের সহায়তায় মায়ের মন্দিরে নববর্ষ উদযাপন ও বিশেষ পূজার প্রচলন শুরু হয়। সেই ধারাই আজও অবিচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে।

প্রচলিত রীতিনীতি মেনেই এদিন ভোরবেলা স্নান সেরে নতুন বস্ত্র পরে মায়ের দর্শনে আসেন ভক্তরা। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলেই তারামায়ের কাছে প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময় জীবনের জন্য। অনেকেই জীবনে বিবেক, বৈরাগ্য ও মানবিকতার বিকাশের আশীর্বাদ কামনা করেন।

মন্দিরের প্রবীণ সেবাইত প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এদিন তাঁরা ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। খাতার প্রথম পাতায় ‘স্বস্তিকা’ চিহ্ন ও ‘ঔঁ তারা’ লিখে তারামায়ের আরাধনার মাধ্যমে সারা বছরের আর্থিক সাফল্যের কামনা করেন। নিজের গৃহে তিনি এদিন মাতারার পুজো দেন।

সব মিলিয়ে, নববর্ষের প্রথম দিন তারাপীঠ যেন পরিণত হয় ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক মহামিলনক্ষেত্রে। তারামায়ের চরণে প্রার্থনার মধ্য দিয়েই নতুন বছরের সূচনা করেন হাজার হাজার ভক্ত।

 Published on: এপ্রি ১৫, ২০২৬ at ১৬:২৯


শেয়ার করুন