26 জুলাই: এসপিটি’র বাছাই করা দেশ-বিদেশের সেরা ভ্রমণ ও পর্যটন সংবাদ

Main দেশ বিদেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুলা ২৬, ২০২৫ at ১১:৫০

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৬ জুলাই :  আজ ২৬ জুলাই গোটা বিশ্বের নানা প্রান্তে একাধিক ভ্রমণ ও পর্যটন সংক্রান্ত খবর হয়ে চলেছে। তার মধ্যে বাছাই করা সেরা ভ্রমণ ও পর্যটনের খবর সংবাদ প্রভাকর টাইমস তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আমরা সর্বপ্রথম পশ্চিমবঙ্গ , পরে ভারত এবং একেবারে শেষে বিশ্বের সেরা ভ্রমণ ও পর্যটন বিষয়ক খবর তুলে ধরছি।

প্রথমেই আসি পশ্চিমবঙ্গে। সেখানকার বাছাই করা কয়েকটি খবর-

মাইথন-পাঞ্চেত-তিলাইয়াতে নতুন পর্যটন পরিকাঠামো: দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) মাইথন, পাঞ্চেত এবং তিলাইয়ার বিশাল জলাধারকে কেন্দ্র করে একটি বড় পর্যটন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে ওয়াটার স্পোর্টস (যেমন সার্ফিং, জেট স্কিইং, ওয়াটার স্কিইং), ভাসমান রিসর্ট এবং আধুনিক পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এর ফলে এই অঞ্চলে পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিভিসি আগামী চার মাসের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প: পশ্চিমবঙ্গ সরকার পর্যটন খাতে ৫,৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭০টি নতুন পর্যটন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণবঙ্গেই ৩৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রায় ৪০টি নতুন বিলাসবহুল হোটেল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মধ্যে শিলিগুড়িতে অন্তত ১০টি হোটেল গড়ে তোলা হবে। এই উদ্যোগগুলি রাজ্যের পর্যটন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করবে।

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় প্রভাব: থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দুর্গাপূজার ছুটিতে এই দেশগুলিতে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক কলকাতা থেকে অনেক পর্যটকের পরিকল্পনা থমকে গেছে। কলকাতার আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের প্রায় ৪০-৪৫% এই দুটি দেশে ভ্রমণ করেন, তাই এই সংঘাতের প্রভাব রাজ্যের আউটবাউন্ড ট্যুরিজমে পড়ছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “পর্যটন সহায়তা প্রকল্প”: কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের দ্বারা প্রভাবিত ভ্রমণ এবং পর্যটন খাতে কাজ করা সংস্থাগুলিকে সহায়তা প্রদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “পর্যটন সহায়তা প্রকল্প” এখনও চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য সংস্থাগুলি স্বল্পমেয়াদি মূলধনী ঋণ পেতে পারে।

আজ ভারতের ভ্রমণ ও পর্যটনের সেরা খবর:

ঝাড়খণ্ডে প্রথম মাইনিং ট্যুরিজম চালু: ঝাড়খণ্ড সরকার দেশের প্রথম মাইনিং ট্যুরিজম চালু করেছে, যেখানে পর্যটকরা খনির কার্যক্রম দেখতে পারবেন। এটি রাজ্যের পর্যটন শিল্পে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গোয়াতে পর্যটন প্রচার: গোয়া পর্যটন বিভাগ আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক রোডশো এবং ট্রেড এক্সপোতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। গোয়া ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা চালুর জন্যও কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছে। (Times of India)

চিনা পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা পুনরায় চালু: ভারত প্রায় পাঁচ বছর পর চিনা নাগরিকদের জন্য পর্যটন ই-ভিসা পুনরায় চালু করেছে। এটি ভারতের পর্যটন খাত, বিশেষ করে সংস্কৃতি ও ব্যবসার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

উত্তরপ্রদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (UPITS) 2025: উত্তরপ্রদেশ সরকার UPITS 2025-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ২৫-২৯ সেপ্টেম্বর গ্রেটার নয়ডার ইন্ডিয়া এক্সপো মার্টে অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী স্থান, মন্দির স্থাপত্য, থিম্যাটিক ট্যুরিজম সার্কিট এবং স্থানীয় হস্তশিল্প প্রদর্শিত হবে।

আর্টেরাল প্রদেশে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ: অরুণাচল প্রদেশের পর্যটন মন্ত্রী বেঙ্গালুরুকে পর্যটকদের জন্য একটি বিশাল বাজার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দক্ষিণ ভারত থেকে আরও পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন।

এছাড়াও, কিছু অন্যান্য খবরের মধ্যে রয়েছে:

 * আইএইচসিএল ১৫টি নতুন হোটেল খুলতে আম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপের সাথে চুক্তি করেছে।

 * রাডিসন হোটেল গ্রুপ ভারতের ইট্রাভেলি গ্রুপের সাথে ফ্লাইট বুকিং পরিষেবা চালু করেছে।

 * পর্যটন মন্ত্রক অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের জন্য সুরক্ষা নির্দেশিকা তৈরি করেছে।

আজকের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খবর:
১. বৈশ্বিক পর্যটন পুনরুদ্ধার এবং প্রবৃদ্ধি:

 রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক: ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন ২০১৯ সালের রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে (১.৪৬৫ বিলিয়ন)। ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকেও পর্যটকদের আগমন আরও ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে এ বছর নতুন রেকর্ড স্থাপন হতে পারে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

অর্থনৈতিক প্রভাব: পর্যটন খাত বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান এবং ব্যবসাকে সমর্থন করে। পর্যটকদের প্রত্যাবর্তন স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে এবং অবকাঠামোতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে।

২. ভিসা এবং প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত পরিবর্তন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা ফি: যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ-অভিবাসী ভিসা (পর্যটক, ছাত্র, ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, অস্থায়ী কর্মী এবং চিকিৎসা পর্যটক সহ) এর জন্য আবেদন করছেন, তাদের জন্য একটি নতুন $২৫০ “ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি” যুক্ত করা হয়েছে। এটি বিদ্যমান $১৮৫ আবেদন ফির অতিরিক্ত। ভারত, মেক্সিকো, ব্রাজিল এবং চীনের মতো দেশগুলির ভ্রমণকারীরা এতে প্রভাবিত হবেন, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মওকুফ প্রোগ্রামের আওতায় নেই।

 GCC গ্র্যান্ড ট্যুরস ভিসা: GCC (গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) দেশগুলো একটি সমন্বিত পর্যটন ভিসা, “GCC গ্র্যান্ড ট্যুরস ভিসা” অনুমোদন করেছে, যা ২০২৫ সালের শেষের দিকে চালু হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে ছয়টি সদস্য দেশ (বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত) একটি একক পারমিট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে।

শ্রীলঙ্কার ভিসা সুবিধা: শ্রীলঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভারত সহ বিভিন্ন দেশের জন্য বিনামূল্যে ভিসা সুবিধা বাড়িয়েছে।

৩. গন্তব্য এবং বাজার উন্নয়ন:

 দুবাইয়ের আকর্ষণ: দুবাই তার আইকনিক ল্যান্ডমার্ক এবং রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে আরও বেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে।

জর্জিয়ার পর্যটন আয় বৃদ্ধি: জর্জিয়া ২০২৫ সালে পর্যটন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা তাদের বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসাবে posicion করছে।

ভারত থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ: জাম্বিয়া এবং তাইওয়ানের মতো দেশগুলি ভারতীয় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে তাদের প্রচার চালাচ্ছে।

  গোয়ার আন্তর্জাতিক প্রচার: গোয়া সরকার আন্তর্জাতিক রোডশো এবং ট্রেড এক্সপোর মাধ্যমে গোয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করার জন্য ২৬.৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা পোল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানের মতো উদীয়মান বাজারগুলিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।

৪. ভ্রমণের প্রবণতা এবং নতুনত্ব:

  প্রযুক্তি-নির্ভর ভ্রমণ: অনলাইন বুকিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সেল্ফ-সার্ভিস চেক-ইন এবং কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্টের মতো প্রযুক্তিগুলি ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করে তুলছে।

 টেকসই এবং পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন: পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে, পর্যটকরা টেকসই ভ্রমণ এবং বাস্তু-পর্যটনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কোস্টারিকা, আইসল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মতো গন্তব্যগুলি এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

অভিজ্ঞতামূলক এবং নিমজ্জিত ভ্রমণ: পর্যটকরা এখন শুধু দর্শনীয় স্থান দেখার পরিবর্তে স্থানীয় সংস্কৃতিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক। রান্নার ক্লাস, কারিগর কর্মশালা এবং স্থানীয় পরিবারের সাথে থাকার মতো অভিজ্ঞতাগুলি জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রিক ভ্রমণ (Wellness Travel): যোগা রিট্রিট এবং ইকো-লজ-এর মতো কার্যকলাপগুলি মানসিক সুস্থতার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন ভ্রমণ: রেল ভ্রমণ ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বর্ধনশীল ভ্রমণ বিভাগগুলির মধ্যে একটি হিসাবে পূর্বাভাস করা হয়েছে।

Published on: জুলা ২৬, ২০২৫ at ১১:৫০


শেয়ার করুন