
Published on: জানু ১৩, ২০২৬ at ২৩:৫২
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি: অস্ত্রের ছায়া ছেড়ে উন্নয়নের আলোয় পা রাখতে চলেছে নকশাল অধ্যুষিত এলাকার দুই শতাধিক তরুণ। ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের অধীনে ‘মেরা যুব ভারত’ (পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা উত্তর)-এর উদ্যোগে তিলোত্তমায় আয়োজিত হতে চলেছে ১৭তম উপজাতি যুব বিনিময় কর্মসূচি। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে চলবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।
ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের অধীনে ‘মেরা যুব ভারত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘মেরা যুব ভারত কলকাতা উত্তর’-এর উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সমগ্র কর্মসূচিটির পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এক নজরে কর্মসূচির লক্ষ্য ও অংশগ্রহণকারী
এই আবাসিক কর্মসূচিতে ছত্তিশগড় (কাঙ্কের ও দান্তেওয়াড়া), মধ্যপ্রদেশ (বালাঘাট), মহারাষ্ট্র (গড়চিরোলি), ঝাড়খণ্ড (পশ্চিম সিংভূম) এবং ওড়িশার (কাঙ্কমাল ও মালকানগিড়ি) মতো নকশাল প্রভাবিত এলাকা থেকে ২০০ জন উপজাতি যুবক অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন বিএসএফ, আইটিবিপি এবং সিআরপিএফ-এর ২০ জন দক্ষ এসকর্ট অফিসার।
প্রেস কনফারেন্সে বিশিষ্টদের বার্তা
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর এন্ড রিসার্চ ফার্ম প্রফেসর শুভাশীষ বটকব্যাল, ডেপুটি ডিরেক্টর ড. কেশব চন্দ্র ধারা, ডিস্ট্রিক্ট ইউথ অফিসার প্রিয়াঙ্কা ঘোষ এবং ইন্দ্রজিৎ কুমার।
- প্রিয়াঙ্কা ঘোষ (ডিস্ট্রিক্ট ইউথ অফিসার): তিনি জানান, “ভারতের উন্নতি সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা। এজন্য তাদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হবে। তাতে তারা যাতে একটি প্ল্যটফর্ম পায় যে এই নতুন ভারতে যেসব উন্নয়ন হয়েছে সেই বিষয়ে তাদের অবহিত করা। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নকশাল অধ্যষিত এলাকার যুবকদের ভারতের উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন করা। তারা যাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারে, তাই তাদের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বেলুড় মঠ, সায়েন্স সিটি এবং বিবেকানন্দ হাউসে নিয়ে যাওয়া হবে। এটি একটি সাত দিনের আবাসিক প্রোগ্রাম যা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই অনুষ্ঠিত হবে।”
- প্রফেসর শুভাশীষ বটকব্যাল: তিনি বলেন, “আমাদের উপাচার্য যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে অত্যন্ত আগ্রহী। আমরা এই তরুণদের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে প্রাণিপালন, মৎস্যচাষ এবং দুগ্ধ প্রযুক্তির পাঠ দেব, যাতে তারা স্বনির্ভর হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।”
- ড. কেশব চন্দ্র ধারা: তাঁর মতে, “২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে বিভ্রান্ত যুব সমাজকে মূল স্রোতে ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। ধারাবাহিকভাবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিলে প্ররোচনা থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব হবে।”
প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও সাংস্কৃতিক বিনিময়:
সাত দিনব্যাপী এই মেলায় অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এছাড়াও জাতীয় সংহতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভারতীয় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশেষ সেমিনার আয়োজিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের লোকসংস্কৃতিও তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম পাবেন।
নিরাপত্তা ও ফিডব্যাক:
অনুষ্ঠান শেষে এই যুবকরা যখন নিজ রাজ্যে ফিরবেন, তখন সেখানে একটি সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা এই সাত দিনে কী শিখলেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফিডব্যাক নেওয়া হবে। পরবর্তীকালে নিরাপত্তা আধিকারিকরা তাঁদের সসম্মানে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেবেন।
এই উদ্যোগ কেবল একটি ভ্রমণ বা বিনিময় কর্মসূচি নয়; এটি প্রান্তিক উপজাতি যুবকদের ‘জাতি গঠনের স্থপতি’ হিসেবে গড়ে তোলার এক নীরব বিপ্লব। কলকাতার মাটি থেকে সংহতি আর প্রগতির যে পাঠ তারা নিয়ে যাবেন, তা আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।


Published on: জানু ১৩, ২০২৬ at ২৩:৫২



