
Published on: আগ ১৯, ২০২৬ at ১৬:০২
এসপিটি স্পোর্টস ডেস্ক: গলের কঠিন পঞ্চম দিনে বল হাতে ইতিহাস গড়লেন তরুণ বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার। তাঁর দুর্দান্ত দশ উইকেটের সৌজন্যে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। ৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। সুথার একাই নেন ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে তাঁর শিকার ছিল চার উইকেট। ফলে ম্যাচে তাঁর মোট সংগ্রহ ১০ উইকেট।
ভারতের এই জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার মাটিতে গলের মতো স্পিন-সহায়ক পরিবেশে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের কার্যকারিতা আরও একবার প্রমাণিত হল। একই সঙ্গে তরুণ সুথারের উত্থান ভারতীয় টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ স্পিন-পরিকল্পনাকেও নতুন মাত্রা দিল।
ব্যাট হাতে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন পাডিক্কাল
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রান তোলে। ভারতের ইনিংসের মূল স্তম্ভ ছিলেন দেবদত্ত পাডিক্কাল। তিন নম্বরে নেমে তিনি ১৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন—তাঁর প্রথম টেস্ট শতরান। ২৩০ বলের ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছয়। তাঁকে দারুণভাবে সাহায্য করেন কেএল রাহুল। ক্র্যাম্পের কারণে সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়তে হলেও পরে ফিরে এসে রাহুল করেন ৮২ রান। ঋষভ পন্থের আগ্রাসী ব্যাটিং এবং ধ্রুব জুরেলের ৫১ রান ভারতের স্কোরকে আরও শক্তিশালী করে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রভাত জয়সূর্য চারটি এবং অভিষেককারী কেশরা নুয়ান্থা তিনটি উইকেট নিলেও ভারতের বড় স্কোর আটকানো সম্ভব হয়নি।
প্রথম ইনিংসেই সুথারের আঘাত
ভারতের ৪৬২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। সোনাল দিনুশার শতরান শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা লড়াইয়ে রেখেছিল। কিন্তু ভারতীয় স্পিনাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করেন। সুথার প্রথম ইনিংসে ২১.৪ ওভারে ৭৬ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। রবীন্দ্র জাদেজাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারত শেষ পর্যন্ত ১৭৮ রানের বড় লিড পায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে পন্থের পাল্টা আঘাত
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত দ্রুত রান তুলে শ্রীলঙ্কার সামনে ৩৭২ রানের লক্ষ্য রাখে। ঋষভ পন্থের ৬৬ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস ভারতের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেয়। এই ম্যাচেই টেস্ট ক্রিকেটে ১০০টি ছয় পূর্ণ করেন পন্থ—এই মাইলফলকে পৌঁছনো প্রথম ভারতীয় এবং দ্রুততম ব্যাটার তিনি।
শেষ পর্যন্ত ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১৯৩ রানে। শ্রীলঙ্কার সামনে দাঁড়ায় ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য।
শেষ দিনে ‘মানব’-ঝড়
শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮৮ রান। দিনের শুরুতে তারা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সুথার বল হাতে নামার পর ছবিটা দ্রুত বদলে যায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৫৫ নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। শেষদিকে মাত্র ১০ বলের মধ্যে চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের শেষ অধ্যায় দ্রুত লিখে ফেলেন সুথার। শ্রীলঙ্কা ২০৬ রানে অলআউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১৬৫ রানের জয় নিশ্চিত হয় ভারতের। এটি সুথারের টেস্ট কেরিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে জুনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টেই তিনি প্রথম ইনিংসে ৬/৩৩ নিয়েছিলেন এবং ম্যাচে সাত উইকেট নিয়ে ভারতকে ঐতিহাসিক ইনিংস ও ৩০০ রানের জয় পেতে সাহায্য করেছিলেন। অর্থাৎ মাত্র দুই টেস্টেই সুথার দেখিয়ে দিলেন, তিনি শুধুমাত্র ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হওয়া একজন স্পিনার নন—প্রয়োজনে বড় মঞ্চে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে।
গলের পিচে পেসারদেরও বড় ভূমিকা
গল সাধারণত স্পিনারদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই টেস্টের চতুর্থ দিনে ম্যাচের গতিপথ কিছুটা ভিন্ন ছিল। ১৪টি উইকেটের মধ্যে আটটি পান পেসাররা। ফলে ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে গলের উইকেটের চরিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ভারতের হয়ে সুথারের পাশাপাশি প্রসিধ কৃষ্ণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। শেষ ইনিংসে তিনি ২/১৬ নিয়ে শ্রীলঙ্কার লোয়ার অর্ডারের ওপর চাপ বজায় রাখেন।
WTC লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়
ভারতের জন্য এই জয়ের গুরুত্ব শুধু সিরিজে ১-০ এগিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ভারত ও শ্রীলঙ্কা—দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের সন্ধানে ছিল। সিরিজ শুরুর আগে ভারত ছিল WTC টেবিলে পঞ্চম এবং শ্রীলঙ্কা ষষ্ঠ স্থানে। ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ঘরের বাইরে মূল্যবান পয়েন্ট সংগ্রহ করে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। গলের জয়ে ভারত সেই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ এগোল। যদিও এখনও অনেক ম্যাচ বাকি, এই জয় শুবমন গিলের নেতৃত্বাধীন নতুন ভারতীয় টেস্ট দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
নজরে এখন কলম্বো
গলের জয় ভারতের হাতে সিরিজের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৩ আগস্ট কলম্বোয়। প্রথম টেস্টের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে মানব সুথার। রবীন্দ্র জাদেজার অভিজ্ঞতার পাশে তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনারের উত্থান ভারতীয় টেস্ট দলের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি করছে।
গলে ১০ উইকেট নিয়ে সুথার শুধু একটি টেস্ট জেতাননি—ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের স্পিন আক্রমণের দরজাও যেন খুলে দিলেন।
Published on: আগ ১৯, ২০২৬ at ১৬:০২






