ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে আরও এক পদক্ষেপঃ ৩০০টি দ্বিতল বাস ক্রয়ের চুক্তি সাক্ষরিত

Main অর্থ ও বাণিজ্য দেশ বাংলাদেশ বিদেশ
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদদাতা– ইবতাসুম রহমান

Published on: আগ ২৯, ২০১৮ @ ২৩:৫৫

এসপিটি নিউজ, ঢাকা, ২৯ আগস্টঃ বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত সব রকমের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সবসময় চায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ উন্নয়নে নিজের জায়গা শক্ত করুক। তাতে ভারত সবসময় তাদের পাশে থাকবে। তারই অঙ্গ হিসেবে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের দ্বিতীয় ঋণরেখার আওতায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য ৩০০টি দ্বিতল বাস ক্রয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হল বুধবার। বাংলাদেশের ঢাকায় সোনারগাঁও-এর হোটেল প্যান পাসিফিকে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের পক্ষে উপ্সথিত ছিলেন সেদেশের সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া, অশোক লেল্যান্ড-এর পক্ষে রাজীব শাহারিয়া এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

এদিন ভারতীয় হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে প্রথমেই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারার জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,” উন্নয়ন সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উদিত হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের বছরগুলোতে সামান্য থেকে শুরু করে আকার এবং আয়তনে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি বাস্তবায়নের সাথে সাথে বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হয়ে উঠেছে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন,”এই ঋণচুক্তিগুলোতে পরিবহণ, সড়ক, রেল, বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষার মতো বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঋণচুক্তিসমূহ ছাড়াও ভারত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, সংস্কৃতি, নগর উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকগুলো অনুদান প্রকল্প গ্রহণ করছে।”

বাংলাদেশে সড়ক পরিবহনে নতুন দিশা খুলতে চলেছে। আস্তে চলেছে এক নয়া গতি। সেই নিরীখে শ্রিংলা বলেন,”বাংলাদেশকে দেয়া প্রথম ঋণচুক্তির অধীনে বাস্তবায়িত সফল প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে ৩০০টি দ্বিতল, ১০০টি একতলা বিশিষ্ট এবং ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস ক্রয়ের প্রকল্পটি স্মরণ করছি।এরপর বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় দ্বিতীয় ঋণচুক্তির অধীনে ৩০০টি দ্বিতল, ২০০টি এসি বাস এবং ১০০টি একতলা বিশিষ্ট নন-এসি বাস কিনছে। আমার কোনও সন্দেহ নেই যে, বিআরটিসি বহরে এই অত্যাধুনিক বাসগুলোর সংযোজনের ফলে বাংলাদেশ গণপরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।এছাড়াও বাংলাদেশ ভারতীয় দ্বিতীয় ঋণচুক্তির অধীনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য ৩৫০টি ১৬.২ টন এবং ১৫০টি ১০.২ টন ট্রাক সংগ্রহ করবে।”

অশোক লেল্যান্ড সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন,”অশোক লেল্যান্ড ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাতা, বিশ্বব্যাপী ৪র্থ বৃহত্তম বাস নির্মাতা এবং ট্রাকের ১২শ বৃহত্তম নির্মাতা। এটি একটি ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০১৭-২০১৮) কোম্পানি; যার কর্মকাণ্ড ৫০টিরও বেশি দেশে প্রসারিত এবং এটি বিশ্বের পুরোপুরি সমন্বিত নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি। গতবছরেই ইফাদ গ্রুপের সাথে মিলে ধামরাইতে একটি ট্রাক সংযোজন কারখানা চালু করেছে অশোক লেল্যান্ড। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ চুক্তির আওতায় ইফাদ গ্রুপ মংলা বন্দর দিয়ে অশোক লেল্যান্ড গাড়ি আমদানি শুরু করেছে।”

একই সঙ্গে শ্রিংলা বাংলাদেশে গাড়ি কোম্পানির প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “টাটা মোটরস এবং হিরো মোটোকর্পসহ অন্যান্য ভারতীয় মোটরগাড়ি কোম্পানি বাংলাদেশে একটি দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি খুঁজছে এবং দেশের মধ্যে উৎপাদন কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগ করেছে।”

“আমি মাননীয় মন্ত্রীকে তাঁর উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি তাঁকে ভারত সরকারের ঋণচুক্তির অধীনে ভারতীয় বিক্রেতাদের দ্বারা এই বাসগুলোর দ্রুততম এবং গুণগত সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে চাই।” বলেন শ্রিংলা।

Published on: আগ ২৯, ২০১৮ @ ২৩:৫৫

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *