বাংলার পর্যটনের বার্তা নিয়ে মালয়েশিয়ায় টাফি’র কনভেনশনে যোগ দিতে রওনা হলেন অনিল পাঞ্জাবি

Main দেশ বিদেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Published on: সেপ্টে ১৯, ২০২২ @ ১৭:৫৪
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর: পর্যটনে পিছিয়ে নেই বাংলাও। বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূর্ণ বাংলার এমন সুন্দর পর্যটনের বার্তা নিয়ে আজ কলকাতা থেকে মালয়েশিয়ায় রওনা হলেন ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া বা টাফি’র চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি। আগামিকাল থেকে সেখানে শুরু হতে চলেছে টাফি’র কনভেনশন। রওনা হওয়ার আগে সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অনিল পাঞ্জাবি জানালেন মালয়েশিয়ায় বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। মালয়েশিয়া থেকে বাংলায় আরও বেশি মানুষ আসুক এবং তারা ঘুরে দেখে যাক এখানকার অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

টাফি’র কনভেনশন মালয়েশিয়ায়

আগামিকাল মালয়েশিয়ায় কুচিং শহরে শুরু হচ্ছে টাফি কনভেনশন ২০২২। সেখানে ভারত থেকে প্রায় ৫০০জন ট্রাভেল এজেন্ট উপস্থিত থাকছেন। স্বভাবতই টাফি’র চেয়ারম্যান হিসাবে হাজির থাকছেন অনিল পাঞ্জাবি। তিনি একটু খুলে বললেন মূল বিষয়টা। কারণ, এই নিয়ে তৃতীয়বার মালয়েশিয়ায় টাফির কনভেনশন হতে চলেছে। কেনই বা এতবার একই  দেশে হচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বললেন- ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় কুয়ালালামপুরে প্রথম বার টাফি’র কনভেনশন হয়েছিল। তার আগে সেভাবে ভারতের অনেকেই কুয়ালালামপুরের নাম শোনেনি। এই কনভেনশনের পর ট্রাভেল এজেন্টদের কাছ হেকে সারা ভারতে নামটা ছড়িয়ে পড়ে। কুয়ালালামপুরেও যে পর্যটনের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে সেটাও তৈরি করে টাফি। সেই থেকে মালয়েশিয়া সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করে। এরপর ফের দ্বিতীয়বার ২০০৭ সালে আবারও মালয়েশিয়ায় আরও এক নতুন জায়গায় কনভেনশন হয় টাফি’র। এবার তৃতীয়বার হতে চলেছে কুচিং শহরে।

মালয়েশিয়ায় ভারতীয় পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল

এই কথা বলে অনিল পাঞ্জাবি জানালেন- এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় সরকার ভারতীয় পর্যটকদের উপর কতটা নির্ভরশীল। এই জায়গাটাকেই আমি ধরতে চেয়েছি। এ রাজ্যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পর্যটনকে একটা নতুন রূপ দেওয়ার প্রয়াস নিয়েছে। গঠন করা হয়েছে টাস্ক ফোর্স। ইতিমধ্যেই সেখানে বলা হয়েছে যে আমরাও বিদেশে গিয়ে বাংলার পর্যটন নিয়ে রোড শো করি। এমন কি সেখানকার ট্রাভেল এজেন্টদের নিয়ে এসে বাংলায় ফ্যাম ট্রিপ করাই। তাহলে তাদেরও আমাদের বাংলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। এবার সেই দায়িত্ব আমি মালয়েশিয়া গিয়ে পালন করতে চাই।

আমার লক্ষ্য থাকছে এবার মালয়েশিয়ার পর্যটকদেরও যাতে বাংলায় আনা যায়-অনিল পাঞ্জাবি

“আসলে মালয়েশিয়া সরকার ভালমতোই জানে যে ভারতে সেই পর্যটন ব্যবসার সুযোগ আছে। তারা জানে ভারত আমাদের ব্যবসা দিতে পারে। এর আগেও আমরা ব্যবসা দিয়েছি। তাই এবার আমার লক্ষ্য থাকছে এবার ওদেরও যাতে এখানে নিয়ে আসা যায় সেই উদ্দেশ্য পূরণ করা। ওখান থেকে যাতে ওরাও এসে বাংলায় ঘুরে দেখে যায় সেদিকেও আমার নজর থাকবে। কারণ, বাংলায় তো সবই আছে। পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র সবই আছে। আমাদের এখানে কাঞ্চনঞ্জঙ্ঘার ্মতো হিমালয়ের পর্বত্মালা আছে। আছে ডুয়ার্সের মতো অরণ্যে ঘেরা জায়গা। আছে বক্সা তাইগার রিজার্ভ। আছে দীঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণী  কিংবা বকখালির সমুদ্র সৈকত। আছে বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন। যা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাসস্থান।” বলতে থাকেন পাঞ্জাবি।

মালয়েশিয়াকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করানোই হবে লক্ষ্য

সংবাদ প্রভাকর টাইমসকে অনিল পাঞ্জাবি বলেন- “আমি বাংলার একজন প্রতিনিধি হয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য একদিকে যেমন নিজের ব্যবসা বাড়ানো ঠিক তেমনই লক্ষ্য থাকবে এই সুযোগে আমার বাংলার পর্যটন ব্যবসার প্রসার বাড়ানোর। বাংলার দুর্গাপুজো যে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সম্মান পেয়েছে সেটাও তুলে ধরা আমার কাজ হবে।মালয়েশিয়া থেকেও কিছু লোক পুজো দেখতে আসছে। এটা একটা বড় প্ল্যাটফর্ম আছে। এর মাধ্যমে আমাদের সুনামকে আরও বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ থাকছে। এজন্য রাজ্য সরকার খুবই সহযোগিতা করছে। তারা আমাকে এটাও বলেছে যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আপনি যে কোনও জায়গায় গেলে আপনি এ রাজ্যের পর্যটনের প্রসারের বিষয়ে প্রচেষ্টা চালান। ওখানে পর্যটনের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখানে পর্টনের মেলা হবে সেখানে যাতে তারা অংশ নেয় সেটাও লক্ষ্য থাকবে এই সফরে।”

Published on: সেপ্টে ১৯, ২০২২ @ ১৭:৫৪


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •