সাফল্যের নতুন দিগন্ত ছুঁয়ে পর্দা নামল BTF 2026-এর, আগামী জানুয়ারির ১২তম সংস্করণের বার্তা দিয়ে বিদায়

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

পর্যটন ব্যবসার নতুন দিগন্ত, ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা— সাফল্যের ছাপ রেখে শেষ হল BTF 2026

Published on: জুন ২১, ২০২৬ at ২৩:৫৬

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২১ জুন: পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রশংসা, ভ্রমণপিপাসুদের বিপুল উৎসাহ, নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্যের সন্ধান এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ— সব মিলিয়ে সফলতার ছাপ রেখে শেষ হল বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট (BTF) ২০২৬। তিন দিনের এই পর্যটন উৎসবের সাফল্যকে পুঁজি করে আগামী জানুয়ারি মাসে ১২তম বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট আয়োজনের বার্তা দিয়ে রবিবার পর্দা নামল এবারের মেলার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিহার ট্যুরিজম, বোরোল্যান্ড ট্যুরিজম, ক্র্যাবি ট্যুরিজম এবং ঝাড়খণ্ড পর্যটনের প্রচারে অংশগ্রহণকারী ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ঝাড়খণ্ড (TAAJ)-কে বিশেষ স্মারক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।

বিটিএফ-এর চেয়ারম্যান সমর ঘোষ বলেন, “এই মেলার মূল লক্ষ্য ছিল ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ— সব ধরনের ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, পরিবহণ সংস্থা, হোটেল ব্যবসায়ী এবং হোমস্টে মালিকদের জন্য একটি কার্যকর ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে অংশগ্রহণকারীরা মেলার আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এখানে তাঁরা নতুন যোগাযোগ তৈরি করতে এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন।”

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল (ATSPB)-এর সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য জানান, “এই মেলার সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে আমাদের সংগঠনের সদস্যদের নিরলস পরিশ্রম। কোনও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার সাহায্য ছাড়াই এটিএসপিবি-র সদস্যরাই দিন-রাত এক করে পুরো মেলার পরিচালনা করেছেন।”

সংগঠনের সভাপতি সাগর গুহও সেই কথা স্বীকার করে বলেন, “এই সাফল্যের পিছনে সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য, তারক সাহা, যুগ্ম সম্পাদক সোমনাথ ঘোষাল, ভোলানাথ ঝা এবং দেবব্রত ভট্টাচার্যের অবদান অনস্বীকার্য। তবে আমাদের সকলের অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক সমর ঘোষের নেতৃত্বই এই মেলাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।”

এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটন সংস্থাগুলির স্টল দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, আগ্রা, বৃন্দাবন, কেরল, অমৃতসর, চণ্ডীগড়, ভিতরকণিকা, জলদাপাড়া এবং দারিংবাড়ির পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সাজানো স্টলগুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

হিমাচল প্রদেশের ‘হিমালয়া ডিসকভারি’, ‘সিমলা নেচার ভিলে’, উত্তরাখণ্ডের ‘চলো উত্তরাখণ্ড’, জয়পুরের ‘রাপমি হলিডেজ’, ‘পিঙ্ক প্যালেস’, ‘থর রিসর্ট’, ‘হোটেল আরিয়ান ভিলা’, ‘সৌরভ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’, ত্রিপুরার ‘কোহিনূর ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এবং ‘অনুসন্ধান’-এর স্টল দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

ঝাড়খণ্ড পর্যটনের প্রচারে অংশ নেওয়া ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ঝাড়খণ্ড (TAAJ) এবং গুজরাট গেটওয়ে এক্সপ্লোরের স্টলও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তবে এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গিয়েছে জলদাপাড়া ও ভিতরকণিকা কেন্দ্রিক পর্যটন প্যাকেজ নিয়ে। জলদাপাড়া ওয়াইল্ড হাট, জলদাপাড়া গোল্ডেন রিসর্ট এবং ভিতরকণিকা ইকো রিসর্টের স্টলে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও বর্ষার কারণে বর্তমানে জঙ্গল সাফারি বন্ধ রয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর পুনরায় জঙ্গল খুলে গেলে পর্যটকদের জন্য শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত সাফারি।

বর্ষাকালীন বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জলদাপাড়ায় ইলিশ উৎসব এবং সুন্দরবনে আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে চলা ইলিশ উৎসব নিয়েও আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সুন্দরবনের জনপ্রিয় পর্যটন সংস্থা ‘মান্নাদার সুন্দরবন’ ইতিমধ্যেই সেই আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পর্যটন মেলায় ট্রাভেল ট্রান্সপোর্টারদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। কেরালা ট্রান্সপোর্টার, হরিদ্বার কার রেন্টাল, জয়পুরের রিয়া ট্রাভেল ওয়ার্ল্ড এবং মানালি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের মতো সংস্থাগুলি তাদের পরিষেবা নিয়ে উপস্থিত ছিল।

সব মিলিয়ে BTF 2026 কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে গেল। পর্যটন শিল্পে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ যে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে এই মেলায়। একই সঙ্গে স্বল্প খরচে নিজেদের ব্যবসাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। অন্যদিকে, পুজোর আগে ভ্রমণপ্রেমীরা তাঁদের পছন্দের গন্তব্য বেছে নেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন।

সবশেষে দর্শকদের জন্য বিনামূল্যের লটারিতে আকর্ষণীয় পুরস্কার জয়ের সুযোগ ছিল বাড়তি আকর্ষণ। আর এই সবকিছুর সমন্বয়েই BTF 2026 হয়ে উঠেছে পর্যটন শিল্পের এক সফল মিলনমেলা, যা আগামী বছরের আরও বড় আয়োজনের স্বপ্ন দেখিয়ে গেল।

Published on: জুন ২১, ২০২৬ at ২৩:৫৬


শেয়ার করুন