

Published on: জানু ১১, ২০২৬ at ২৩:৪৫
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১১ জানুয়ারি : আজ শান্তির পথে হাঁটার ৭৮তম দিন। গেরুয়া বসনে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নীরবে এগিয়ে চলেছেন—হাতে কোনো অস্ত্র নেই, কণ্ঠে কোনো স্লোগান নেই, আছে শুধু অহিংসা, সহমর্মিতা আর মানবতার বার্তা। আর সেই সারির একেবারে মাঝখানে, নিঃশব্দে পা ফেলছে এক অবলা পথকুকুর—নাম তার অলোকা।
কলকাতার ব্যস্ত, কোলাহলমুখর রাস্তায় যেখানে বহু মানুষ পথকুকুর দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেন, বিরক্ত হন কিংবা তাড়িয়ে দেন—সেই শহর থেকেই অলোকা আজ উঠে এসেছে এক অনন্য মর্যাদায়। অপরিচিত একদল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সঙ্গে শিশুর মতো নিজেকে মানিয়ে নিয়ে, তাদের শান্তির জন্য হাঁটার কর্মসূচির নীরব সঙ্গী হয়ে উঠেছে সে। আজ অলোকা শুধু একটি পথকুকুর নয়—সে এক জীবন্ত বার্তা, সহাবস্থান ও করুণার প্রতীক।
কবে, কীভাবে এল অলোকা?
শুরুটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কলকাতার এক রাস্তায় শান্তির পদযাত্রা শুরু করেছিল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের দল। সেই সময়েই তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় অলোকা। কেউ ডাকেনি, কেউ খাবার দেখায়নি। তবুও সে থেকে যায়। দিনের পর দিন হাঁটে। কখনও ক্লান্ত সন্ন্যাসীদের পাশে বসে পড়ে, কখনও আবার সবার আগে এগিয়ে পথ দেখায়। ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নীরব সঙ্গী, গভীর বার্তা
বৌদ্ধ দর্শনে যেমন সব প্রাণের প্রতি করুণা আর সমতার কথা বলা হয়, অলোকা যেন সেই দর্শনেরই জীবন্ত রূপ। কোনো ভাষা না জেনেও, কোনো ধর্ম না বুঝেও সে বুঝেছে সঙ্গ, বুঝেছে শান্তি। তার উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়—শান্তি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; শান্তি সবার।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গল্প
সন্ন্যাসীদের শান্তির পদযাত্রা যেমন ধীরে ধীরে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তেমনই অলোকাও হয়ে উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত এক নাম। বিভিন্ন দেশের মানুষ এই পথকুকুরটির গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন। কেউ তাকে ডাকছেন “Peace Ambassador”, কেউ আবার বলছেন “The Dog Who Chose Peace”।
কলকাতার আয়না অলোকা
অলোকা আমাদের সামনে এক কঠিন প্রশ্নও তুলে ধরে। যে শহরে প্রতিদিন অসংখ্য পথপ্রাণী অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার হয়, সেখানে একটিমাত্র কুকুর কীভাবে ভালোবাসা আর বিশ্বাসের জোরে বিশ্বমানবতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে? অলোকা দেখিয়ে দিল—ভালোবাসা পেলে অবলা প্রাণীরাও কতটা দায়িত্বশীল, কতটা সংবেদনশীল হতে পারে।
শান্তির পথে একসাথে
৭৮তম দিনে দাঁড়িয়ে এই শান্তির হাঁটা এখন আর শুধু বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের কর্মসূচি নয়। অলোকাকে সঙ্গে নিয়ে তা হয়ে উঠেছে মানুষ আর প্রাণীর যৌথ যাত্রা—যেখানে সীমান্ত নেই, ভাষা নেই, ধর্ম নেই; আছে শুধু শান্তির ডাক।
আজ অলোকা হাঁটছে। হয়তো কালও হাঁটবে। আর তার প্রতিটি পদচিহ্ন আমাদের মনে করিয়ে দেবে—
শান্তির পথে হাঁটতে হলে আগে হৃদয়ে করুণা রাখতে হয়।

Published on: জানু ১১, ২০২৬ at ২৩:৪৫



