

Published on: মার্চ ২২, ২০২৬ at ২২:৩৩
এসপিটি নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং Iran—এই তিন শক্তির মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ভয়াবহ এই যুদ্ধে ইরানে হাজার হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল পক্ষে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার কড়া বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি জানান—অবিলম্বে Strait of Hormuz পুনরায় খুলে দিতে হবে, নচেৎ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে। এই হুঁশিয়ারি আসে এমন এক সময়ে, যখন তেহরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের তেল আবিব কর্তৃপক্ষের দাবি, রবিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের আরাদ ও দিমোনা শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় শিশুসহ ১০০–র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার পরেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি লক্ষ্যভেদ করে বলে জানা গেছে।
এর ঠিক একদিন আগে, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটির দিকে দুটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যদিও সেগুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে মার্কিন প্রশাসন ট্যাঙ্কারে বোঝাই থাকা ইরানি তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়।
তবে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। ইরান ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর।
এই প্রেক্ষাপটে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি আসলে চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ।” তাঁর দাবি, এই ধরনের হুমকি ইরানের জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
পেজেশকিয়ান আরও জানান, হরমুজ প্রণালী সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যারা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে, তাদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে যেকোনো ‘উন্মাদসুলভ হুমকি’র কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার সন্দেহে মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মারকাজ প্রদেশ থেকে ২৩ জন এবং গোলেস্তান প্রদেশ থেকে আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সামরিক তথ্য ফাঁস ও অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থানরত ১৫ জন ফার্সিভাষী ব্যক্তির সন্দেহজনক কার্যকলাপও চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা ইসরায়েলের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিল। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত তথ্য বিচার বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরান সরকার বিদেশে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমনকি দেশে তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কড়া বার্তা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার—দুই দিক থেকেই তেহরান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, কোনো চাপের মুখেই তারা নতি স্বীকার করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
Published on: মার্চ ২২, ২০২৬ at ২২:৩৩



