পর্যটনের পথে নতুন বন্ধন: ঝড়খালিতে TOWA-র প্রথম বনভোজন

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জানু ২৯, ২০২৬ at ০১:১৯
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, ঝড়খালি, ২৮ জানুয়ারি: সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোলে ঝড়খালিতে এক অভিনব বনভোজনের আয়োজন করল ট্রাভেল অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (TOWA)। রবিবার সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারবর্গকে নিয়ে এই বিশেষ ট্যুর ও বনভোজনের মধ্য দিয়ে বাংলার পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি বাংলার চিরন্তন কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়।

ঝড়খালি রয়্যাল সুন্দরবন ওয়াইল্ড রিসর্টে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন TOWA-র ৪১ জন সদস্য ও তাঁদের পরিজনেরা। কলকাতা থেকে বাতানুকূল বাসে মাত্র ১০৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সকলে পৌঁছন এই মনোরম রিসর্টে। ঘন জঙ্গলের বুক চিরে পিচ ও মোরামের সরু রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা এই রিসর্টের একদিকে যেমন বিস্তীর্ণ সবুজ অরণ্য, অন্যদিকে তেমনই কিছু দূর দিয়ে বয়ে চলেছে সুন্দরবনের নদী—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া এক অনন্য পরিবেশ।

এই রিসর্টের অন্যতম আকর্ষণ এখানকার কটেজগুলির নামকরণ। শীতলপাটি, ময়না, বাঁশরিয়ে, পুঁইমাচা, টাপুর টুপুর, অচিন পাখি, চন্দ্রখালি—এই নামগুলির মধ্য দিয়েই ফুটে উঠেছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। পর্যটকদের কাছে বাংলার সংস্কৃতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এমন ভাবনায় কটেজগুলির নাম রাখা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই অতিথিদের ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। উল্লেখ্য, এই বনভোজনে সংবাদ প্রভাকর টাইমস-এর পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেদক, যার সুবাদে এই স্মরণীয় আয়োজনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ার সুযোগ মেলে।

দুপুরের ভোজে ছিল বাঙালিয়ানার পূর্ণ স্বাদ—স্যালাড, সাদা ভাত, আলু ভাজা, ডাল, মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক, পাবদা মাছের ঝাল, চিকেন কষা, চাটনি, পাপড় ও রসগোল্লা। তার আগে পরিবেশন করা হয় আমুদে মাছ ভাজা ও চিকেন বল।

এই বনভোজনের মূল উদ্দেশ্য শুধু আনন্দ উপভোগ নয়, বরং সদস্যদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং পর্যটন ব্যবসার প্রসারে পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। TOWA-র যুগ্ম সম্পাদক বিতান চক্রবর্তী বলেন, “দু’-তিন মাস অন্তর নিজেদের মধ্যে দেখা হলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। ব্যবসায়িক আদান-প্রদান ভালো হয় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। ছোট উদ্যোগ হলেও এতে সমস্যা নেই, আসল কথা হল একটি কার্যকর ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।”

সংগঠনের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ কর্মকার সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন সফল অনুষ্ঠান করা সম্ভব হত না। আগামিদিনেও এই সহযোগিতা পেলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব।”

TOWA-র কোষাধ্যক্ষ সুপর্ণা চক্রবর্তী জানান, “এটাই আমাদের সংগঠনের প্রথম পিকনিক। TOWA এখনও ছোট হলেও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সকলের অংশগ্রহণেই এই কর্মসূচি সফল হয়েছে। ব্যবসা বাড়াতে হলে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে হবে। এই ধরনের মিটিং ব্যবসায়িক গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংগঠনকে একটি পরিবারের রূপ দেয়। সততা ও হৃদ্যতা বজায় রেখেই আমরা চাই TOWA একদিন পর্যটন শিল্পে মাথা উঁচু করে শীর্ষস্থানে পৌঁছাক।”

২০২৩ সালে গঠিত হওয়ার পর এই প্রথম এত বড় আকারে সদস্যদের নিয়ে এমন কর্মসূচি নিল TOWA। সংগঠনের লক্ষ্য শুধু নিজেদের ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি নয়, পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে সাধারণ বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও।বনভোজনে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে এদিন উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয় TOWA-র পক্ষ থেকে।

সব মিলিয়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে বাংলার সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও পর্যটন শিল্পকে এক সুতোয় বেঁধে TOWA-র এই বনভোজন এক স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল—যা আগামিদিনে বাংলার পর্যটনের পথে নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Published on: জানু ২৯, ২০২৬ at ০১:১৯


শেয়ার করুন