
আমরা প্রবাসীবৃন্দের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের নির্দেশনায় আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী
Published on: এপ্রি ২৮, ২০২৫ at ২০:২৮
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৮ এপ্রিল : ‘একং শাস্ত্রং দেবকীপুত্রগীতম”- সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য একক শাস্ত্র হোক শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।
সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের রানীসাই এলাকায় অখণ্ড গীতাযজ্ঞ ও সহস্র কন্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করে আমরা প্রবাসীবৃন্দ। আর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নির্দেশনায় ছিলেন অখণ্ড শ্রী ক্রিয়াযোগ সাধন মন্দির আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী । দু’দিন ধরে এক আধ্যাত্মিক চেতনায় রানীসাই এলাকা নবরূপ নেয়।

সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে এক বিবৃতিতে আচার্য্য দেবানন্দ শাস্ত্রী বলেন- “ এর আগে কিছুদিন আগে আমরা রামনগরে অখণ্ড শ্রী ক্রিয়াযোগ সাধন মন্দির আশ্রমের পক্ষ থেকে শস্র কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করেছিলাম। এবার আমরা প্রবাসীবৃন্দের পক্ষ থেকে আমার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে তারা এই গীতা পাঠের আয়োজন করবে। কিন্তু গোটা অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়। সেই মতো রানীসাই এলাকায় এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে গত ২৩ তারিখে নাম সংকীর্তন ও গীতা যজ্ঞের সূচনা করা হত। উপস্থিত ছিলেন- জুনা আখাড়ার শ্রীমৎ স্বামী ম্ররুত্যঞ্জয় গিরি মহারাজ, সাধ্বী কল্যাণী গিরি, রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী সদানন্দ মহারাজ, গঙ্গাসাগরের স্বামী চন্দ্রশেখর মহারাজ সহ আরও অনেক সাধু-সন্তরা। ছিলেন বহু সাধারণ মানুষ। পরদিন ২৪ এপ্রিলও একইভাবে নাম সংকীর্তন ও গীতা যজ্ঞ হয়।
শঙ্খ-উলুধ্বনি সহ শ্রীমদ্ভাগবদগীতার পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে পরিবেশ হয়ে ওঠে অতীব মনোরম। ভগবদ্গীতার বানী স্বয়ং পুরুষোত্তম ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী। তাই এই গ্রন্থ পাঠ করলে আর অন্য কোন বৈদিক সাহিত্য পড়বার দরকার হয় না। গভীর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নিয়মিতভাবে ভগবদ্গীতা শ্রবণ ও কীর্তন করলে আমাদের অন্তর্নিহিত ভগবদ্গীতার স্বাভাবিক বিকাশ হয়।

ভগবদ্গীতার ধ্যানযোগ ষষ্ঠ অধ্যায় শ্লোক ৪৭-এ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন- “যোগিনামপি সর্বেষাং মদ্গতেনান্তরাত্মনা। শ্রদ্ধাবান ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ।।“ অর্থাৎ যিনি শ্রদ্ধা সহকারে মদগত চিত্তে আমার ভজনা করেন, তিনিই সবচেয়ে অন্তরঙ্গভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত এবং তিনিই সমস্ত যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সেটিই আমার অভিমত।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৮তম অধ্যায় মোক্ষযোগে ৬৬ তম শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে যে বানী উল্লেখ করেছেন তা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই বানীর মাধ্যমে ভগবান পুরুষোত্তম বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এই জগতে শান্তি পেতে হলে তাঁর আশ্রয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বলছেন- “সর্বধর্মাণ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। অহং তাং সর্বপাপেভ্য মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।“ অর্থাৎ সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। তুমি শোক করো না।
রাণিসাইতে আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী্র পরিচালনায় আমরা প্রবাসীবৃন্দের ব্যবস্থাপনায় সহস্র কন্ঠে গীতা পাঠ স্থানীয় মানুষের মধ্যে এক আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ জাগ্রত করেছে। সকলেই চেয়েছে এমন গীতা পাঠ প্রতি বছর এভাবেই চলতে থাকুক। আর সকলে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অমৃতরস পান করার সুযোগ পাক।





Published on: এপ্রি ২৮, ২০২৫ at ২০:২৮



