

আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে হতে চলেছে BTF পর্যটন মেলা
Published on: এপ্রি ২৮, ২০২৫ at ১৮:০৭
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৮ এপ্রিল : পর্যটনের সঙ্গে থাকে কলকাতা। পর্যটনের কথা ভাবে কলকাতা। পর্যটন নিয়ে চলে কলকাতা। মেলার শহর কলকাতা। মিলনের শহর কলকাতা। সৌহার্দ্যের শহর কলকাতা। আমাদের প্রাণের শহর কলকাতায় আবারও আয়োজন হতে চলেছে এক সুন্দর পর্যটন মেলার। এই মেলা স্কলের। আমজনতার। আমার-আপনার সকলের প্রিয় পর্যটন মেলা বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট বা বিটিএফ। এর প্রধান আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল বা এটিএসপিবি। যাদের উদ্দেশ্য মহৎ। এই বিটিএফ থেকে যে লভ্যাংশ উঠবে তা দিয়ে তারা দুঃস্থ-অসহায় মানুষদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সমর ঘোষ।
কলকাতার সংস্কৃতি আর তার ঐতিহ্যকে বজায় রেখে এটিএসপিবি বিগত কয়েক বছর ধরে পর্যটন মেলার আয়োজন করে চলেছে। এই পর্যটন মেলায় কর্পোরেটের কোনও ছোঁয়া নেই। নেই মেলা করার নামে আর্থিকভাবে মুনাফা লোটা। নেই তথ্য-প্রযুক্তির দেখনদারি। আছে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার। পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছনোর সহজ সুযোগ। আছে সাধ্যের মধ্যে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে প্যাকেজ ট্যুরের লোভনীয় অফার ।
কলকাতায় এটিএসপিবি-র আয়োজনে এমন বি-টু-সি পর্যটন মেলার ব্যবস্থা আরও কয়েকটি সংস্থাকে আকর্ষণ করেছে। কিন্তু তাদের ব্যবস্থাপনায় অনেক গলদ থাকায় সেগুলি একেবারে ফ্লপ করেছে। এমনকি সেখানে স্টলের সংখ্যাও অনেক কম। অংশ নেওয়া অনেকেই মোটা টাকা দিয়ে স্টল দিয়ে নিরাশ হয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রভাকর টাইমস এমন অনেক পর্যটন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছে , যারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে বিটিএফ-এ অনেক কম পয়সায় স্টল দিয়ে অনেক বেশি সারা মেলে। যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই আমরা প্রতিবার এই এই পর্যটন মেলায় অংশ নেব। বিশেষ করে আয়োজকরা যেভাবে মেলায় অংশ নেওয়া পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য জল, খাবারের সুবন্দোবস্ত করে তা অনবদ্য। একথাও স্বীকার করে ভিন রাজ্য থেকে আসা বহু পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলেছে, আমরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক বড় বড় ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশ নিয়ে থাকি। কিন্তু কোথাও এমন ব্যবস্থা দেখি না। বিটিএফ আমাদের কাছে তা সেরা।
আসলে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস অব বেঙ্গল এমন একটি অ্যাসোসিয়েশন যেখানে পর্যটন ও ভ্রমণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত নানা ধরনের ব্যবসায়ীরা যুক্ত আছেন। শুধু বাংলা নয় সারা ভারতের নানা প্রান্তের এমনকি পার্শ্ববর্তী নেপাল-ভুটানের অনেক ব্যবসায়ীরাও এখানে আসেন। এবছর শুরুতে প্রথম যে শীতকালীন পর্যটন মেলার আয়োজন হয়েছিল সেখানে মোট ন’টি রাজ্য অংশ নিয়েছিল। বিটিএফ-এর ইতিহাসে যা অভুতপূর্ব। যত দিন যাচ্ছে বিটিএফ-এর প্রসার ততই বাড়ছে। এমনটাই জানালেন এটিএসপিবি-র সহ-সভাপতি সমর ঘোষ।
সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে একান্ত সাক্ষাৎকারে সমর ঘোষ জানান- “ আমাদের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। আমরা এই মেলা করি পর্যটন শিল্পকে মানুষের দোরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। একই ছাদের তলায় ভ্রমণপ্রেমী মানুষ এসে তার পছন্দের জায়গা বেছে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে ঘরে ফিরুন। আমরা তাদের সেই সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের দ্বিতীয় বা মূল উদ্দেশ্য হল- আর্থিকভাবে দুর্বল এমন মানুষদের সহায়তা করা। আর সে্টা আমরা করে থাকি এই বিটিএফ-এর লভ্যাংশের টাকা থেকেই। এবারেও যে ১৩,১৪ ও ১৫ জুন কলকাতায় নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের লাগোয়া ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বিটিএফ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবারও ১০০টির মতো বেসরকারি স্টল হবে। আশা করছি গতবারের চেয়েও বেশি রাজ্য পর্যটন বোর্ড অংশ নেবে। থাকছে ভারতের পর্যটন মন্ত্রকের কলকাতার ইন্ডিয়া ট্যুরিজমও। এই পর্যটন মেলার তঝেকে উঠে আসা লভ্যাংশ থেকে আমরা এবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসে ১০০জন বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাকে ধুতি ও শাড়ু দেব। পাশাপাশি পুজোর সময় কর্মরত যেসমস্ত অসহায় দুঃস্থ কর্মী অসুস্থ হবেন আমাদের সাধ্য মতো তাদের আমরা চিকিৎসার ভার বহন করব। আর্থিকভাবে এই কাজ আমরা করব। অবশ্যই একটা লিমিট থাকবে।
এই অনুষ্ঠানটি কেবল পর্যটন পেশাদারদের জন্য নয়। অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডারস অফ বেঙ্গল মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পর্যটন পেশাদারদের পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে সমাজকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে। এই কথা জানিয়ে এটিএসপিবি-র সভাপতি সাগর গুহ বলেন- আমরা গণমাধ্যমের কাছে আবেদন করছি যে তারা বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট সম্পর্কে আমাদের প্রচারে সহায়তা করুন, যাতে আরও বেশি মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে, স্ব-কর্মসংস্থান করতে পারে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে অবদান রাখতে পারে।“
একই আবেদন করেছেন এটিএসপিবি-র যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভটাচার্য ও তারক সাহা। দু’জনেই জানিয়েছেন, আমাদের সভাপতি সাগর গুহ এবং সমর ঘোষের সঙ্গে শমত পোষণ্ম করেই বলছি, এই পর্যটন মেলার উদ্দেশ্যই হল- সমাজে আর্থিকভাবে দুঃস্থ-অসহায় শিক্ষার্থী থেকে বয়স্ক সাধারণ মানুষেদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান। এই বিটিএফ থেকে যে লভ্যাংশ আসবে তা দিয়ে আমরা এই সামাজিক কাজ করব। এমনটাই আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ছবিটি গত ফেব্রুয়ারি মাসের বিটিএফ-এর ।
Published on: এপ্রি ২৮, ২০২৫ at ১৮:০৭



