পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন সাফল্যের মূলে এর অনন্য বৈচিত্র্য, গভীর সংস্কৃতি এবং কৌশলগত প্রচার- অনিল পাঞ্জাবি

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ২০, ২০২৫ at ২৩:৫৯

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২০ জুন : ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো পর্যটন নিয়ে বড় মাপের প্রচার নেই। নেই একাধিক রোড-শো। নেই পর্যটন নিয়ে বেশি মাতামাতি। আছে শুধু সঠিক পরিকল্পনা। মূল লক্ষ্য। আর পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন। সবার উপরে আছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন প্রকৃতি প্রেমিকের পর্যটন নিয়ে সুকৌশলী পর্যবেক্ষন আর ভাবনাচিন্তা আর তা কার্যকর করা। এভাবেই সারা দেশের মধ্যে পর্যটনে সেরা তিন রাজ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ( টাফি)-র ন্যাশনাল কমিটির মেম্বার অনিল পাঞ্জাবি এজন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন- পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন সাফল্যের মূলে আছে এর অনন্য বৈচিত্র্য, গভীর সংস্কৃতি এবং কৌশলগত প্রচার।

দু’দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মন্ত্রী বিধানসভায় ইন্দ্রনীল সেন বলেছেন- “এ রাজ্যে গত ছয় মাসে বিদেশি পর্যটক এসেছেন ২৭ লক্ষ ১১ হাজার ৭০৮ জন। এদের বেশিরভাগই এসেছেন ইউরোপ আর আমেরিকা থেকে।“ খোদ রাজ্যের বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ রাজ্যের পর্যটনের মানোন্নয়নের প্রশংসা করেছেন। একাধিক পর্যটন বিষয়ক অ্যাসোসিয়েশন নানা মত ব্যক্ত করেছে। কিন্তু টাফি’র অনিল পাঞ্জাবি মনে করেন এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা এ রাজ্যের পর্যটনের মানোন্নয়ন ঘটাতে সফল হয়েছে।

আর এক্ষেত্রে তিনি মনে করছেন- “পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন সাফল্যের মূলে রয়েছে এর অনন্য বৈচিত্র্য, গভীর সংস্কৃতি এবং কৌশলগত প্রচার। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিক গভীরতা এবং ঐতিহাসিক সমৃদ্ধির সমন্বয় ঘটায়, যা এটিকে ভারতীয় এবং বিদেশি উভয় ভ্রমণকারীদের জন্যই অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।

অনিল পাঞ্জাবি মনে করেন বাংলায় এমন কিছু দিক আছে যার প্রভাবে জোরদার প্রচার, ছাড়াই আজ লক্ষ লক্ষ পর্যটক বাংলায় ভ্রমণ করছেন। বাংলাকে শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র করে তোলার পিছনে মূল কারণগুলি হল- বিভিন্ন ধরণের পর্যটকদের অফার, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রবেশগম্যতা এবং অবকাঠামো, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় পর্যটন, চা পর্যটন এবং পাহাড়ি স্টেশন, প্রচারমূলক প্রচেষ্টা এবং ব্র্যান্ডিং আর সবশেষে সরকার ও নীতিমালার সহায়তা।

১. বিভিন্ন ধরণের পর্যটকদের অফার

পশ্চিমবঙ্গ একজন ভ্রমণকারীর জন্য যা কিছু চাইতে পারে তার সবকিছুই প্রদান করে:

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: যার মধ্যে আছে – কলকাতার ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, শান্তিনিকেতন, বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির মন্দির।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী: এখানে আছে- সুন্দরবন (ইউনেস্কো সাইট), ডুয়ার্স বন, দার্জিলিং পাহাড়।

পাহাড় থেকে সমুদ্র: এর মধ্যে আছে- উত্তরে হিমালয় (দার্জিলিং, কালিম্পং) থেকে দক্ষিণে দীঘা, মন্দারমনির মতো সৈকত পর্যন্ত।

২. সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

এটা এমন একটা দিক যা বহু পর্যটক বিশেষ করে বিদেশিরা বিশেষভাবে পছন্দ করে থাকে। এই যেমন-

এই স্থান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি।যাদের কথা সারা বিশ্ব জানে। রাজ্যের বর্তমান সরকারের জন্য বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায় আজ কলকাতা আরও একটি বিষয়ে বিশ্বখ্যাত হয়ে গিয়েছে , তা হল- দুর্গাপুজো। যা এখন ইউনেস্কো দ্বারা অস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। প্রাণবন্ত উৎসব, শিল্প, সঙ্গীত এবং থিয়েটারের দৃশ্য সাংস্কৃতিকভাবে আগ্রহী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

৩. প্রবেশগম্যতা এবং অবকাঠামো

বিমান (কলকাতা, বাগডোগরা বিমানবন্দর), রেলপথ এবং সড়কপথের মাধ্যমে সুসংযুক্ত।

কলকাতায় মেট্রো রেল, ক্রমবর্ধমান আতিথেয়তা খাত, বিলাসবহুল হোটেল, হোমস্টে। বিশেষ করে হোমস্টে তো স্রা ভারতের মধ্যে সেরা এই বাংলায়। আমাদের বাংলায় ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হোমস্টে আছে- ৫,৩২২টি।

৪. আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় পর্যটন

তীর্থস্থান বাংলায় কম নেই। শুধু কলকাতাতেই আছে বেশ কয়েকটি তীর্থস্থান। দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট, আদ্যাপীঠ, জৈদের পরেশনাথের মন্দির। আছে বেশ কিছু বৌদ্ধ মন্দির। যার মধ্যে কলেজ স্ট্রিটের মহাবোধি সোসাইটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আছে বেলুড়মঠ। আছে বীরভূমে তারাপীঠ। সতীর একান্নপীঠের মধ্যে কঙ্কালীতলা, আছে তারকেশ্বর। এছাড়াও গঙ্গাসাগর মেলা যা বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে একটি।

৫. চা পর্যটন এবং পাহাড়ি স্টেশন

দার্জিলিং তার চা বাগান এবং টয় ট্রেন (ইউনেস্কো ঐতিহ্য) এর জন্য বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত। কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং লেপচাজগত প্রকৃতি প্রেমী এবং মধুচন্দ্রিমা উপভোগকারীদের আকর্ষণ করে।

৬. প্রচারমূলক প্রচেষ্টা এবং ব্র্যান্ডিং

“এক্সপেরিয়েন্স বেঙ্গল – ভারতের সবচেয়ে মিষ্টি অংশ” এর মতো প্রচারণা রাজ্যের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে। ভ্রমণ প্রদর্শনীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ট্যুর অপারেটরদের সাথে অংশীদারিত্ব।

৭. সরকার ও নীতিমালার সহায়তা

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন বিভাগ সার্কিট (ঐতিহ্য, ধর্মীয়, পরিবেশগত, চা, ইত্যাদি) তৈরি করেছে। পর্যটন অবকাঠামো এবং পিপিপি প্রকল্পে বিনিয়োগ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (সর্বশেষ তথ্য অনুসারে) দেশীয় পর্যটক: বার্ষিক ৮ কোটিরও বেশি দর্শনার্থী।

আন্তর্জাতিক পর্যটক: বাংলা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ ৫-এর মধ্যে রয়েছে। বিদেশিদের দ্বারা ভারতের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা শহরগুলির মধ্যে কলকাতা অন্যতম।


শেয়ার করুন