
Published on: ফেব্রু ২৪, ২০২৬ at ২৩:৪৮
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৪ফেব্রুয়ারি : কলকাতায় সফলভাবে সম্পন্ন হল ‘টাফি মিট ২০২৬’। ভ্রমণ ও পর্যটন বাণিজ্যের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করে ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (TAFI)-র পূর্ব ভারত চ্যাপ্টার। রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্রাভেল এজেন্ট ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি কার্যত হয়ে ওঠে তথ্যবহুল ও দিশানির্দেশক এক মঞ্চ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই টাফি’র পূর্ব ভারতের চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি জানান, যুক্তরাজ্যের ই-ভিসা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সদস্যদের সামনে তুলে ধরাই এই সভার অন্যতম উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই কলকাতায় ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের মিশন হেড ভরত ডেভকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি বা জটিলতা না থাকে।
সভায় প্রথম গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনায় ভরত ডেভ স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল ভিসা স্টিকারের যুগ শেষ হতে চলেছে। আগামীদিনে অধিকাংশ আবেদনকারীই ডিজিটাল ই-ভিসা পাবেন। আবেদনকারীদের কেবল একবার বায়োমেট্রিক্স দেওয়ার জন্য ভিসা আবেদন কেন্দ্রে যেতে হবে, সেদিনই পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে। ভিসা মঞ্জুর হলে ই-মেলের মাধ্যমে জানানো হবে এবং একটি UKVI অ্যাকাউন্ট খুলে সেখান থেকেই ই-ভিসা অ্যাক্সেস করা যাবে। শিশু সহ সকল ই-ভিসাধারীর ক্ষেত্রেই এই অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, “সবটাই ডিজিটাল—শোনাতে জটিল লাগলেও বাস্তবে বিষয়টি খুবই সহজ।”
এরপর ইউরোপ ভ্রমণ নিয়ে বিশেষ প্রেজেন্টেশন দেন যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট সংস্থা হলিডেজ কার্নিভ্যাল গ্রুপ-এর প্রতিনিধি খুশরু পাদরিওয়ালা। তিনি জানান, ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে কাস্টমাইজড ইউরোপিয়ান ট্রাভেল রুট, অভিজ্ঞতামূলক ভ্রমণ ও নির্ভরযোগ্য অন-গ্রাউন্ড সাপোর্টের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সার্কিটের বাইরেও নতুন নতুন গন্তব্য, বিলাসবহুল ভ্রমণ, অবসর গোষ্ঠী ও ইনসেনটিভ ট্রাভেলের জন্য বিশেষ প্যাকেজ তৈরির উপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতীয় ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন।“ এদিন তার সাথে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব ভারতের প্রধান সঙ্গীতা শ।
ই-ভিসা প্রসঙ্গকে আরও বিশদে ব্যাখ্যা করেন ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের মিডিয়া হেড অমিত সেনগুপ্ত। তিনি জানান, ই-ভিসার ফলে আবেদনকারীদের বারবার ভিসা কেন্দ্রে যেতে হবে না এবং বিমান সংস্থা বা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রীর ভ্রমণ অনুমতি যাচাই করতে পারবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াই হবে দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত।
সভায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন বিভাগের অধ্যাপক মির আব্দুল সফিক। ‘অবিশ্বাস্য ভারত’কে বিশ্ব দরবারে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে তিনি উপস্থিত ট্রাভেল ব্যবসায়ীদের কাছে আবেগঘন আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে ভারত–ব্রিটেন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। সম্প্রতি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের ইডেন গার্ডেনে খেলা এবং সেই ম্যাচ ঘিরে ব্রিটিশ পর্যটকদের কলকাতায় আগমন—এই উদাহরণ তুলে ধরে পর্যটন কূটনীতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়।
সম্বর্ধনা জ্ঞাপন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সামগ্রিকভাবে, ‘টাফি মিট ২০২৬’ শুধু তথ্য আদান-প্রদানের মঞ্চই নয়, বরং ভারত ও ব্রিটেনের পর্যটন শিল্পের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দিল বলেই মনে করছেন উপস্থিত ট্রাভেল এজেন্ট ও ব্যবসায়ীরা।








Published on: ফেব্রু ২৪, ২০২৬ at ২৩:৪৮



