SAFE WILDLIFE: শ্রীলঙ্কায় হাতিগুলিকে খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্ত করতে পেরেছে

Main কোভিড-১৯ বন্যপ্রাণ বিদেশ ভ্রমণ
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। মানুষের পাশাপাশি এখন বন্য জীবজন্তুও নিরাপদ নয়। তাদের বিষয়েও নজর রাখা শুরু হয়েছে। সারা বিশ্বে এরকম একাধিক ন্যাশনাল পার্ক আছে। যেখানে রয়েছে নানা প্রজাতির জীবজন্তু। এই সময়ে তারা কেমন আছে। সেই খবর আমরা বিভিন্ন সূত্র ধরে জানার চেষ্টা করেছি। সংবাদ প্রভাকর টাইমস ‘সেফ ওয়াইল্ডলাইফ’ শিরোণামে এক ধারাবাহিক প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ তৃতীয় পর্ব।

Published on: এপ্রি ২৫, ২০২০ @ ২১:২৫

Reporter: Aniruddha  Pal

এসপিটি নিউজ, ২৫ এপ্রিল:  সাধারণ মানুষের কাছে এই সময় অত্যন্ত কঠিন মনে হলেও বন্যজীবদের কাছে কিন্তু দারুন সময়। যখন তারা নিজের মতো করে অরণ্যের নানা দিকে ছুটে বেড়াতে পারছে। করোনাভাইরাস মহামারীতে লকডাউনের জেরে শ্রীলঙ্কার জাতীয় উদ্যানগুলিতে এখন সেই ছবি বেশি করে ফুটে উঠেছে।যেখানে এতদিন পর্যটকরা সেখানকার হাতিগুলির খাওয়ার অভ্যাস বদলে দিয়েছিল। লকডাউন তাদের আবার পুরনো জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের শিকারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য শিকারবিরোধী কার্যক্রমও শুরু হয়ে গিয়েছে।

খাবারে জন্য মানুষের কাছে ছুটে আসে হাতি

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা আরও বেশি করে নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনার দ্বারা সে দেশের বন্যজীবনকে ঠিক রাখতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।শ্রীলঙ্কায় অন্যতম জনপ্রিয় ইয়ালা ন্যাশনাল পার্ক। এখানে প্রায় 350 টি হাতির মধ্যে জেমুনু অন্যতম। যাকে দেখার জন্য দর্শকদের ভিড় লেগেই থাকে এই পার্কে। এই হাতিটির বৈশিষ্ট্য হল- সে মানুষের হাত থেকে খাবার খাওয়ার জন্য বসে থাকে। এটা তার কাছে এখন এক নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। ইদানীং সে পর্যটক দেখলেই নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। ছুটে যায় মানুষের কাছে। সাফারির জিপ থেকে শুরু করে ময়লা ফেলার ট্রাকগুলিকে সে আটকে দেয়।ইয়ালার কমপক্ষে আরও দুটি এশিয়ান হাতি রয়েছে- নন্দিমিত্র এবং অর্জুন, যা দর্শনার্থীদের কাছে খাবার চাওয়ার জন্য পরিচিত।

শোনা যায়- র‌্যাম্বো উদোলাওয়ে জাতীয় উদ্যানের একটি হাতি এর পথিকৃত। সম্ভবত সেই হাতিটিই প্রথম মানুষের কাছ থেকে খাবার চাওয়ার অভ্যাস শুরু করে।নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে, ওই হাতিটি পার্কের মূল রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক বেড়া ধরে পা বেড়াতে শুরু করেছিল। তাকে দেখে পার্কের অন্যান্য হাতিগুলিও সেই একই অভ্যাসটি গ্রহণ করে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দেন

সংরক্ষণবাদীরা এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে হাতিগুলির সঙ্গে এই ধরনের ঘনিষ্ঠ মুখোমুখি হওয়া দুর্যোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। পার্ক কর্তৃপক্ষ তাই পর্যটকদের বারবার সতর্কতা জারি করে জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা যেন বন্য হাতিদের এভাবে না খাওয়ায়।কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা শোনেনি তারা।অবশেষে করোনাভাইরাস লকডাউন হাতিগুলিকে এই খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্ত করতে পেরেছে বলে মনে করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।এখন পার্কের ভিতর যান চলাচল বন্ধ হয়েছে এবং হাতিগুলির এ ধরনের খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ হয়েছে।

বন্যজীবন জীববিজ্ঞানী এবং আমেরিকা ভিত্তিক বন্যজীবন দাতব্য সংস্থা বোর্ন ফ্রি ফাউন্ডেশনের শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি মানোরি গুণওয়ার্ডেনার মতে- এই লকডাউনের অবস্থার অর্থ এই নয় যে হাতিগুলি ক্ষুধার্ত হবে।একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্রটিকে বলেন- “বন্য হাতি মানুষের কাছ থেকে খাবার চায় না। আসলে এই সব হাতিগুলির অভ্যাস বদলে দিয়েছিল পার্কে ঘুরতে আসা মানুষ। তারাই এরজন্য দায়ী। হাতিরা নিজেরাই নিজের খাবারে সন্ধান করে নিতে পারে।”

অভ্যাস ত্যাগ করবে না হাতিগুলি-গুণওয়ার্ডেনার

“এশিয়ান হাতি দৈনিক গড়ে 100 কেজি [220 পাউন্ড] গাছের খাবার লাগে, কাজেই পর্যটকরা এই সময় না এলেও তাতে বিশেষ কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে লকডাউন শীঘ্রই যে কোনও সময় শিথিল হলেও, হাতিগুলি কিন্তু তাদের অভ্যাস ত্যাগ করবে না এবং তাদের পরিশ্রমের জীবনে এত সহজে ফিরে যাবে না।বলছিলেন গুণওয়ার্ডেনার।

“হাতিদের জন্য, এক মাস এমনকি এক বছরও দীর্ঘকাল ধরা হয় না। তাদের স্মৃতিশক্তি ভাল। তাই পর্যটকরা যখন আবার জাতীয় উদ্যানগুলিতে প্রবেশ শুরু করবেন, তখন কিন্তু আবারও এই বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণীরা তাদের কাছে এসে খাবারের দাবি চালিয়ে যাবেন, ” বলছিলেন তিনি। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ যে এখন থেকে সতর্ক থাকবে তা তারা জানিয়ে দিয়েছে।”

লকডাউনে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যানগুলি

লকডাউনে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যানগুলি, যেমন- ইয়ালা, উদাওয়ালওয়ে, মিননারিয়া, কৌদুল্লা এবং হর্টন সমভূমিগুলিতেও একটি অবকাশ প্রদান করে,  যেখানে দীর্ঘসময় ধরে এসব চলার কারণে সেখানে তারা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছিল।ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কের ব্লক আই, যা রুহুনা জাতীয় উদ্যান নামে পরিচিত, যা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে, যেখানে কখনও কখনও যানবাহন চলাচল এত বেশি হয় যে পার্কের ভিতরে থাকা বন্যজীবন অবরুদ্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন সীমাবদ্ধ করতে এবং ট্রাফিককে স্বাচ্ছন্দ্য করতে বেশ কয়েকটি পদ্ধতির চেষ্টা করেছে, তবে এর মধ্যে কোনওটিরই দীর্ঘকাল ধরে কাজ হয়নি।

বন্য প্রাণীগুলির মধ্যে সর্বাধিক পরিদর্শন হার রয়েছে

বন্যজীবন সংরক্ষণ অধিদফতরের (ডিডাব্লুসি) বন্যজীবন রক্ষী প্রদীপ রথনায়েক সংবাদপত্রটিকে বলেন, “ইয়ালা জাতীয় উদ্যানের ব্লক আই এলাকার বন্য প্রাণীগুলির মধ্যে সর্বাধিক পরিদর্শন হার রয়েছে এবং পার্কের প্রাণীগুলি এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। লকডাউন চলাকালীন রথনায়াকে এবং তার সহযোগীরা পার্কে টহল অব্যাহত রেখেছেন।

“নিয়মিত দিনে, পার্কের ট্র্যাফিক এত বেশি হয় যে যানবাহনগুলি পশুপাখিগুলিকে অবরুদ্ধ করে দেয়। এই প্রাণীগুলিকে ব্যস্ত রাস্তাগুলি এড়িয়ে পার্কের ভিতরে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে লকডাউনে এখন তারা নির্দ্বিধায় চলাফেরা করছে, ” বলেন রথনায়েক।

“ঐতিহ্যগতভাবে, ইয়ালা জাতীয় উদ্যানটি সেপ্টেম্বর জুড়ে বন্ধ থাকে, এই সময় তাদের কাছে অফ-সিজন। যখন সেখানে গাছপালা শুকিয়ে যায়- প্রাণীদের কাছে তখন এক কঠিন সময়। তবে বর্তমান সময় অরণ্যের কাছে এক দারুন সময়। এ সময় গাছপালা সতেজ ও সবুজ থাকে। তাই লকডাউনে প্রাণীরা পরিবেশকে আরও ভালভাবে উপভোগ করতে পারছে।”

আরও একটি সুযোগ রয়েছে

  • ডিডাব্লুসি-র প্রাক্তন ডিরেক্টর সুমিত পিলাপিতিয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও একটি সুযোগ রয়েছে। শ্রীলঙ্কার এই সুযোগটি ব্যবহার করা উচিত যেভাবে পরিষেবাটি দেওয়া হচ্ছে সেখানে নিয়ম করে দেশের বন্যজীবন পর্যটন শিল্পকে পুনরায় গঠন করতে পারে।
  • তিনি শ্রীলঙ্কার জাতীয় উদ্যানগুলির শ্রেণিবিন্যাস পুনরায় মূল্যায়নের সুপারিশ করেছিলেন; উচ্চ-পর্যটন পর্যায়ের জন্য কয়েকটি বাছাই করা এবং ধীরে ধীরে যানবাহনের সংখ্যা সীমিত করা; এবং সেখানে আরও বেশি দর্শনার্থীদের যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার জন্য কম জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যানগুলির উন্নতি করা এবং আরও জনপ্রিয় পার্কগুলির উপর চাপ হ্রাস করা।

বন্যজীবন পর্যটনের মাধ্যমে যে আয় হয় তা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়, তবে এই সময় “ঘরকে সাজিয়ে রাখার” এবং সঠিকভাবে নতুন করে শুরু করার একটি আদর্শ সুযোগ রয়েছে-বলেছেন পর্যটন ও আতিথেয়তা বিশেষজ্ঞ শ্রীলাল মিঠাপালা এবং এশিয়ান ইকোট্যুরিজম নেটওয়ার্কের আন্তর্জাতিক বোর্ডের সদস্য।

সূত্রঃ মোঙ্গাবে

Published on: এপ্রি ২৫, ২০২০ @ ২১:২৫


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *