RTDC: রাজস্থান ভ্রমণে বাড়ছে বাঙালি পর্যটকদের সংখ্যা, সুরক্ষায় ‘পর্যটন পুলিশ’- Hinglaj Dan Ratnoo

এসপিটি এক্সক্লুসিভ দেশ ভ্রমণ সাক্ষাৎকার
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

  • রাজস্থান পর্যটন একটা দল হিসেবে কাজ করছে। এর ফলও মিলছে এখন হাতেনাতে।
  • গত বছরের তুলনায় এইবার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত লাভ হয়েছে।
  • রাজস্থান পর্যটন বিভাগের সচিব এবং রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নগমের চেয়ারম্যান বঙ্গ তনয়া আইএএস শ্রেয়া গুহ।
  • রাজস্থানে প্রতিটি মনুমেন্টে পর্যটন পুলিশ দায়িত্ব সামলাচ্ছে। যাদের ট্যুরিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ফোর্স বলা হয়।
  • “পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজস্থানে বেড়াতে যাওয়া যে কোনও পর্যটক যদি সেখানে গিয়ে রাত আড়াইটে নাগাদও ফোন করে সেই ফোনও আমি গ্রহণ করি।

Reporter: Aniruddha pal

Published on: নভে ৭, ২০১৯ @ ২৩:০২

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৭ নভেম্বর:   ভারতের পর্যটন মানচিত্রে প্রথম সারিতে যে রাজ্যগুলির নাম উঠে আসে তার মধ্যে অন্যতম রাজস্থান।পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এই রাজ্যের নানা ক্ষেত্রেই মিল আছে। পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে রাজস্থান ভ্রমন সদা সর্বদা প্রিয়। কিভাবে তারা পর্যটনকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে তারই উত্তর খুঁজতে সংবাদ প্রভাকর টাইমস পৌঁছে গেছিল কলকাতায় রাজস্থান পর্যটন বিভাগের অফিসে। মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নগমের পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক হিঙ্গলাজ দান রত্নু মহাশয়ের।তিনি জানিয়েছেন রাজস্থান পর্যটনের উন্নতির কিছু কথা।

“রাজস্থান পর্যটনে পশ্চিমবঙ্গের অনেক বড় যোগদান আছে। আর সেটা প্রতি বছরে বেড়েই চলেছে। এখন যে বৃদ্ধির ছবি দেখা যাচ্ছে তাতে দেশের ভিতরের পর্যটকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর পিছনে যেটা আছে তা হল পশ্চিমবঙ্গ ও রাজস্থানের সংস্কৃতিতে অনেক ক্ষেত্রেই মিল আছে। তাছাড়া আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক যা লক্ষ্য করা গেছে, তা হল পশ্চিমবঙ্গের যেসব পর্যটক আছে তারা আসলে অনেক গভীরভাবে এক একটা স্থান-দূর্গ-স্থাপত্য দেখেন। শুধু দেখেনই না, তা তারা মনের ভিতর লিখে রাখেন। তা কলম দিয়ে খাতায় লিখে রাখেন, যা তাদের ফাইলে স্থানান্তর করেন যাতে সেগুলি দেখে পরবর্তী সময়ে ফের রাজস্থানে ঘুরতে যেতে পারেন।” বলছিলেন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক হিঙ্গলাজজী।

রাজস্থান পর্যটনের বৃদ্ধির শতকরা হার

“রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগম এবং রাজস্থান পর্যটনের মধ্যে একটা সময় খুব খারাপ জায়গায় চলে গেছিল। কিন্তু এখন রাজস্থান পর্যটন এক নয়া ভিতের উপর দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। আর তা হচ্ছে পূর্ণ উৎসাহের সঙ্গে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে পর্যটন সচিব থেকে শুরু করে পর্যটন ডিরেক্টর থেকে এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর থেকে, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ফাইনান্স থেকে সকলে একটা টিম হিসেবে এত ভালো কাজ করে চলেছে তাতে গ্রোথ রেট আমরা দেখেছি গত বছরের তুলনায় এইবার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত লাভ হয়েছে।এটা আমাদের কাছে একটা শুভ লক্ষণ। আগামিদিনে আমরা এব্যাপারে আরও ভালো করতে পারব এই বিশ্বাস আমাদের আছে।”

এই সাফল্যের পিছনে মূল রহস্য 

  • “এর পিছনে মূল রহস্য যদি ধরেন তা হল এক দলগত ভাবনা, দল হিসেবে যে কোনও কাজ করলে তার সুফল মিলবেই। একটা সময় ছিল যখন সরকার ঠিক মতো পর্যটনকে নিয়ে এগোতে পারছিল না পরে অবশ্য সরকার সেটাকে ঠিক করতে পেরেছে আর তারই ফল পাচ্ছে এখন।কারণ সরকারে যে ব্যক্তি যত বেশি দায়িত্ববান হবে সেটা বেসরকারি ক্ষেত্রে হবে না।”
  • “এর পিছনে প্রধান কারণ হল- দলগত ভাবনা। যেটা আমাদের পর্যটনমন্ত্রী থেকে শুরু করে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং আমাদের পর্যটন বিকাশ নিগমের অফিসার, পর্যটন বিভাগের সচিব- এখানে আমার একথা বলতে গর্ব বোধ হচ্ছে যে আমাদের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মহোদয়া এবং চেয়ারম্যান, রাজস্থান ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন তাঁর জন্মভূমি এই পশ্চিমবঙ্গ। তিনি হলেন শ্রীমতি শ্রেয়া গুহ। আমার ওনার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। ম্যাডাম যখন বিকানীরের তৎকালীন জেলাশাসক ছিলেন সেইসময় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিলের সফর আমরা করিয়েছিলাম। আমি তখন পর্যটন বিভাগে সেখানে ডেপুটি ম্যানেজারের পদে ছিলাম।”
  • “সেখানে করণিমাতার এক মন্দির আছে। ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির। সেখানে দর্শন করতেই রাষ্ট্রপতি মহোদয়া এসেছিলেন। তিনি ৬৫ জনের এক প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছিলেন। তখন ম্যাডাম জেলাশাসক হয়ে খুবই ভালো কাজ করেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন- হিঙ্গলাজজী আপনাকে দায়িত্ব দিলাম- দেখবেন রাষ্ট্রপতির সফর যেন ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। আমি সেইসময় ওনার নেতৃত্বে কাজ করেছিলাম। ফের আমি ওনার নেতৃত্বে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। খুবই প্রতিভাশালী আধিকারিক শ্রীমতি শ্রেয়া গুহ মহোদয়া। বলা হয়, যে দলে সেনাপতি দক্ষ হয় সেই দলের জয় খুবই অনায়াসে সম্পন্ন হয়। পর্যটন মানচিত্রে রাজস্থান খুবই মহত্বপূর্ণ স্থান রেখেছে। আমার বিশ্বাস খুব শীঘই রাজস্থান ভারতের পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাবে।”

পর্যটকদের নিয়ে চিন্তা-ভাবনা – গড়া হয়েছে নয়া ফোর্স

“আমরা পর্যটকদের কথা সবসময় ভাবছি। কিভাবে তাদের আরও বেশি সুবিধা দেওয়া যায়। পর্যটন নিগমের মাননীয়া চেয়ারম্যান শ্রেয়া গুহ ম্যাডাম পর্যটকদের সুরক্ষায় পর্যটন পুলিশের ব্যবস্থা করেছেন, যাতে পর্যটকদের সাথে কোনরকম অশালীন আচরন কেউ না করে, কেউ যেন প্রতারণা না করতে পারে, কেউ যেন তাদের না ঠকাতে পারে। আমাদের রাজস্থানে প্রতিটি মনুমেন্টে পর্যটন পুলিশ দায়িত্ব সামলাচ্ছে। যাদের ট্যুরিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ফোর্স বলা হয়। সেই ফোর্সের জওয়ানরা ২৪ ঘণ্টায় পর্যটকদের সেবায় কর্তব্যরত আছে। এটা একটা অসাধারণ এক্সপেরিমেন্ট। তাছাড়া এমনিতে রাজস্থানকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাজ্য মানা হয়ে থাকে। রাজস্থানে পর্যটকদের অতিথি হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়- ‘অতিথি দেব ভবঃ।ঘর আয়ো মা জায়ো।’ অর্থাৎ যারা আমার ঘরে অতিথি রূপে আসেন তাঁদের আমরা সহোদরা ভাই হিসেবে দেখে থাকি।”

হেরিটেজ হোটেলের প্রসার

“একটা সময় ছিল যখন হেরিটেজ ভবনগুলি যা কিনা যত্নের অভাবে খারাপ হতে শুরু করেছিল তখন সরকার চিন্তা করেছিল এইসব হেরিটেজকে কিভাবে রক্ষা করা যেতে পারে। তখন তারা এইসব হেরিটেজগুলিকে হোটেল ইন্ডাস্ট্রিতে সংযুক্তি করে দিয়েছিল, যাতে সেইসব হেরিটেজ সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষন করা যায় আবার সেগুলি রক্ষাও পেয়ে যায়। একই সঙ্গে তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পথও বেরিয়ে আসে। এমন অনেক হেরিটেজ বিল্ডিং ছিল যা দেখলে লোকে বলবে এ তো ভুতূড়ে বাড়ি কিংবা হানা বাড়ি। আজ তা এক অসাধারণ হোটেলের রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের উপায় হয়েছে।”

প্রাচীন দূর্গ হয়েছে আজ অসাধারণ রেস্টুরেন্ট

“রাজস্থানের জয়শলমীর শহরের আশপাশ পালিওয়াল ব্রাহ্মণ জাতির বসবাসযোগ্য ৮৪টি গ্রাম খালি হয়েছিল- যার মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রাম ছিল কুলধারা, এর পর আছে খাবা যা মরুভূমি যাওয়ার পথে পড়ে। খাবার যে দূর্গ একসময় তা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় চলে গেছিল এখন সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট চালানো হচ্ছে। সেখানে আজ এক দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এরকম প্রতিদিনই রাজস্থান পর্যটনে নতুন কিছু হয়ে চলেছে। আমরা নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছি।”

পশ্চিমবঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক পালন করছেন অসাধারণ ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গে রাজস্থান পর্টন বিকাশ নিগমের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক হিঙ্গলাজ দান রত্নু পালন করে চলেছেন অসাধারণ ভূমিকা। যা পর্যটনের যুক্ত যে কোনও ব্যক্তিকেই উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তিনি জানালেন সেই কথা। সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে বললেন- “পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজস্থানে বেড়াতে যাওয়া যে কোনও পর্যটক যদি সেখানে গিয়ে রাত আড়াইটে নাগাদও ফোন করে সেই ফোনও আমি গ্রহণ করি। তাদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের উপায় করি। এই তো কিছুদিন আগে এমনই একটা ফোন এসেছিল। এই সুনাম এখনও পর্যন্ত আমি রক্ষা করে চলেছি। কারণ, আমার যে দুটো মোবাইল নম্বর আছে অফিস টাইমের পর অফিসের নম্বর আমার সেই মোবাইল নম্বরে ডাইভার্ট হয়ে যায়।”

পর্যটন থেকে যে রাজস্ব আদায় হয়

“রাজস্থানে যে রাজস্ব আদায় হয়ে তার মধ্যে পর্যটন থেকে ৩৫ শতংশ আসে। পর্যটক যারা আসে তারা শুধুমাত্র হোটেল কিংবা সাফারি করে না তারা যে কোনও ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু দিয়ে যায়। আপনি লাক্সারি ট্রেন বলুন, হস্তশিল্প বলুন সব ক্ষেত্রেই পর্যটনের প্রভাব আছে। এর ফলে রাজস্থান এবং পর্যটন একে অন্যের পরিপূরক।”

Published on: নভে ৭, ২০১৯ @ ২৩:০২


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *