ভিড়ের দিন শেষ! সাধারণ যাত্রীদের জন্য ১৭ হাজার নতুন কোচ আনছে রেল

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য রেল
শেয়ার করুন

Published on: জানু ৮, ২০২৬ at ১২:১৮
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, নতুন দিল্লি ও কলকাতা, ৮ জানুয়ারি: ট্রেনের সাধারণ কামরা মানেই বাদুড়ঝোলা ভিড়, গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা আর অসহ্য গরম—এই চেনা ছবিটা এবার আমূল বদলে যেতে চলেছে। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের রেল সফরকে মর্যাদাপূর্ণ করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। বন্দে ভারতের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের পাশাপাশি এবার সাধারণের ট্রেনের খোলনলচে বদলে দিতে রেকর্ড সংখ্যক নন-এসি ও জেনারেল কোচ তৈরির ‘মেগা প্রজেক্ট’ শুরু হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা: ৫ বছরে ১৭ হাজার আধুনিক কোচ

রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দুই অর্থবর্ষের মধ্যেই প্রায় ১০ হাজার নতুন এলএইচবি (LHB) কোচ রেলের বহরে যুক্ত হবে। যার বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

  • ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ: ৪,৮৩৮টি নতুন কোচ তৈরি হবে (২,৮১৭টি জেনারেল এবং ২,০২১টি স্লিপার)।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ: আরও ৪,৮০২টি আধুনিক কোচ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
  • আগামী ৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান: সর্বমোট ১৭,০০০টি নন-এসি কামরা তৈরি করে ট্রেনের সংখ্যা ও ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব লোকসভায় জানিয়েছেন, ভারতের রেল পরিষেবার মেরুদণ্ড হলো সাধারণ মানুষ। রেলের মোট সিটের ৭৮ শতাংশই সাধারণ ও নন-এসি শ্রেণির যাত্রীদের জন্য। ক্রমবর্ধমান ভিড় সামাল দিতে এবং উৎসবের মরসুমে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তা মেটাতেই এই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কোচ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত চেন্নাইয়ের আইসিএফ (ICF) এবং কপূরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বল্প খরচে ‘অমৃত’ সফর

এই মেগা প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’। এটি সম্পূর্ণ সাধারণ ও স্লিপার শ্রেণির কোচ দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ সুপারফাস্ট ট্রেন। এই ট্রেনের মাধ্যমেই নতুন কোচগুলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে স্বল্প আয়ের যাত্রী ও পরিযায়ী শ্রমিকরা কম খরচে দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত পৌঁছাতে পারবেন।

রেল মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন: “ভারতীয় রেলের মূল অগ্রাধিকার হলো সাধারণ মানুষ। উচ্চবিত্তদের জন্য বন্দে ভারত বা এসি কোচ থাকলেও, আমাদের রেল ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো জেনারেল ও স্লিপার কামরা। যাত্রী সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে অতিরিক্ত কোচ যোগ না করলে ভিড় সামলানো অসম্ভব। এই লক্ষ্যেই চেন্নাইয়ের আইসিএফ (ICF) এবং কপূরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিকে পূর্ণ গতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কোচে কী কী নতুন সুবিধা থাকছে?

নতুন এই এলএইচবি কোচগুলো শুধু সংখ্যায় বেশি নয়, মানেও হবে আধুনিক:

  • নিরাপদ প্রযুক্তি: দুর্ঘটনার সময় একটি কোচ অন্যটির ওপর উঠে যাবে না (Anti-climbing feature)।
  • যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: প্রতি সিটে চার্জিং পয়েন্ট, পর্যাপ্ত আলো ও পাখা এবং উন্নত বায়ো-টয়লেট।
  • অতিরিক্ত জায়গা: জেনারেল কামরাগুলোতে এমনভাবে আসন বিন্যাস করা হয়েছে যাতে ৮১ জন যাত্রী আরামদায়কভাবে বসতে পারেন।

গত কয়েক বছরে প্রিমিয়াম ট্রেনের দিকে নজর দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, এই বিশাল অংকের বিনিয়োগ প্রমাণ করছে যে ভারতীয় রেলের কাছে সাধারণ যাত্রীদের গুরুত্ব কমেনি। নৈহাটি বা ব্যান্ডেলের মতো ব্যস্ত জংশন দিয়ে যাতায়াতকারী ট্রেনগুলোতে এই নতুন কামরাগুলো যুক্ত হলে ভোগান্তি কমবে লাখ লাখ নিত্যযাত্রীর।


শেয়ার করুন