কাঁপছে বাংলা: ৫ বছরের রেকর্ড চুরমার, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কার্যত ‘আইসবক্স’ দক্ষিণবঙ্গ!

Main আবহাওয়া দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জানু ৬, ২০২৬ at ১২:১৫
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাত্‌ ৬ জানুয়ারি: মাঘ আসার আগেই পৌষের মরণকামড়! খাতা-কলমে শীতের আমেজ নয়, রীতিমতো মেরুপ্রদেশের ঠান্ডায় জবুথুবু গোটা বাংলা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহের তাণ্ডব। আজ ভোরের আলো ফুটতেই দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য—রাজ্যের ৩৬টি আবহাওয়া উপ-বিভাগের মধ্যে মাত্র ৭টি বাদে বাকি সব জেলাতেই পারদ নেমে গিয়েছে ১০ ডিগ্রির নিচে।

দক্ষিণবঙ্গের ‘শীতলতম’ তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে বীরভূমের সিউড়ি, যেখানে থার্মোমিটারের কাঁটা দাঁড়িয়েছে . ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রানি দার্জিলিং এখন হিমঘর, সেখানে তাপমাত্রা নেমেছে . ডিগ্রিতে। কনকনে উত্তুরে হাওয়ার ঝাপটায় ঘর থেকে বেরোনো দায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত পাঁচ বছরের শীতের স্মৃতি রোমন্থন করলে দেখা যাচ্ছে, এবারকার মতো এত বড় ভৌগোলিক অঞ্চল জুড়ে ১০ ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রা আগে দেখা যায়নি।

কেন এই শীত গত ৫ বছরের রেকর্ড?

১. সর্বব্যাপী বিস্তার: সাধারণত শ্রীনিকেতন বা পুরুলিয়ায় পারদ নামলেও কলকাতা বা উপকূলবর্তী জেলায় শীত এত তীব্র হয় না। কিন্তু এবার হলদিয়া থেকে হাসিমারা—সর্বত্রই একই চিত্র। ২. হিমালয় থেকে আসা ঝোড়ো হাওয়া: কোনো নিম্নচাপ বা ঝঞ্ঝা না থাকায় হিমালয়ের শীতল হাওয়া সরাসরি বাংলায় ঢুকে পড়ছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি ‘ক্লিন প্যাসেজ’ পেয়েছে। ৩. ১০এর নিচে জেলাগুলো: বিগত বছরগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে ২-৩টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা গেলেও এবার ২৯টি জেলা একসাথে ১০ ডিগ্রির নিচে।

গত ৫ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ)

কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য এবং দক্ষিণবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করলে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে শীতের মেজাজ বেশ ওঠানামা করেছে।

বছর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান (প্লাটু/পাহাড় বাদে) বিশেষ মন্তব্য
২০২১ ১১.২°C শ্রীনিকেতন (৭.০°C) ডিসেম্বর শেষ দিকে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হয়েছিল।
২০২২ ১৩.২°C পানাগড় (৮.১°C) তুলনামূলকভাবে কম শীত ছিল।
২০২৩ ১২.২°C পুরুলিয়া (৭.৫°C) ঝোড়ো উত্তর-পশ্চিম হাওয়ার দাপট ছিল।
২০২৪ ১০.৬°C শ্রীনিকেতন (৬.৫°C) জানুয়ারির মাঝামাঝি তীব্র শীতল দিন (Cold Day) দেখা যায়।
২০২৫২৬ ১০.১১.°C সিউড়ি/শ্রীনিকেতন (৬.২°C) গত এক দশকের মধ্যে শীতলতম বর্ষশেষ ও জানুয়ারি সূচনা।
উত্তরবঙ্গের তুষার-শীতল পরিসংখ্যান

উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে দার্জিলিঙে পারদ এবার অস্বাভাবিক দ্রুততায় নেমেছে। ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিঙে তাপমাত্রা .°C থেকে .°C এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা গত কয়েক বছরের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তুলনায় কম। সান্দাকফু ও ফালুটে ইতিমধ্যেই হালকা তুষারপাতের খবর মিলেছে।

এটি কি গত ৫ বছরের রেকর্ড?

হ্যাঁ, বেশ কিছু প্যারামিটারে এটি একটি রেকর্ড।

  • সর্বব্যাপী ঠান্ডা: বিগত বছরগুলিতে সাধারণত পশ্চিমের জেলা বা উত্তরের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় হাড়কাঁপানো শীত থাকতো। কিন্তু এবার ২৯টি জেলায় (আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৯-৩০টি জেলায়) একসাথে ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নামা গত ৫ বছরে বিরল।
  • টানা স্পেল: সাধারণত শীত আসে এবং কয়েকদিন পর পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার উত্তর-পশ্চিম হাওয়ার অবাধ প্রবেশের ফলে দীর্ঘস্থায়ী নিম্ন তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে কারণ

আবহাওয়াবিদদের মতে, এবার কোনো শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প টানছে না। ফলে উত্তর ভারতের শীতল হাওয়া সরাসরি বাংলায় প্রবেশ করছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় দিনের বেলা রোদ থাকলেও রাতের রেডিয়েশন কুলিং-এর ফলে রাত ও ভোরে তাপমাত্রা হু হু করে কমছে।

উত্তরবঙ্গের কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে ঘন কুয়াশার দাপটে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহের সাথে ‘কোল্ড ডে’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Published on: জানু ৬, ২০২৬ at ১২:১৫


শেয়ার করুন