

Published on: ফেব্রু ২২, ২০২৬ at ১৫:৪২
এসপিটি নিউজ, মিরাট( উত্তরপ্রদেশ), ২২ ফেব্রুয়ারি: ভারতের পরিবহন পরিকাঠামোর ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক রচিত হল আজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিরাট মেট্রো এবং ‘নমো ভারত’ রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS)-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পকে দেশের দ্রুততম উচ্চ-গতির নগর ও আঞ্চলিক রেল পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মিরাটের শতাব্দী নগর স্টেশনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ₹১২,৯৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরও সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
দিল্লি–গাজিয়াবাদ–মিরাটকে সংযুক্তকারী প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘নমো ভারত’ আরআরটিএস করিডোর সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির জন্য নকশা করা হয়েছে, যেখানে কার্যকরী চলাচলের গতি ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত। এর ফলে দিল্লি ও মিরাটের মধ্যে যাত্রা সময় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫ মিনিটে, যা সড়কপথে যেখানে ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগে।
একই নেটওয়ার্কে চলমান মিরাট মেট্রো পরিষেবা মিরাট দক্ষিণ থেকে মোদিপুরম পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মেট্রো সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে সক্ষম এবং প্রায় ৩০ মিনিটে শহরের ২১–২৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। বিশেষত্ব হল, এই প্রকল্পে প্রথমবারের মতো একটি মেট্রো ব্যবস্থা এবং একটি উচ্চ-গতির আঞ্চলিক রেল পরিষেবা একই ট্র্যাক ও অবকাঠামো ভাগ করে পরিচালিত হচ্ছে—যা দেশের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক প্রকৌশলগত সাফল্য।
আরআরটিএস রুটে মোট ১৬টি স্টেশন এবং মিরাট শহরের মধ্যে একাধিক মেট্রো স্টপ থাকায় জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশের মধ্যে যাত্রীদের জন্য দ্রুত, ঘন ঘন এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত হচ্ছে। আধুনিক এই ট্রেনগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, সিসিটিভি নজরদারি, ইউএসবি চার্জিং পোর্ট, গতিশীল রুট ম্যাপ, হুইলচেয়ার স্পেস এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজার মতো উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরআরটিএস ও মেট্রো—উভয় পরিষেবায় একক টিকিটে যাতায়াতের সম্ভাবনাও থাকছে।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই প্রকল্পকে “আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিপ্লব” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, আধুনিক পরিবহন করিডোর দ্রুত বর্ধনশীল ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করবে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও বলেন, এই উন্নত ট্রানজিট লিঙ্ক উত্তর প্রদেশে ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক গতিশীলতায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বৈত উদ্বোধন কেবল যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার জন্য এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং এনসিআর অঞ্চলের শহর ও শহরতলিকে আগের চেয়ে আরও কাছাকাছি এনে দেবে।
Published on: ফেব্রু ২২, ২০২৬ at ১৫:৪২



