

Published on: ডিসে ১৩, ২০২৫ at ২১:২৩
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত মহকুমার চাকলাধামে আজ লোকনাথ বাবার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক ‘বিশ্ব লোকনাথ ভক্ত মহামিলন উৎসব’। চাকলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহামিলন উৎসবকে ভক্তদের সর্ববৃহৎ সমাবেশ বলে দাবি করা হচ্ছে, যা আগে কখনও ঘটেনি।
ভারত এবং বাংলাদেশের লোকনাথ ভক্তদের মধ্যেকার অটুট ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই উৎসব। বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন থাকলেও, বাবা লোকনাথের ভক্তদের মধ্যেকার বন্ধন আজও একইভাবে অটুট রয়েছে।
বারদী ধাম থেকে বিশেষ অতিথি
এই বিশেষ উৎসবে যোগ দিতে লোকনাথ বাবার সমাধিস্থল বাংলাদেশের বারদী ধাম থেকে বিশেষ আমন্ত্রণে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন ডা. তাপস পাল এবং নিখিল মজুমদার। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরই তাঁরা দু’দেশের ভক্তদের মধ্যেকার ভালোবাসার কথা স্বীকার করেছেন।
চাকলাধাম লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রেসিডেন্ট নবকুমার দাস এবং কোষাধ্যক্ষ স্বপন সেন উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান অতিথিদের। পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত তাপসবাবু বলেন, “ছোটবেলায় সেই ১৯৭১ সালে বাবার সাথে কলকাতায় এসেছিলাম। তারপর আবার বাবার জন্মস্থান চাকলাধামে বাবা লোকনাথের টানে কলকাতায় আসার সৌভাগ্য হলো। এটা সত্যিই আনন্দের ও গর্বের।” বারদী ধাম থেকে এই প্রথম কোনও প্রতিনিধিদল চাকলাধামের আমন্ত্রণে সাড়া দিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা ও বিপুল প্রস্তুতি
চাকলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রেসিডেন্ট নবকুমার দাস জানিয়েছেন, এই প্রথম এত বড় মাপের মহামিলন উৎসব হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাবা লোকনাথ নামাঙ্কিত সমস্ত মন্দির-মঠ ও মিশনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। সংগঠনের ৬০০ জন সদস্যও উপস্থিত থাকবেন। এই পুণ্য দিনে সমস্ত লোকনাথ নামাঙ্কিত মন্দিরের সম্পাদক, সভাপতি ও সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
এই উৎসবের প্রস্তুতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ সহযোগিতা করেছেন। নবকুমার দাস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
- মুখ্যমন্ত্রী চাকলা মন্দিরে একসঙ্গে ২,০০০ জন ভক্তের বসে ভোগ প্রসাদ গ্রহণের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
- ৮০টি স্টল তৈরি করে দিয়েছেন।
- এখানকার পুকুর সংস্কার ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করে মন্দির প্রাঙ্গণকে সাজিয়ে দিয়েছেন।
উৎসবের দিন ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার ভক্তকে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। এছাড়াও ভক্তদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবার আবেদন জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।
মন্দির ও সেবা সংক্রান্ত তথ্য
চাকলা লোকনাথ মন্দির প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ টায় খোলা হয়। সকাল ৮:০০ টায় বাল্যভোগ এবং দুপুর ১২:৩০ নাগাদ রাজভোগ দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি ও ভোগ নিবেদনের পর রাত ৮:০০ টায় মন্দির বন্ধ হয়।
- ভোগ প্রসাদ: সাধারণত রাজভোগের জন্য ৮০ টাকা এবং খিচুড়ি ভোগের জন্য ৪০ টাকার কুপন সংগ্রহ করতে হয়।
- সেবা কার্যক্রম: মন্দিরে ১০৪ জন সেবাইতকে সাম্মানিক প্রদান করতে হয়। এছাড়াও সঙ্ঘের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও মিশনের মাধ্যমে গরিব দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ এবং চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়।
- রাত্রিযাপন: ভক্তদের জন্য মন্দির প্রাঙ্গণে সামান্য অর্থের বিনিময়ে এসি গেস্টহাউসে থাকার সুব্যবস্থা আছে। এর জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করে নিতে হবে।
সঙ্ঘের সভাপতি নবকুমার দাস ৪৩ বছর ধরে এই সংগঠনের সাথে যুক্ত এবং একজন মহানাম প্রচারক। চাকলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘে কেউ দান করতে চাইলে তিনি সভাপতি নবকুমার দাসের সঙ্গে ৮০১৭৯৮৪৫৪১ নম্বরে এবং কোষাধ্যক্ষ স্বপন সেনের সঙ্গে ৯৯০৩০৩৩৩৮৫ যোগাযোগ করতে পারবেন।
রাত পোহালেই এই মিলন উৎসবকে ঘিরে সম্পূর্ণভাবে তৈরি চাকলাধাম। বাবা লোকনাথের ভক্তদের এই মহামিলন উৎসব নিঃসন্দেহে এক নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি করতে চলেছে।
Published on: ডিসে ১৩, ২০২৫ at ২১:২৩



