ইসকন মায়াপুরে ২৯তম গীতাজয়ন্তী মহোৎসবের সমাপ্তি ১ ডিসেম্বর

Main দেশ ধর্ম ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: নভে ৩০, ২০২৫ at ১৮:০৫

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৩০ নভেম্বর: ইসকনের প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুর। শ্রীধাম মায়াপুর এখন বিশ্ববাসীর কাছে পারমার্থিক জ্ঞান এবং আহরণের অন্যতম পীঠস্থান। ভক্তিবেদান্ত গীতা অ্যাকাডেমি ভারতবর্ষে বিশেষত বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষায় গীতা স্টাডি কোর্সের মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদের গীতা ও ভাগবত পড়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। দেশ বিদেশের কয়েক হাজার ভক্তবৃন্দ গীতা জয়ন্তীর উৎসব উপলক্ষে অংশগ্রহণ করছেন।  অর্থাৎ

ইস্কন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানান, প্রতি বছরের মতো এবছরও  ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার থেকে মহাসমারোহে যথাযথ ধর্মীয় মর্যদার সাথে শুরু হয় ২৯তম গীতা জয়ন্তী মহোৎসব।  সাতদিন ধরে চলা এই মহোৎসব ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ সোমবার যথাযথ ধর্মীয় মর্যদার সাথে সম্পন্ন করা হবে। গীতার জ্ঞানালোকে বিশ্ববাসীর হৃদয়কে উদ্ভাসিত ও গীতা অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের মনোবল বৃদ্ধি করতেই এই মহান উৎসবের আয়োজন।“ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাঁচ হাজার বছরেরও আগে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র সমরাঙ্গনে অমিত শক্তিশালী ধনুর্ধর অর্জুনকে গীতার জ্ঞান দান করেছিলেন এই শুভ তিথিতে। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হতাশাগ্রস্ত অর্জুনের মধ্যে জ্ঞানগর্ভ কথোপকথনই গীতা। সেই ঐতিহ্য স্মরণ করে প্রতিবছর এই উৎসব পালন করা হয়। বলেন জনসংযোগ আধিকারিক।

গীতাকে বলা হয় মানব ধর্মতত্ত্বের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ। আজ থেকে  ৫১৫৮ বছর পূর্বে ভগবদ্গীতার দিব্যজ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে প্রদান করলেও গীতার চতুর্থ অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে এর পূর্বেও তিনি এই জ্ঞান অন্যকে প্রদান করেছিলেন। মহাভারতের শান্তি পর্বে ভগবদ্গীতার ইতিহাসে উল্লেখ আছে ,কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন যে,তিনি প্রথম এই জ্ঞান সূর্যদেবকে প্রদান করেন এবং সূর্যদেব তা মনুকে প্রদান করেন। মনু সেই জ্ঞান ইক্ষাকুকে প্রদান করেন, এভাবে ভগবদ্গীতার দিব্যজ্ঞান প্রদান গুরু শিষ্য পরম্পরায় চলতে থাকলেও কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যায়। সর্বশেষে ভগবান কৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রথম দিন তিনি তাঁর পরম ভক্ত ও শ্রেষ্ঠ বীর অর্জুনকে এই জ্ঞান প্রদান করেন। মোট ১৮ দিন ধরে এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চলেছিল।

ভগবদ্গীতা মানবজাতির জন্য কৃষ্ণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। প্রকৃতপক্ষে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মানবজাতিকে জড়-জাগতিক অজ্ঞতা থেকে উদ্ধার করা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন যখন কৌরবপক্ষে তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে ইতস্তত করছিলেন তখন কৃষ্ণ জীবনের সত্য এবং কর্ম, জ্ঞান, ধ্যান এবং ভক্তির দর্শন তাঁর কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন। যার ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় ধর্মগ্রন্থ ভগবদ্গীতা প্রকাশিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গীতা শতাধিক ভাষায় অনুদিত হয়েছে।

“জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিকতার উর্দ্ধে মানবজাতির কল্যাণে গীতা পাঠ সকলের অবশ্য পাঠ্য। আত্ম-মুক্তি ও জগৎ কল্যাণ সাধনের জন্য গীতার অমৃতময় বানী বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা। পাঠ্য পুস্তক হিসবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গীতা পাঠের জন্য সুশীল সমাজের এবং সরকারের কাছে আমাদের একান্ত অনুরোধ , আপনারাও এই শুভ উদ্যোগে সামিল হোন। “ বলেন ইসকনের জনসংযোগযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস। (File pic)

Published on: নভে ৩০, ২০২৫ at ১৮:০৫


শেয়ার করুন