BTF কেন বাংলার সেরা পর্যটন মেলা, প্রমাণ মিলল প্রথম দিনেই

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ১৪, ২০২৫ at ১৭:০১
Reporter : Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৪ জুন:  ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ১৩ জুন শুক্রবার শুরু হয়েছে বাংলার সেরা পর্যটন মেলা বিটিএফ- বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট। এই পর্যটন মেলা পরিচালনা করছে অ্যসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অফ বেঙ্গল। সংক্ষেপে যাদের বলা হয় এটিএসপিবি। পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাধারণ পর্যটকদের যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম এই পর্যটন মেলা। কেন মেলাটিকে বাংলার সেরা পর্যটন মেলা বলা হয়ে থাকে তার প্রমাণ কিন্তু মিলেছে মেলা শুরুর প্রথম দিনেই উপস্থিত মানুষের ভিড় থেকেই। এবার সাতটি সরকারি পর্যটন বোর্ড ছাড়াও ১১০টি বেসরকারি পর্যটন সংস্থাও মেলায় অংশ নিয়েছে সক্রিয়ভাবে।

ভারতীয় পর্যটন মন্ত্রকের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা, তামিলনাড়ু, দিল্লি্‌ মেঘালয়, বোরোল্যান্ড, আসাম, ত্রিপুরা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজম বোর্ডও এবার অংশ নিয়েছে। এটিএসপিবি-র যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য ও তারক সাহা এক যৌথ বিবৃতে জানিয়েছেন- “অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডারস অফ বেঙ্গল’ গর্বের সাথে বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্টের ১০তম সংস্করণ উপস্থাপন করছে। বরাবরের মতো, এই বছরও আমরা সরকারি পর্যটন সংস্থা, বেসরকারি পর্যটন উদ্যোগ, পাশাপাশি সারা ভারতের হোটেল এবং হোম স্টে মালিকদের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ। এই বছর, এই অনুষ্ঠানে সাতটি সরকারি পর্যটন বোর্ড এবং ১১০টি বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ রয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণব প্রকাশ (আঞ্চলিক পরিচালক, পর্যটন মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার-পূর্ব অঞ্চল) কে পেয়ে আমরা সম্মানিত।“

তৃণমূল স্তরের হোম স্টে মালিক এবং ভ্রমণ ব্যবসাকে সমর্থন করার জন্য, সমিতি সাশ্রয়ী মূল্যে স্টল বরাদ্দ করেছে। আমাদের লক্ষ্য পর্যটন উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং শিল্পকে চাঙ্গা করা। বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট ভ্রমণ ব্যবসার মালিক এবং সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

আসন্ন পূজার ছুটির কথা মাথায় রেখে, ভ্রমণ বাণিজ্য মেলা ১৩ থেকে ১৫ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দর্শনার্থীরা এক ছাদের নিচে হোটেল, ট্যুর প্যাকেজ, ভিসা পরিষেবা এবং অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় গন্তব্যের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ তথ্য পেতে পারেন, সবই ছাড়ের হারে। এছাড়াও, পর্যটক এবং ভ্রমণ পেশাদাররা বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্টে সরকারি পর্যটন বোর্ড থেকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ করতে, নতুন গন্তব্য আবিষ্কার করতে এবং হোমস্টে থেকে বিলাসবহুল হোটেলের সুবিধাগুলি অন্বেষণ করতে পারেন।

এটিএসপিবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ বলেন- এই অনুষ্ঠানটি কেবল পর্যটন পেশাদারদের জন্য নয়। অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডারস অফ বেঙ্গল মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পর্যটন পেশাদারদের পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজকে সহায়তা করে।

সভাপতি সাগর গুহ এক বেদনে বলেছেন- “আমরা মিডিয়ার কাছে আবেদন করছি যে তারা বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট সম্পর্কে আমাদের প্রচারে সহায়তা করুন, যাতে আরও বেশি মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে, স্ব-কর্মসংস্থান করতে পারে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে অবদান রাখতে পারে। আমরা তামিলনাড়ু ট্যুরিজম, পর্যটন মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার (পূর্ব অঞ্চল), বোরোল্যান্ড ট্যুরিজম, ত্রিপুরা ট্যুরিজম, আসাম ট্যুরিজম এবং মেঘালয় ট্যুরিজমের কাছে তাদের অংশগ্রহণ এবং দশম বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্টের সাফল্যে সহায়তা করার জন্য কৃতজ্ঞ।“

ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (পূর্ব ভারত) জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন- “আনরা এটিএস পিবি-র আয়োজিত বিটিএফ-এ অংশ নিয়েছি। আমরা চাই এরকম পর্যটন মেলা আরও বেশি করে হোক। আমরা এর সাফল্য কামনা করি। আরও বেশি করে মানুষ দেখতে আসুক। স্টল ভিজিট করুক। তাদের পছন্দের পর্যটঙ্কেন্দ্রগুলি পছন্দ করুক। আমরা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সব সমই পর্যটনের প্রসারে এই ধরনের সমস্ত মেলাকেই সমর্থন করি।“

তামিলনাড়ু পর্যটনের আধিকারিক বলেন- “ এই মেলায় এসে আমরা দারুন সাড়া পেয়েছি। এর আগেও আমরা এখানে অংশ নিয়েছি। এখানে বাংলার পর্যটকদের থেকে সাড়া পাচ্ছি। অনেকতাই প্রসার হয়েছে আমাদের পর্যটনের। আমরা আবারও এখানে আসতে চাই।“

বোরোল্যান্ড ট্যুরিজম বোর্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অফিসার ভুমা রানি বোর্গোয়ারি বলেন- “বিটিএফ একটা দারুন প্ল্যাটফর্ম ভ্রমর্ণার্থী এবং পর্যটক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য। এখানে এসে পর্যটকরা তাদের পছদের জায়গাকে খুঁজে পান এবং নিজেদের মতো করে সেখানে ভ্রমন করার পরিকল্পনা করতে পারেন। গত বছরও আমরা এই মেলায় অনবগশ নিয়েছিলাম। বাংলা থেকে বিরাট সংখ্যক মানুষ গিয়েছে বোরোল্যান্ড ভ্রমণ করতে। আমাদের মূলতঃ ন্যাশনাল পার্কের জন্য বিখ্যাত। মানস ন্যাশনাল পার্ক।  মানস হল বিটিআর এলাকার প্রথম জাতীয় উদ্যান, যা ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে। মানসকে ইউনেস্কোর প্রাকৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান, একটি প্রকল্প ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগার, একটি জীবমণ্ডল সংরক্ষণাগার এবং আসামে একটি হাতি সংরক্ষণাগার ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়াও আছে রাইমোনা ন্যাশনাল পার্ক ও শিখনা জওয়ালাও ন্যাশনাল পার্ক। এগুলি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এখাঙ্কার পর্যটকদের মধ্যে। যা আমাদের কাছে খুবই ভাল সংকেত।“

দিল্লি ট্যুরিজমের ট্যুরিস্ট অফিসার যতীন চৌধুরী বিটিএফ নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন- “এটা দশম সংস্করণ। প্রথম দিনেই এখানে মানুষের ভিড় বলে দিচ্ছে এই মেলার সাফল্য। দেখুন, দিল্লি ট্যুরিজমের লক্ষ্যই হল সাধারনের পর্যটকের কাছে পৌঁছনো। আমাদের কাছে বিটুবি নয় বিটুসি কনসেপ্ট বেশি গ্রহণযোগ্য। আমাদের সবচেয়ে বেশি পর্যটক বাংলা থেকে মিলেছে। আগামিদিনেও মিলবে বলে আশা রাখি। আমাদের মূল সিজন হল- অক্টোবর থেকে মার্চ , এই সময় পর্যটকের আধিক্য বাড়ে।“

ত্রিপুরা ট্যুরিজমের জয়েন্ট ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রায় বিটিএফ-এ অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন- “এখানে ত্রিপুরা আগেও অংশ নিয়েছে। তবে আমার কাছে কলকাতায় এই পর্যটন মেলায় অংশ নেওয়ার পিছনে বিশেষ এক উদ্দেশ্য আছে। আমরা সকলেই বাঙালিও। এখানে কলকাতার যে ভাষা, বেশভুসা থেকে খাওয়া-দাওয়া সব কিছুই আমাদের সঙ্গে বেশ মিল । আমরা দেখেছি যে আমাদের ত্রিপুরাউইয় গত পাঁচ বছরের হিসাব যদি দেখি তাহলে দেখা যায় যে ৯০ শতাংশ পর্যটক পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আসে। বলা যতে এই রাজ্য আমাদের কাছে দ্বিতীয় হোম, স্টেট। আমাদের একান্ন শক্তিপীঠের রেপ্লিকা করার জন্যে ১০০ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। জোনপুরে আমরা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম শুরু করেছি।“

আসাম ট্যুরিজমের আধিকারিক  মুকুন্দ কুমার রায় বলেন- “এই জায়গাটা খুবই ভাল। আয়োজক কমিটিতে যারা আছেন তারাও বেশ ভাল। আমি আরও একতা জিনিস লক্ষ্য করলাম যে এরা খুব সুশৃঙ্গখল্ভাবে এরা মেলাটা পরিচালনা করছে। আমাদের কিছু সুবিধা-অসুবিধা থাকলে তারা খোঁজ-খবর নিচ্ছে। অফিসের লোকজন সর্বক্ষন আছে। এখাঙ্কার লোকজন খুবই সহায়ক। প্রথম দিনেই যেভাবে মানুষের ঢল নেমেছে তাতে আগামি দুইদিনে ভিড় যে আরও বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। “

ঝাড়খন্ড ট্যুরিজমের আধিকারিকর অরবিন্দ কুমার বলেন- “ প্রথম দিনেই এখানে যে ভিড় লক্ষ্য করছি তা খুবই আশাব্যাঞ্জক। আমাদের ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজমে অনেক গন্তব্য আছে। আপনারা আসুন, দেখুন এবং পর্যটনের পুরো আনন্দ নিন। বিটিএফ-এ এসে আমাদের খুবই ভাল লাগছে। এখানে বহু পর্যটক আসছে। তারা খোঁজ-খবর নিচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হল নেতারহাট। যা নিয়ে পর্যটকদের খুবই আগ্রহ। “

 

Published on: জুন ১৪, ২০২৫ at ১৭:০১


শেয়ার করুন