ময়মনসিংহের পর এবার রাজবাড়ী: গণপিটুনিতে আরও এক হিন্দু যুবকের মৃত্যু

Main দেশ বাংলাদেশ বিদেশ
শেয়ার করুন

Published on: ডিসে ২৫, ২০২৫ at ২৩:২৯

এসপিটি নিউজ ডেস্ক : ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনিতে এক হিন্দু যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামে চাঁদাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে অমৃত মণ্ডল সম্রাট ও তার সহযোগীরা হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের বাড়িতে চাঁদা দাবি করতে যান। এসময় বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। সম্রাটের সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জনতা সম্রাটকে ধরে গণপিটুনি দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার জানান, ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী মোহাম্মদ সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শ্যুটার গান উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সম্রাটের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, সম্রাট দীর্ঘদিন ভারতে আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মাত্র কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • ভারতের প্রতিক্রিয়া: এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করেছে ভারত সরকার। সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার বিষয়ে ভারত তার গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
  • সরকারের অবস্থান: ময়মনসিংহের ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, দীপু দাসের বিরুদ্ধে আনা ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব জাস্টিস’ দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাজবাড়ীর এই ঘটনাটি ভারতের বিভিন্ন মহলেও নিন্দার ঝড় তুলেছে, যা প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Published on: ডিসে ২৫, ২০২৫ at ২৩:২৯


শেয়ার করুন