বাংলার পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলতে পাঁচ ভিশন’ — BTF ২০২৬-এর উদ্বোধনে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

ডেটাবেস, অ্যাপ, নিবন্ধীকরণ, ব্র্যান্ডিং ও ব্লু-কার্বন অর্থনীতি— পর্যটনের নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা রাজ্যের

Published on: জুন ২০, ২০২৬ at ০১:১১

Reporter : Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২০ জুন:  বাংলার পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট (BTF) ২০২৬-এর। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই তিনদিনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ। পর্যটন দফতরের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনও বড় ট্রাভেল মার্টে অংশগ্রহণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন অংশীদারদের সামনে বাংলার পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী দিনে পাঁচটি কৌশলগত লক্ষ্য বা ‘স্ট্র্যাটেজিক ভিশন’-কে সামনে রেখে এগোবে রাজ্যের পর্যটন দফতর।

ড. শঙ্কর ঘোষ বলেন, পর্যটন সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাব গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সেল চালু করা হয়েছে। সেখানে জমা পড়া প্রস্তাবগুলি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী, গাইড এবং বিভিন্ন সংগঠনকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ ডেটাবেস তৈরির কাজ চলছে। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই তথ্যভাণ্ডারকে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আমাদের প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় নিয়ে আসতে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়াকেও আরও সুসংগঠিত করা হবে।”

বাংলার পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে প্রতিষ্ঠা করা। প্রয়োজনে দেশের সেরা সংস্থাকে দিয়ে ‘বেঙ্গল ট্যুরিজম’-এর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং করানোর কথাও জানান তিনি।

ড. ঘোষ বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পর্যটন শিল্পে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আমরা আনতে পারব।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দুটি ক্ষেত্রের কথাও উল্লেখ করেন পর্যটনমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দীঘাকে কেন্দ্র করে মেরিন ট্যুরিজমের প্রসার এবং সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমকে ভিত্তি করে ‘ব্লু কার্বন ইকোনমি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা। তিনি বলেন, “আমরা চাই বাংলার পর্যটনকে বিশ্বের মানচিত্রে একটি বিশেষ স্থান করে দিতে। সকলের সহযোগিতায় সেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরাও BTF-র ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিহার পর্যটনের যুগ্ম অধিকর্তা রাজেশ রোশন বলেন, “বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটন শিল্পের অংশীদাররা এসেছেন। বিহার পর্যটনের জন্য বাংলার বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিহারে আগত পর্যটকদের মধ্যে বাঙালিদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।”

অন্যদিকে, বোরোল্যান্ড ট্যুরিজমের সচিব আঞ্চুলা বাসুমাতারি বলেন, “এই মেলা পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক অসাধারণ ক্ষেত্র। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে বোরোল্যান্ড শান্তিপূর্ণ এবং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি পর্যটন গন্তব্য, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসছেন।”

মেলার মূল আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল (ATSPB)-এর সভাপতি সাগর গুহ বলেন, “BTF-এর স্বপ্নদ্রষ্টা আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দিয়ে এই মেলাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তা আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা। আজ থেকে ১১ বছর আগে যে ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ছোট থেকে বড়— সমস্ত ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য একটি কার্যকর ব্যবসায়িক মঞ্চ তৈরি করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।

প্রথম দিনেই দর্শনার্থী ও ব্যবসায়িক অংশগ্রহণকারীদের ভিড়ে জমে ওঠে BTF ২০২৬। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও মেলাপ্রাঙ্গণে ছিল উল্লেখযোগ্য ভিড়। পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, এই উৎসাহ আগামী দিনে বাংলার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকেই আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।

Published on: জুন ২০, ২০২৬ at ০১:১১


শেয়ার করুন