‘এআই সৃজনশীলতার বিকল্প নয়’ — সমাজ জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে WBUAFS-এ বিশেষ আলোচনা

Main দেশ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ১১, ২০২৬ at ১৭:৫৩

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১১ জুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। তবে এর ব্যবহার যেমন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, তেমনই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়িয়ে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় (WBUAFS)-এ ‘সমাজ জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, আধিকারিক এবং কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন শুভময় মৈত্র।

নিজের বক্তব্যে অধ্যাপক মৈত্র বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল ভিত্তি হল তথ্য বা ডেটা। তথ্য যদি নির্ভুল ও প্রমাণভিত্তিক না হয়, তবে সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা এআই-ও ভুল সিদ্ধান্ত বা মতামত প্রদান করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তথ্য অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত, যুক্তিনির্ভর এবং যাচাইকৃত হওয়া উচিত; কল্পনা বা অনুমানের ওপর নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক সময় অর্থনৈতিক শক্তি বা পুঁজির প্রভাব তথ্য প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যক্রমও সেই নির্দিষ্ট স্বার্থের দিকে প্রভাবিত হতে পারে। এ কারণে নাগরিকদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, অন্তত মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিজ্ঞান শিক্ষা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক মৈত্র বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজকে সহজ করতে পারে, কিন্তু এটি কখনও মানবিক সৃজনশীলতার বিকল্প হতে পারে না।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. তীর্থ কুমার দত্ত। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তির এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় এর সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানের সূচনায় টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক অরুণ মণ্ডল বলেন, বর্তমান যুগে তথ্য এক বিশাল শক্তি। সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়েই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ, অর্থনীতি ও ব্যক্তিজীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করছে। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই প্রভাব ও সম্ভাবনাগুলিকে বিশ্লেষণ করা।

অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শক্তি প্রধান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা—উভয় বিষয়েই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ সেই সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Published on: জুন ১১, ২০২৬ at ১৭:৫৩


শেয়ার করুন