

Published on: মে ২৯, ২০২৬ at ১৮:৩৭
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৯ মে: প্রায় এক বছর পিছিয়ে থাকার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে জনগণনা। শুক্রবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে জনগণনা ইস্যুতে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত বছরের ১৬ মে দিল্লি থেকে জনগণনা শুরু করার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু সেই সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি, এমনকি চিঠির জবাব পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। শুভেন্দুর কথায়, “রাজনৈতিক কারণেই জনগণনার কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। আগের সরকারের গাফিলতিতে পশ্চিমবঙ্গ অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর ১১ মে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই জনগণনা শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে সেই বৈঠকে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ অগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ শুরু হবে এবং তা চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবেন ‘সেন্সাস ডিরেক্টর’ রশ্মি কোমল। ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ ও জমা নেওয়ার প্রাথমিক পর্যায় চলবে বলে জানা গিয়েছে।
এ বারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হবে। থাকছে ‘সেলফ ইনোভেশন’ ব্যবস্থাও। প্রায় ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই জনগণনায় সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তথ্য সংগ্রহ করবেন। তাঁদের জন্য বিশেষ একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনগণনা সংক্রান্ত অভিযোগ বা সমস্যার সমাধানের জন্য দু’টি টোল–ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে জনগণনা সম্পন্ন করতেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, জনগণনার জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এই বৃহৎ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
Published on: মে ২৯, ২০২৬ at ১৮:৩৭



