

Published on: এপ্রি ১৫, ২০২৬ at ১৭:০৯
এসপিটি নিউজ, রামনগর, ১৬ এপ্রিল: রামনগরের অখণ্ড শ্রী ক্রিয়াযোগ সাধন মন্দির সেবাশ্রমে প্রতি বছরের মতো এবছরও ভক্তিময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল শ্রীশ্রী নাগেশ্বর মহাদেবের কুম্ভাভিষেক। ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নির্দিষ্ট মুহূর্তে মন্দির প্রাঙ্গণে এই পবিত্র আচার সম্পন্ন হয়। আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা গুরুজি আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী–র তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বহু ভক্ত।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভক্তদের অংশগ্রহণ। বহু ভক্ত কাঁধে করে পবিত্র জল বয়ে এনে মহাদেবের মস্তকে অর্পণ করেন। ভক্তি, শাস্ত্রীয় আচার এবং আধ্যাত্মিক আবহে গোটা আশ্রম এলাকা এক অনন্য পরিবেশে পরিণত হয়।
গুরুজি জানান, এই নাগেশ্বর মহাদেবের বিগ্রহ নর্মদা নদীর তলদেশ থেকে আনা হয়েছিল। তাঁর কথায়, স্বপ্নাদেশে মহাদেব নিজেই এই বিগ্রহ উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এরপর তাঁর এক শিষ্যের মাধ্যমে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বিগ্রহটি রামনগরের আশ্রমে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে নিয়মিত পূজা ও আচার–অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহাদেবের আরাধনা হয়ে আসছে।
শ্যামাচরণ লাহিড়ী–র দেখানো ক্রিয়াযোগের পথ অনুসরণ করেই নিজের গুরুদেবের নির্দেশে আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবায় নিয়োজিত। ‘সেবাই পরম ধর্ম’—এই আদর্শকে সামনে রেখে আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি মানবকল্যাণে কাজ করে চলেছেন তিনি।
কুম্ভাভিষেক সম্পর্কে আশ্রম সূত্রে জানানো হয়, এটি হিন্দু ধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ আচার, যার মাধ্যমে মন্দির ও দেবমূর্তিকে পবিত্র ও শক্তিশালী করা হয়। মন্ত্রোচ্চারণ ও যজ্ঞের মাধ্যমে পবিত্র জল প্রস্তুত করে তা দেবমূর্তির উপর অর্পণ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় দেবতার শক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ আরও জাগ্রত হয়ে ওঠে।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠান ভক্তদের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহু মানুষের বিশ্বাস, এই পবিত্র মুহূর্তে উপস্থিত থেকে পুজো করলে পুণ্য লাভ হয় এবং দেবতার আশীর্বাদ প্রাপ্তি ঘটে। তাই প্রতিবছরই এই কুম্ভাভিষেককে ঘিরে আশ্রমে ভক্তদের ঢল নামে।
যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী বা লাহিড়ী মহাশয় মহাদেবকে শুধু বাহ্যিক দেবতা হিসেবে দেখতেন না, বরং গভীর আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক হিসেবে অনুভব করতেন। তাঁর মতে, মহাদেব কোনও দূরের সত্তা নন—তিনি মানুষের নিজের অন্তরের মধ্যেই বিরাজমান।
লাহিড়ী মহাশয়ের শিক্ষায় শিব মানে ছিল ‘চৈতন্য’ বা সর্বব্যাপী সচেতনতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ক্রিয়াযোগের সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভিতরের সেই শিবতত্ত্বকে উপলব্ধি করতে পারে। অর্থাৎ, ধ্যান ও সাধনার গভীরে প্রবেশ করলে বোঝা যায়—জীব ও শিব আলাদা নয়, দুটোই একই চেতনার প্রকাশ।
তিনি বাহ্যিক আচার বা শুধুমাত্র মূর্তি পূজার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন অন্তর্দর্শন ও আত্মজ্ঞানকে। তাঁর মতে, প্রকৃত শিব দর্শন হয় তখনই, যখন মন শান্ত হয় এবং সাধক নিজের অন্তরের নিঃশব্দ উপস্থিতিকে অনুভব করতে পারে।
Published on: এপ্রি ১৫, ২০২৬ at ১৭:০৯



