‘মেঘের দেশ’ কাশ্যেনে ভ্রমণপ্রেমীদের প্রিয় হয়ে উঠেছে ট্রাভেলাইটস হিল স্টে

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

  • Reporter: Aniruddha Pal

Published on: এপ্রি ১৩, ২০২৬ at ২১:১৭

এসপিটি নিউজ, কাশ্যেন  (কালিম্পং), ১৩ এপ্রিল :  পাহাড় আমায় সবসময়ই টানে। তার উপর সেই পাহাড়ের আশপাশে ঝর্না,জঙ্গল,পাখির ডাক আর সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ থাকে তাহলে তো কথাই নেই। তেমনই একটা সুযোগ এসে গেল। কালিম্পং জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কাশ্যেন দেখার। লাগেজ গুছিয়ে রওনা দিলাম কাশ্যেনের উদ্দেশ্যে। চেনা পথ ছেড়ে একটু ঘুরপথে এনজেপি থেকে গাড়িতে গজলডোবা হয়ে লোলেগাও-এর অসাধারণের নৈস্বর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে করতে পৌঁছে গেলাম আমার প্রিয় গন্তব্য কাশ্যেন গ্রামে। যেখানে প্রকৃতির কোলে উজ্জ্বল হয়ে আছে ট্রাভেলাইটস হিল স্টে।

কালিম্পং জেলার পেডং ডেভেলপমেন্ট ব্লকের অন্তর্গত এই পাহাড়ি গ্রাম। প্রকৃতির অপূর্ব নৈস্বর্গিক দৃশ্যের মাঝে পাখির কলতান, ঝর্ণার জলের ঝিরিঝিরি শব্দ, এক অদ্ভূত নীরবতা আমাকে মুগ্ধ করে দিল। তখন রাতের অন্ধকার চারিদিক ঢেকে দিয়েছে। পাশের জংগল থেকে ভেসে আসছে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। আর মেঘ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। দূরে সবই যেন অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মেঘে ঢাকা পড়ে। এ যেন সত্যি এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই এপ্রিল মাসে যেখানে কলকাতায় গরমে মানুষ হাসফাঁস করছে সেখানে ঠান্ডায় এক মনোরম পরিবেশ মনটাকে মুহূর্তের মধ্যে ভালো করে দিয়েছে।

ট্রাভেলাইটস হিল স্টে –তে ঢুকতেই আমাদের দিকে অদ্ভূত দৃষ্টিতে দেখতে থাকে ‘টারজান’। কিছু সময়ের মধ্যেই ও আমার খুবই আপন হয়ে যায়। ওকে আদর করে আমি ঘরে চলে আসি। কারণ, রাত আটটার মধ্যেই কাশ্যেন গ্রামে রাস্তাঘাট বলা যায় , একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়ে। আশপাশে দু’একটি দোকান থাকলেও তারাও দেখি সাড়ে আটটার মধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে।

সামনের রাস্তা দিয়ে মাঝে মাঝে কিছু গাড়ি চলে যেতে দেখলাম। আসলে এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের ইতিহাসও খুবই পুরনো। এটি ছিল ঐতিহাসিক সিল্ক রুট-এর একটি গুরুরত্বপূর্ণ পার্শ্বপথ। আজও এই পথ দিয়ে সিল্ক রুট যাওয়া যায়। যাওয়া যায় রংপো হয়ে গ্যাংটক। যাওয়া যায় দার্জিলিং। চলে যাওয়া যায় এখান থেকে উত্তর সিকিমের লাচেন-লাচুং গ্রামেও। বলছিলেন হোমস্টে দেখভাল করা প্রণয় রাই।

রাত যত গভীর হতে থাকে ততই যেন নীরবতা নেমে আসে হোমস্টে-র আশপাশে। রাতের নৈশাহার সারা হয় রুটি আর মুরগির মাংস দিয়ে।

পরদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে যায়। জানলার পর্দা সরাতেই চখের সামনে ভেসে আসে পাহারের সারি। যদিও মাঝেমাঝেই তা মেঘের আড়ালে চলে যাচ্ছিল। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখতে কার না ভাল লাগে।

দূরের পাহাড়ের পিছনেই রয়েছে গ্যাংটক শহর। আর এক পাশে কিছু দূরে রয়েছে জুলুক। আছে নাথুলা। যদিও আকাশ পরিষ্কার থাকলে পাহাড়ের গায়ে কিছুটা হলেও দেখা যায়। নীচ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ঋষিখোলা নদী।

কাশ্যেনের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে রঙ-বেরঙের ফুলের বাহার, অর্কিড আর ওক-পাইন-দেবদারুর জঙ্গলের মাঝে মেঘে ঢাকা এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি যেন নিমেষে আপন করে নেবে আপনাকে। তবে সব থেকে উল্ল্যেখযোগ্য হল- সিঙ্কোনার চাষ। এখানে সিঙ্কোনার প্ল্যান্টেশনের কাজ হয় দারুনভাবে। পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতেই চোখে পড়বে সেই মনোরম দৃশ্য।

তবে কাশ্যেন গ্রামের আশপাশে এমন কিছু আছে আছে যা আপনার মন ভালো করে দেবে। পায়ে হেঁটে আমি তাই জঙ্গলের বুক চিড়ে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েচিলাম। পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম স্যামডুং গ্রাম। পাখির ডাক আর মেঘের ভিতর দিয়ে এপ্রিলের সকালে শীতের আবেশ গায়ে মেখে প্রাতঃভ্রমণে কাশ্যেনের পাশের ছোট্ট গ্রামে এসে পোঁছলাম। কাছেই একটি চার্চ চোখে পড়ল। কানে ভেসে আসছিল পাখির ডাক। সত্যি এ এক দারুন অনুভূতি।

গ্রাম ঘুরে হিল স্টে-তে ফিরে ফের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আশপাশের আরও কয়েকটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। মাত্র ৩৮ কিলোমিটার যাত্রা পথে ডুকা ফলস, ডুকা ভ্যালি হয়ে মাইরং গ্রাম ঘুরে মিলন ভিউ পয়েন্ট দেখে নিলাম। পরদিন ফের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে ঘুরে নিলাম কাশ্যেন ফলস, মনসুঙ মনাস্ট্রি, মনসুঙ ভিউ পয়েন্ট, হিমালি ভিউ পয়েন্ট দেখে সোজা চলে গিয়েছিলাম রংপোখোলা নদীর ধারে। সে এক অপরূপ দৃশ্য। নদীর ওপারে রয়েছে সিকিম। আর এপারে আমাদের বাংলা। কালিম্পং জেলা। সত্যি এ যেন উপরি পাওয়া। কাশ্যেন গ্রাম থেকে এত কিছু দেখা যায় এখানে না এলে জানা যেত না। প্রকৃতিকে যে এত কাছ থেকে দেখা যায় আর তার অনুভূতি পাওয়া যায় তা যেকোনও প্রকৃতিপ্রেমিকের কাছে মানসিক শান্তি প্রাপ্তি।

সব দেখে ফিরে আসি হিল স্টে-তে। আসলে ‘মেঘের দেশ’ এই কাশ্যেন যে কোনও প্রকৃতি প্রমিক ভ্রমণপ্রিয় মানুষের নজর কেরে নিতে বাধ্য। একবার এলেই তারা এর প্রমাণ পেয়ে যাবে।

কোথায় থাকবেন

Travelites Hill Stay

কাশ্যেন গ্রাম, পেডং ডেভেলপমেন্ট ব্লক,

জেলা- কালিম্পং

যোগাযোগ- 8902481053

কিভাবে আসবেন

এনজেপি থেকে গাড়িতে সাড়ে তিন ঘণ্টা, গাড়ি চাইলে সরাসরি ট্রাভেলাইটস হিল স্টে-তে ফোন করলে গাড়ির ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন

Pickup/Drop সুবিধা

এনজেপি থেকে পিকআপ ও ড্রপের ব্যবস্থা আছে।

Published on: এপ্রি ১৩, ২০২৬ at ২১:১৭


শেয়ার করুন