মায়াপুরে ভক্তির আবেশে অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয়—চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবেই উপস্থিত

Main দেশ ধর্ম ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ১৮, ২০২৬ at ২৩:৫৬
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, মায়াপুর (নদিয়া), ১৮ ফেব্রুয়ারি : মায়াপুরে পরম পুজ্য ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত মহোৎসবে গভীর ভক্তিভাব ও আধ্যাত্মিক আবেশে বক্তব্য রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের একজন অনন্য ভক্ত হিসেবেই এসেছি।”

বক্তব্যের শুরুতেই অমিত শাহ জানান, মায়াপুরে আসার আগে সকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানান যে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে তিনি মায়াপুর যাচ্ছেন। এই কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উপস্থিত সকলকে “হরে কৃষ্ণ” বলে প্রণাম জানান বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মায়াপুরের পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, আজকের দিনটি এক ‘মণিকাঞ্চন যোগ’—স্থান পবিত্র, দিনও পবিত্র, সঙ্গে রয়েছেন পুজ্য সন্তরা। তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, প্রভু নিত্যানন্দ, শ্রীঅদ্বৈত, গদাধর ও শ্রীবাস—পঞ্চতত্ত্বকে প্রণাম জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। পাশাপাশি ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ও ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভক্তির সহজ পথ দেখিয়ে কীর্তন, নৃত্য ও গীতার বার্তার মাধ্যমে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করেছিলেন। সেই আন্দোলনকে আধুনিক রূপ দিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের আত্মিক কল্যাণের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ও ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদ।

ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের কর্মজীবনের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, এক আরব বার শ্রীকৃষ্ণ নাম জপের সংকল্প শুধু নেওয়াই নয়, তা পালন করে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিকতাকে ধর্মের শত্রু নয়, বরং ধর্ম প্রচারের সহায়ক হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও তাঁরই অবদান। প্রিন্টিং প্রেসের মতো আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে ভক্তি আন্দোলনকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি।

মায়াপুরে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কেন্দ্র শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের ভক্তদের আশার স্থল হয়ে উঠবে এবং যুগ যুগ ধরে ভক্তিমার্গের প্রচার চালিয়ে যাবে। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে তিনি ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদের মতো শিষ্য গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন, যার ফলস্বরূপ আজ International Society for Krishna Consciousness (ইসকন) সনাতন ধর্মের বার্তা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিচ্ছে।

গীতা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপহার হিসেবে গীতা প্রদান করেন, কারণ এই বার্তাই সর্বজনীন কল্যাণের পথ দেখায়। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইসকন শুধু ভক্তি আন্দোলনেই নয়, সেবার পথেও নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে।

বক্তব্যের শেষভাগে মায়াপুরে বিরাজমান ভগবান নৃসিংহের কৃপা কামনা করে অমিত শাহ বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত ও সনাতনের বার্তা গোটা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা সফল হব—এই বিশ্বাসই আমাদের প্রেরণা।
সবশেষে তিনি “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র উচ্চারণ করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Published on: ফেব্রু ১৮, ২০২৬ at ২৩:৫৬


শেয়ার করুন