
Published on: আগ ৩, ২০২৫ at ২০:০৯
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ , কলকাতা, ৩ আগস্ট : গতকাল শনিবার কলকাতায় ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের মনসুন চ্যারিটি ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার ড. অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং এই ইভেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। সহযোগী ছিল সুপ্রিম নলেজ ফাউন্ডেশন ও ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (টাফি)। সমাজের অভাবী, মানসিকভাবে দুর্বল শিশু ও মহিলাদের প্রিশিক্ষিত করে তাদের হাতের কাজের নানা নিরদর্শন বিভিন্ন স্বচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে প্রদর্শনের এক সুন্দর প্ল্যাটফর্ম করে দিয়েছে ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এই মনসুন চ্যারিটি ফেয়ার অনুষ্ঠিত হল। আএ তা অত্যন্ত সফল হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাফি’র ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি ও চেয়ারম্যান(পূর্ব ভারত) বিলোলাক্ষ দাস সহ বিশিষ্টরা।
ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মিডিয়া হেড অমিত সেনগুপ্ত জানান- “মনসুন চ্যারিটি ফেয়ার হল ২০২৪ সালে ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশন কর্তৃক শুরু হওয়া একটি উদ্যোগ। এই বছরের মেলায় মানসিক স্বাস্থ্য, নারী ও কারিগরদের ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষা, মানব পাচার, প্রতিবন্ধকতা এবং অন্যান্য সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত সংস্থাগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে যারা তাদের নিজ নিজ সংস্থার জন্য তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে পণ্য প্রদর্শন করেছে। হস্তশিল্প, পরিবেশ বান্ধব এবং টেকসই পণ্য, টেক্সটাইল, সিরামিক, স্থানীয় শিল্পকর্ম, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন করেছে। ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশন সামাজিক পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে এই সংস্থাগুলিকে একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থপূর্ণ কারণ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এবার এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য সহযোগী ছিল সুপ্রিম নলেজ ফাউন্ডেশন ও ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া।“
এদিন ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের অফিস চত্বরে এই মনসুন চ্যারিটি ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। নীচে ছিল- অঞ্জলি, ফিউচার হোপ, ডেস্টিনি, সিয়েনা, টারনিং পয়েন্ট, সুখতারা কেক, আই ক্যান ফ্লাই টি কফি এবং রিঞ্চেন্স মোমো।
টার্নিং পয়েন্টের পক্ষে জয়া দাস বলেন- “আমরা এখানে সুযোগ পেয়েছে এতাই আমাদের কাছে বড় ব্যাপার। আমরা চাইব ভবিষ্যতে আমরা এরকম আরও সুযোগ পাই। মানসিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে আমাদের এই কাজ। ওদের তৈরি জিনিসগুলি বিক্রি হলে তার একতা অংশ আমরা টোকেন মানি হিসাবে ওদের দিয়ে থাকি। তাতে ওদের আত্মবিশ্বাস জাগে কাজ করার ইচ্ছাও বাড়েীটি আমাদের ১৯৯৮ সাল থেকে চলছে। আমাদের সংস্থায় ৩০জন মতো কাজ করছে।“
হিন্দুস্তান পার্কের সিএনএ –র পক্ষে অরিত্রা বলেন- “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট। এটা একটা পরিবারের মতো হয়ে উঠেছে এই মুহূর্তে। সবাই সবাইকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে সুন্দর এক পরিবেশ গরে উঠেছে। আমরা এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। আমরা এসেছি কলকাতা সিএনএ থেকে। শান্তিনিকেতনে আমাদের পটারি ইউনিট আছে। আমাদের হস্তশিল্প ইউনিটে ৪০জন আছেন। আর আমাদের রেস্তোরায় আছেন ৭০জন। এছাড়াও শান্তিনিকেতনে আছে আরও ৫০জন । সেদিক থেকে দেখলে আমাদের সংস্থায় এই মুহূর্তে ২০০জন মানুষ যুক্ত আছে। এবার আমরা দশে পা দিতে চলেছি।“
ডেসটিনি থেকে আসা এক প্রতিনিধি বলেন- “আমরা এখানে ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। তারাই এই সুন্দর সুন্দর পন্যগুলি বানায়। শাড়ি, টেবিল ম্যাটস। এতা আমাদের দ্বিতীয় বছর। আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের কাছে যে তারা আমাদের আবার এখানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।“
অঞ্জলি-র প্রতিনিধি রোহিনী বলেন- “এখানে যে ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনের সাথে একসাথে যে মন্সুন চ্যারিটি ফায়ার ইভেন্ট করছি এখানে আমরা সব এঞ্জিও-রাই একসাথে কাজ করি। এখানে এসে আমরা মানুষজনকে জানাতে পারি যে আমরা কি কাজ করি। এই ফেয়ারটা আমাদের সেই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে। যেখানে আমরা সেইসব মানুষগুলির কাজের ধারাকে তুলে ধরার সুযোগ পাই। আমাদের এই সংস্থাটি সিআইটি রোড কল্ককাতায় অবস্থিত। তবে আমরা কাজ করি চারটে মেন্টাল হস্পিটাল নিয়ে কাজ করি। যারা সেখানে বাসিক আছে তাদের আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এখানে ১০০জনেরও বেশি কাজ করছেন। ২৫ বছর হয়েছে এই সংস্থাটির।“
বেহালা সুখতারা থেকে আসা নাগেন্দে মিশ্র বলেন- “আমরা অভিভূত। এটা দ্বিতীয় বছর। এখানে পরিবেশটাও খুব ভাল। সুখতারা হল একটি চ্যারিটি। ওখানে আমাদের ২৫ জন কাজ করে। ওদের মধ্যে যারা সমর্থ্য তারাই এই কেক বানিয়ে থেকে। এই কেকটা খুবই বিখ্যাত। আমাদের সংস্থাটি ২৫ বছর ধরে চলছে। “
এরপর দোতলায় ছিল অন্তরা, ক্রাই, একতারা, সাইলেন্স, সাসা, স্বাধীনা, কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ ও অল বেঙ্গল উইমেন্স ইউনিয়ন।
অন্তরা সাইক্রিয়াট্রিক হসপিটালের পক্ষে জানানো হয়- এটি একটি মানসিক ও সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আমাদের এখানে আমরা সেইসব পন্য প্রদর্শন করছি যা বানিয়েছে আমাদের সঙ্গে থাজা সেইসব মানুষগুলি। যার মহ্যে প্রসাধনী থেকে খাবারের নানা পন্য রয়েছে। রয়েছে হস্তশিল্পের নানা সম্ভার।
অল বেঙ্গল উইমেন্স ইউনিয়ন থেকেও এসেছে । যারা দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে নিজেদের কাজ করে চলেছে। যোগ দিয়েছে সাসা। এটাও একটা এনজিও। এটা নিউ মার্কেটে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে অবস্থিত। যারা এসব পন্য বানায় তাদের সংখ্যা ১৫০জন। আমাদের বাচ্চা আর মহিলারাই আছে। বারুইপুরে সফট টয়েজগুলি হয়।
ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া’র ন্যাশনাল কমিটির মেম্বার অনিল পাঞ্জাবি বলেন- “আজ যে সিএসআর মনসুন চ্যারিটি ফেয়ার হয়েছে খুবই ভাল। এটি ছিল সিজন -২। অনেক মানুষ এসছে। যেসব এনজিও এসছে তারা খুব ভাল কাজ করছে। অভাবী শিশুদের উৎসাহ দিচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পন্য তৈরি করে তা বিক্রি করছে। দেখছিলাম ওখানে কিছু ভাল ঘড়ি ছিল যার মূল্য ওখানে ছিল সারে আটশো টাকা। অরহচ একই জিনিস মলে নিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। এত কম দামে এত ভাল জিনিস করছে। শিশুদের সাহায্য করছে। ব্রিটিশ হাই কমিশন খুব ভাল কাজ করছে। সিজন ২ দারুনভাবে সফল হয়েছে। টাফি এই কাজকে পূর্ণভাবে সমর্থন করেছে। আমি মনে করি টাফিও এমন উদ্যোগ নিক।“









Published on: আগ ৩, ২০২৫ at ২০:০৯



