

Published on: জুলা ১৩, ২০২৫ at ২১:৪৪
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১২জুলাই: “পৃথিবী এক বিরাট মঞ্চ, আর আমরা সবাই সেই মঞ্চের অভিনেতা”—
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের এই বিখ্যাত উক্তিকে বাস্তবে রূপ দিল মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও মেডিকা অঙ্কোলজি (মনিপাল হসপিটালস নেটওয়ার্ক-এর একটি ইউনিট)। অশোকনগর নাট্যায়নের সহযোগিতায়, তারা আয়োজন করল এক অভিনব নাট্য প্রদর্শনী — ‘রঙ্গব্যঙ্গ’, যেখানে মঞ্চে অভিনয় করলেন ক্যান্সারজয়ীরা।
নাটকটির বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঁচটি ছোট নাটক অবলম্বনে নির্মিত —‘আর্য ও অনার্য, ‘নতুন অবতার’, ‘অন্ত্যেষ্টি সৎকার’, ‘অরসিকের স্বর্গপ্রাপ্তি’ এবং ‘স্বর্গীয় প্রহসন’। প্রযোজনাটি নির্দেশনা দেন খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন।
এই থিয়েটার প্রযোজনাটি শুধুমাত্র নাটক নয়, বরং ক্যান্সার জয়ীদের জীবনের সাহসিকতার প্রকাশ। ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ নামে থিমটি আশার, সহনশীলতার ও জীবনের উদযাপন হিসেবে প্রতিফলিত হয়। নাটকে ক্যান্সারজয়ীদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেন প্রখ্যাত অভিনেতা ফাল্গুনী চ্যাটার্জী, শান্তিলাল মুখার্জী, মাসুদ আখতার, ঋত্বব্রত মুখার্জী ও আশোকনগর নাট্যায়নের নাট্যশিল্পীরা।
এই হৃদয়স্পর্শী সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন মেডিকা অঙ্কোলজির চিকিৎসকরা—প্রফেসর (ড.) সুবীরগাঙ্গুলি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অ্যাডভাইজার, রেডিয়েশন অঙ্কোলজি এবং ড. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর, মেডিকা অঙ্কোলজি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, হেড অ্যান্ড নেক অনকোসার্জারি|
চন্দন সেন বলেন, “রঙ্গব্যঙ্গ’ আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন নির্দেশনার অভিজ্ঞতা।নাটকটির ৬৬টি চরিত্রের মধ্যে ১৫-১৬টি আজ ক্যান্সারজয়ীদের হাতে। আমি চাই, বছরের শেষে সমস্ত চরিত্র ক্যান্সারজয়ীরাই অভিনয় করুক।এ মঞ্চ কেবল পারফর্ম করার জায়গা নয়, এটি আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াই।”
প্রফেসর (ড.) সুবীর গাঙ্গুলি বলেন, “ক্যান্সার চিকিৎসা শুধু শরীরের নয়, মানসিক ও আত্মিক শক্তিকেও জাগ্রত করতে হয়। আজ আমাদের ক্যান্সারজয়ীরা যে অভিনয়ে তাঁদের যন্ত্রণা থেকে শক্তি তৈরি করলেন, তা দেখে আমি গর্বিত।মেডিকাতে আমরা বিশ্বাস করি, আরোগ্য মানে সার্বিক সুস্থতা।”
ড. সৌরভ দত্ত বলেন,“প্রত্যেক ক্যান্সারজয়ীর জীবনে এক সাহসিকতার অধ্যায় আছে। ‘রঙ্গব্যঙ্গ’-এরমাধ্যমে আমরা তাঁদের সেই অধ্যায় মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছি। মঞ্চে তাঁদের পারফরম্যান্স আমাকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছে —কারণ তাঁদের অনেককেই আমি চিকিৎসা করেছি। এই অনুষ্ঠান জীবন ও সাহসের উদযাপন।”
আইসিএমআরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী,
- ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৫.৭লক্ষ, যা ২০২২ সালের ১৪.৬ লক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
- বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে পৌঁছাতে পারে ৩.৫ কোটি।
এই ক্রমবর্ধমান সংকটের মাঝে, মনোবল ও মানসিক সুস্থতা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি পারস্পরিক প্রেরণা। সেই উদ্দেশ্যে ‘রঙ্গব্যঙ্গ’ ছিল এক সাহসী ও মানবিক প্রচেষ্টা।
গৌতম রায়চৌধুরী, অমিতাভ সরকার ও মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায়—তিনজন ক্যান্সার জয়ী অভিনেতা বলেন,“এই মঞ্চ আমাদের কাছে যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তরের জায়গা।ক্যান্সার আমাদের শরীরকে থামাতে চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের মনের কণ্ঠকে নয়।এই নাটক আমাদের গর্বের সঙ্গে নিজেদের গল্প বলার সুযোগ দিয়েছে।”
ড. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল চিফ অপারেটিং অফিসার, মনিপাল হসপিটালস ইস্ট বলেন,“মানবিক আত্মা যেকোনো অসুস্থতার চেয়েও শক্তিশালী। আমরা বাতাসের দিক নির্ধারণ করতে পারি না, তবে পাল তুলে চলার পথ ঠিক করতে পারি। ‘রঙ্গব্যঙ্গ’ দেখিয়ে দিল, চিকিৎসা শুধু ওষুধে নয়, সহানুভূতি, সাহস ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়েও হয়।আমরা গর্বিত যে এই যোদ্ধাদের চিকিৎসা এবং সাহসিকতার অংশ হতে পেরেছি।”
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন– চন্দন সেন মহাশয় যনি নিজে একজন ক্যান্সার সার্ভাইভার ক্যান্সারজয়ী মানুষ তাঁর প্রতিভা এবং মেডিকা অঙ্কোলজির প্রয়াসের সঙ্গে তাঁর প্রতিভার মেলানোর কাহিনি ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি। তবু মেডিকা আমাকে জানাতে বলেছিলেন যে আজকের দিনে ক্যান্সার রোগ নিয়ে প্রচুর কুসংস্কার ও ভুল ধারণা বিদ্যমান। চি্কিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হলেও অনেক ক্যান্সার সার্ভাইভার পরিবার, কর্মক্ষেত্রে এবং সমাজে এখনও অবহেলা এবং নিঃসঙ্গতার মুখোমুখি হন। সাধারণ মানুষের এখনও অনেকের মধ্যেই বিশ্বাস ক্যান্সার ছোঁয়াচে বংশগত কিংবা রোগ সারলেও ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে থাকেন।এইসব ভ্রান্ত ধারণা ক্যান্সারজয়ীদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। এবং সমাজে তাদের সামাজিক অবস্থানে ফিরে যাওয়া কঠিন করে তোলে। তাই মেডিকা অঙ্কোলজির ‘রঙ্গ ব্যাঙ্গ’ সেই নাটকটি একটি সামাজিক বার্তা হল – ক্যান্সারজয়ীদের প্রতি সহানুভূতি , সমর্থন এবং মর্যাদাপূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা গরে তোলা। যারা মৃত্যুর শঙ্কাকে জয় করে জীবনে পূর্ণ ম্ররযাদায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন তাদের তো সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের সমর্থন ও ভালোবাসা।“




Published on: জুলা ১৩, ২০২৫ at ২১:৪৪



