
আট বছরেই রাজবেড়িয়ায় তীর্থক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোকনাথ মন্দির

Published on: জুন ১১, ২০২৫ at ১০:০৩
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, রাজবেড়িয়া (আমডাঙা), ১০ জুন: বাবা লোকনাথের মহানাম প্রচারক নব কুমার দাসের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই বাবা লোকনাথের মন্দিরের প্রচার কেমেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চাকলা লোকনাথ মন্দিরের উন্নয়নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে আর্থিক সাহায্য করায় লোকনাথ ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দানা বেধেছে। এরই মধ্যে ৯ জুন উত্তর ২৪ পগনা জেলার আমডাঙায় রাজবেড়িয়াইয় বাবা লকনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সারা দিন ধরে নানা কর্মসুচি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। প্রতিষ্ঠাতা ঝন্টু কুন্ডুর তত্ত্বাবধানে গোটা অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠূভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি, আগামিদিনে এই মন্দির এলাকাতেই বৃদ্ধাবাস করারও পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। সেকথাও এদিন তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। চাকলার প্রধান উপদেষ্টা নব কুমার দাসকে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা পাঠিয়েছেন। চাকলার উন্নয়নে তিনি আছেন সব সময়।
এদিন রাজবেড়িয়া এলাকায় বৈকুন্ঠপুরের মদনপুরে ত্রিকালদর্শী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে লোকনাথ সংঘের সঙ্গে যুক্ত ৭০টি সংগঠন ও মন্দির যোগ দিয়েছিল এই অনুষ্ঠানে। আমন্ত্রিত হয়েছিলেন । তাদের এদিন সম্বর্ধিত করা হয়। একই সঙ্গে আমন্ত্রিত ৭০টি লোকনাথ সংগঠন ও মন্দিরের প্রতিনিধিদের উত্তরীয় ও মেমেন্টো দিয়ে সম্বর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্বর্ধিত করা হয় মা গোয়ালিনী সঙ্ঘের প্রতিনিধিদেরও।

চাকলা লোকনাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান উপদেষ্টা নব কুমার দাস বলেন- “বাবা লোকনাথের জন্মস্থান চাকলা ধাম সেখানকার পুরোহিত থেকে শুরু করে লোকনাথ বাবার সংগঠনের সাথে যারা যারা যুক্ত প্রায় ৭০টি সংগঠন আজ এখানে সমবেত হয়েছে। এর চেয়ে বড় কিছু আমাদের চাকলাধামের জন্য পাওনা নেই। ঝন্টু কুন্ডু বাড়ির বাৎসরিক অনুষ্ঠান। আমরা তার জন্য গর্বিত। উনি প্রতি বছরই চাকলা মন্দিরের পুরোহিতকে আমন্ত্রণ জানান। উনি চাকলাধামের সাথে যুক্ত। সেই সুবাদে ওনার ডাকেই আমরা চাকলাধাম সাড়া দিয়েছি। উনি আমাদের ৫০ বছরের অনুষ্ঠানে ছিলেন। দীঘাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ঝন্টু কুন্ডু আমাদের সাথে ছিলেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী চলে যাচ্ছিলেন। তখন আমি যখন বললাম – দিদি, আমি চাকলা থেকে এসেছি নব – এ কথা শোনামাত্রই উনি সঙ্গে সঙ্গে কুড়ি হাত দূর থেকে এসে আমার সাথে হাত মিলিয়ে গিয়েছেন। এর চেয়ে বড় কিছু পাওনা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত লোকনাথ নামাঙ্কিত সংগঠন থাকবে বলে আশা করি। আমরাও থাকব। ওনার যা চিন্তাভাবনা , এই সনাতন ধর্ম নিয়ে ওনাকে যে উদ্বেগ দেয় , আমরা বলতে চাই- আপনি এসব নিয়ে একদম ভাববেন না। আমরা আপনার সাথে আছি, মমতাদি। আপনি হিন্দু,মুসলিম, জৈন, খ্রিস্টান সকলের সাথে যখন আছেন লোকনাথ ব্রহ্মচারী কিন্তু সবার সাথে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব সময় খুব ভাল চিন্তা ভাবনা। এটা একবার দেখুন, উনি সারা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। আমরা আবেগে বলে দিলাম, কিন্তু তা বলতে পারি না। তবু আমাদের আবেগ্টা কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বোঝেন। আমাদের সব আবদার উনি মানেন। এটাই আমাদের প্রাপ্তি। আমি চাইব, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তাকে আশীর্বাদ করুক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘজীবী হোক, এটাই আমাদের কাম্য।
রিষড়া লোকনাথ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তথা সেখানকার কাউন্সিলার অভিজিৎ দাস বলেন- “আমি আগেই বলেছি যে এত বাবার শিষ্য, এত কর্মী রিষড়া থেকে বাবার কাছে এসেছি। এই বৈকুন্ঠপুর মদনপুর লোকনাথ বাবার মন্দিরের যিনি প্রতিষ্ঠাতা সেই ঝন্টু কুন্ডু ও তার ছেলে এখানে আছেন। আমি একটা জিনিস দেখলাম যে এখানকার সমস্ত মানুষ বাড়ি থেকে চলে এসেছেন। খালি বাবার দর্শন লাভ আর ভোগ সংগ্রহের জন্য। আমরা রিষড়া ধাম থেকে এসেছি। প্রতি বছর আমরা ২৩ জানুয়ারি বাবার এই উৎসব করি। সকলকে এখন থেকে এক্টা নিমন্ত্রণ মৌখিকভাবে জানিয়ে দিলাম। এছাড়া আমি নবদার মাধ্যমে বাবার প্রতিটি মন্দির কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানালাম। আমরা রিষড়া থেকে সকলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছি নবকুমারদার জন্য। যেখানেই তিনি ডাকেন আমরা চলে যাই বাবার টানে। আপনারা দেখেছেন কিছুদিন আগে নবকুমারদা গিয়েছিলেন এবং দিদির সঙ্গে কথাও বলেছেন। আমরা দীঘায় যেন বাবার মন্দির গড়তে পারি। জগন্নাথ মন্দিরের পাশে। এটা নবকুমারদার একটা স্বপ্ন। আমরা সকলেই নবকুমারদার সাথে সেই স্বপ্নকে ভাগ করে নিতে চাই। আমাদের যেন মনের সেই বাসনা-কামনা পূর্ণ হয়। আমরা যেন দীঘায় মন্দির স্থাপন করতে পারি। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, ওনার সঙ্গে নবকুমারদা কথা বলেছেন। আশা করি, আজ না হয় কাল আমাদের সেই মনের স্বপ্ন নিশ্চয়ই বাস্তবায়িত হবে। দিদিকে চাকলাধামের প্রসাদও দিয়ে এসছেন। এরপর দিদি নবকুমারদাকে বার্তা পাঠিয়েছেন – তোমার পাঠানো প্রসাদ আমি খেয়েছি। তু্মি যে কাজ করবে আমি তোমার সাথে আছি। এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে নবকুমারদা আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে কথা বলতে পেরেছেন।“
এদিন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ঝন্টু কুন্ডু বলেন- “আজ যে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে তা হল এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস। ২০১৭ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আজ অষ্টম বর্ষে পড়েছে। এই অনুষ্ঠানটি যাতে প্রতি বছর আরও ভালোভাবে করা যায় তার জন্য চেষ্টা করছি। আমাদের সঙ্গে চাকলা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান উপদেষ্টা নব কুমার দাস, শিমুরালি লোকনাথ আশ্রমের মধু বাবা সহ আরও যে পাঁচ জন আছে তাদের সবাইকে নিয়ে যাতে আমরা চলতে পারি সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা আছে। এই মন্দির শুধু আমার নয় যারা লোকনাথ বাবার ভক্ত তাদের সকলের এই মন্দির। লোকনাথ বাবার যেখানে অনুষ্ঠান হবে আমরা সেখানেই যাওয়ার চেষ্টা করব। বাবার কৃপায় আমরা সেখানে পৌঁছেও যাব। বৃদ্ধাশ্রমের চিন্তাভাবনা আমার আছে। আগামিদিনে এখানে একটা বৃদ্ধাশ্রম করব। সেখানে কিছু বৃদ্ধ মানুষের পাশাপাশি গরিব মানুষও থাকবেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরেই হয়তো করেই ফেলব।“
শিমুরালি লোকনাথ আশ্রমের মধু আনন্দগিরি মহারাজ বলেন- “ একটু আগে এই মন্দিরের যিনি প্রতিষ্ঠাতা ঝন্টু কুন্ডু বলছিলেন, আমি তার উত্তর একটাই দি – উনি এই প্লাই কারখানার মালিক। ওনার এই প্লাই কারখানার যত কর্মচারী আছে একশোর উপর কর্মচারী আছে। উনি তাদের মধ্যে যারা ভালো কর্মচারী তাদের উনি ভাল নম্বর দেন। তাদের উনি সুনজরে দেখেন। বাবা লোকনাথ বলেছেন যে আমি সবার দিকে তাকাই সবাইকে দেখেই হাসি। কিন্তু কাকে ভালোবাসি আর কাকে বাসি না সেটা তো আমি ছাড়া তো কেউ জানে না। সেই কারণে বাবা লোকনাথ হচ্ছেন মালিক। আমাদের ভগবান। আমরা বাবা লোকনাথের কর্মচারী । তার সেবাইত। তার সেবা করে চলেছি। আমরা সেবা করে বাবা লোকনাথকে যারা সন্তুষ্ট করতে পারব নিঃস্বার্থভাবে বাবা লোকনাথ তাদেরকে নাম্বার দেবেন। আর সেই নম্বরে আমরা গর্বিত বোধ করব। আমরা অনেক অনেক বড় হতে পারব। এতাই আমাদের মূল কথা। বাবা লোকনাথ বলেছেন সেবাই হচ্ছে পরম ধর্ম। তাই ওসব কিছু বুঝি না। মানুষের সেবা করে যেতে চাই। কথায় কথায় বলে থাকি মানুষের মধ্যেই নারায়ণ আছে। সেই মানুষদের আমরা অবহেলা করব কেন। সেবামুলক কাজ চলছে চলবে।“
ত্রিবেণী লোকনাথ মন্দিরের পক্ষে সুব্রত মুখার্জি নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন- “লোকনাথ জগতে যিনি আসতে পেরেছেন সে বাবার টান ছাড়তে পারবে না। হয়তো তার নিজের বাধাবিপত্তি থাকলেও সেটা অতিক্রম করে আসাটাই হচ্ছে মূল কামনা। এই ঝন্টূবাবুর সঙ্গে যেদিন পরিচয় হয়েছিল সেদিন আমি বলেছিলাম আপনার মন্দিরে আমি অবশ্যই আসব। আজ এখানে আসতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। বিশেষ করে আমি যে অঞ্চল থেকে আসি আমাদের হুগলি নদীর যে তিন নদী যেখানে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী ত্রিবেণী সেখান থেকে আমি এসেছি। আমাদের ত্রিবেণী তীর্থক্ষেত্র। আর আমাদের বাবা লোকনাথ বিরাজ করবে সেখানেই তীর্থ ক্ষেত্র। আজ রাজবেড়িয়ায় আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি বিশেষ করে মধুদা এবং নবদার দাকে সমস্ত জায়গায় আমরা ছুটে বেড়াই লোকনাথ বাবার নামে। “











Published on: জুন ১১, ২০২৫ at ১০:০৩



