

Published on: মে ৭, ২০২৬ at ২৩:০৩
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৭ মে: থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর–কিশোরীদের জন্য আরও উন্নত, সহজলভ্য এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিল মণিপাল হসপিটালস। কলকাতার ্মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর প্রাঙ্গণে চালু হল বিশেষায়িত ‘থ্যালাসেমিয়া প্রিভিলেজ ক্লিনিক’ এবং ‘ডে কেয়ার ওয়ার্ড’। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সামগ্রিক ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই বিশেষ ক্লিনিকের নেতৃত্বে রয়েছেন ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো–অনকোলজি এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ রাজীব দে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের প্রধান ডাঃ সৌমেন মেউর, শিশু বিশেষজ্ঞ ও নিওনেটোলজিস্ট ডাঃ অতনু কুমার জানা, হাসপাতালের পরিচালক জয়ন্তী চ্যাটার্জি এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের ক্লাস্টার ডিরেক্টর কোমল দাশোরা।
নব–উদ্বোধিত ক্লিনিকটি মূলত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এখানে একই ছাদের নিচে রোগ নির্ণয়, বাহক শনাক্তকরণ পরীক্ষা, ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন, নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, প্রসবপূর্ব রোগ নির্ণয়, জিনগত পরামর্শ, মানসিক সহায়তা এবং বহু–বিভাগীয় চিকিৎসার মতো পরিষেবা মিলবে। পাশাপাশি রয়েছে বিশেষায়িত ডে কেয়ার ওয়ার্ড এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধাও।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগীদের জন্য চালু করা হবে ‘থ্যালাসেমিয়া প্রিভিলেজ কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সপ্তাহে একদিন অধ্যাপক ডাঃ রাজীব দে নিজেও ক্লিনিকে রোগী দেখবেন।
এই প্রসঙ্গে ডাঃ রাজীব দে বলেন, ভারতে থ্যালাসেমিয়া এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার শিশু ‘থ্যালাসেমিয়া মেজর’ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর–পূর্ব ভারতে বাহক হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, “আজীবন রক্ত সঞ্চালন ও আয়রন চিলেশন থেরাপিই এখন চিকিৎসার প্রধান উপায়। থ্যালাসেমিয়া নিরাময়ের একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হলো বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট।”
মণিপাল হসপিটালস (পূর্বাঞ্চল)-এর আঞ্চলিক অধিকর্তা ডাঃ অয়নভ দেবগুপ্ত জানান, পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা নয়, ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়া–মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক পরিকাঠামো, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগী সহায়তা পরিষেবাকে একত্রিত করে এই উদ্যোগ পূর্ব ভারতের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
Published on: মে ৭, ২০২৬ at ২৩:০৩



