
১৫ জুলাই থেকে কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি; ভারতীয় পণ্যের ৯৯% ও ব্রিটিশ পণ্যের ৯০%-এ শুল্ক ছাড় বা হ্রাস, দুই দেশের অর্থনীতিতে আসবে বড় পরিবর্তন
অনিরুদ্ধ পাল | সংবাদ প্রভাকর টাইমস
এসপিটি নিউজ : ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত UK–India Free Trade Agreement (FTA) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। আধুনিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালে ভারত-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ড। নতুন এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তারা এখন থেকে আরও কম খরচে, দ্রুত এবং সহজে একে অপরের দেশের বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মুম্বইয়ে ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষভাবে পাঠানো হয় নির্বাচিত কিছু ব্রিটিশ পণ্য। ব্রিটিশ সরকারের দক্ষিণ এশিয়ার ট্রেড কমিশনার ও পশ্চিম ভারতের ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার হারজিন্দর কাং এবং ভারতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের জেনারেল ম্যানেজার ডেভিড রাইট যৌথভাবে সেই বিশেষ প্যাকেজের উদ্বোধন করেন।
প্যাকেজে ছিল এমন সব ব্রিটিশ পণ্য, যেগুলি নতুন চুক্তির ফলে কম শুল্কের সুবিধা পাবে। এর মধ্যে ছিল প্রসাধনী, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং অ্যালকোহলজাত পানীয়।
হারজিন্দর কাং বলেন, “যুক্তরাজ্য ও ভারতের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই চুক্তির ফলে প্রথম দিন থেকেই ব্যবসা ও ভোক্তারা সস্তায়, দ্রুত এবং সহজে বাণিজ্যের সুবিধা পাবেন। এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত।”
অন্যদিকে ডেভিড রাইট বলেন, “ভারত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৬৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যা গ্রীষ্মের শেষে বেড়ে ৭০টিতে পৌঁছাবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।”
নতুন এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হওয়া ৯৯ শতাংশ পণ্য এবং যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে আসা ৯০ শতাংশ পণ্য হয় সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে, নয়তো উল্লেখযোগ্যভাবে শুল্ক হ্রাস পাবে।
এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবে অটোমোবাইল, উৎপাদন শিল্প, ভোগ্যপণ্য, সৃজনশীল শিল্প, চিকিৎসা প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্যও নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার উপলক্ষে ভারত ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে একাধিক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। নয়াদিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত হবে ব্যবসায়িক সংবর্ধনা ও বিশেষ অনুষ্ঠান, যেখানে দুই দেশের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ভারতের জিডিপি বছরে ৫.১ বিলিয়ন পাউন্ড এবং যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে। সহজতর বাণিজ্যিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক সফর বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের প্রসারের ফলে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




